ইরান বিক্ষোভ: মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে প্রতিবাদকারীরা দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে সংবাদ প্রচার যেভাবে হ্যাক করল

মুখোশ

ছবির উৎস, IRINN

ছবির ক্যাপশান, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারের মাঝখানে হঠাৎ চলে আসে এই মুখোশ
Published
পড়ার সময়: ২ মিনিট

ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টিভিতে শনিবারের লাইভ সংবাদ সম্প্রচার হ্যাক করেছে প্রতিবাদকারীরা। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ প্রচারে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে।

সংবাদ চলাকালে হঠাৎই টিভির পর্দায় ভেসে ওঠে একটি মুখোশ, এর পরপরই দেখা যায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির ছবি এবং তার চারপাশ ঘিরে আগুন জ্বলছে।

প্রতিবাদকারী হ্যাকাররা তাদের নাম দেয় "আদালত আলি" বা "আলির বিচার"।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অসন্তোষে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে তিনজনকে হত্যা করার পর টিভি বুলেটিনকে টার্গেট করে এই প্রতিবাদ দেখানো হল।

মাথার চুল ঠিকমত না ঢাকার অভিযোগ এনে ইরানের নৈতিকতা রক্ষাকারী পুলিশ মিজ আমিনিকে আটক করে। ২২ বছর বয়সী এই ইরানি কুর্দি গ্রেফতারের তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মারা যান ১৬ই সেপ্টেম্বর।

তার মৃত্যুর পর সারা ইরান জুড়ে নজিরবিহীন প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে।

আরও পড়তে পারেন:

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post

হ্যাকিং করা হয় যেভাবে

শনিবার স্থানীয় সময় রাত নটার খবর যখন চলছিল, তখন হঠাৎই খবর প্রচারে বিঘ্ন ঘটানো হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছবিতে তার মাথা লক্ষ্যবস্তু করে গুলির নিশানা দেখানো হয়, সেইসঙ্গে দেখানো হয় মাহসা আমিনি ও সাম্প্রতিক প্রতিবাদে নিহত আরও তিনজন নারীর ছবি।

একটি ক্যাপশান ছিল এরকম- "আমাদের সাথে যোগ দিন, মাথা তুলে দাঁড়ান"; আরেকটি ক্যাপশানে লেখা হয় "আপনার থাবা থেকে আমাদের তরুণদের রক্ত ঝরছে"।

এই বিঘ্ন স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তারপরই তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

আয়াতোল্লা আলি খামেনির বিরুদ্ধে এধরনের বিদ্রোহ ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন। কারণ ইরানের ভেতর তিনিই প্রায় সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। কিন্তু মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর তার বিরোধিতা ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

মাশা আমিনি

ছবির উৎস, মাশা আমিনির পরিবার

ছবির ক্যাপশান, বিশেষ পুলিশ বাহিনীর আটক কেন্দ্রে অজ্ঞান হয়ে যাবার তিন দিন পর মাশা আমিনি মারা যান ১৬ই সেপ্টেম্বর। তার পর থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের বিভিন্ন শহরে

মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

টিভি অনুষ্ঠান হ্যাক করা ছাড়াও গতকাল শনিবার সামাজিক মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসির এক সফরের সময় তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে "দূর হন" বলে স্লোগান দিতে।

শনিবার সকালের দিকে সানান্দাজে দুজনকে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে এক ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে তার গাড়ির হর্ন বাজানোর পর তাকে গাড়ির মধ্যেই গুলি করা হয়।

অনলাইনে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে আরও দেখা যায় মাশহাদে এক নারীকে গলায় গুলি করা হয়েছে এবং ঐ নারী মাটিতে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন।

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ইরনার দেয়া খবরে বলা হয়, সানান্দাজে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন "বিপ্লবীদের বিরোধী পক্ষের" পাল্টা হামলায় এক ব্যক্তি সেখানে নিহত হয়েছে।

শুক্রবার, ইরানের ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশন বলেছে মাহসা আমিনি মারা গেছেন সেরিব্রাল হাইপক্সিয়া থেকে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাবার কারণে। তাদের রিপোর্ট বলছে মাথায় আঘাত থেকে মিজ আমিনির মৃত্যু হয়নি, যে দাবি করছিল মিজ আমিনির পরিবার এবং প্রতিবাদকারীরা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে ১৭ই সেপ্টেম্বর ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিতে বিক্ষোভ শুরু হবার পর থেকে দেড়শ'র বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে।

ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে দোকান বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানের বাজার এলাকা, যেখানে একটি পুলিশ চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে পিছু ধাওয়া করে হঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রতিবাদের ঢেউ তেহরানের বাজার পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়াটা ইরানী নেতাদের জন্য একটা সতর্ক সংকেত ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তাদের প্রতি সেখানকার ব্যবসায়ীদের বড় সমর্থন তাদের জন্য একটা বিরাট পুঁজি।