পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে কীভাবে চলছে ট্রাইবুনালের কাজ?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য মানুষ ফর্ম দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছেন

ছবির উৎস, Asian News International

ছবির ক্যাপশান, ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আবেদন গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিলিটেড ভোটারদের' অনিশ্চয়তা কাটছে না (প্রতীকী ছবি)
    • Author, ময়ূরী সোম
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

মুর্শিদাবাদের মহঃ মোসলেউদ্দীন সুভানির পরিবারে ছয় ভাইবোন। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তাদের কেউই ভোট দিতে পারেননি। কারণ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময়ে একজন পিতার ছয় সন্তান থাকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান ছয় ভাইবোনই।

'আমাদের যখন শুনানি হয়েছিল, তখন আমরা সব প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও আমাদের সকলের নাম বাদ গেছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এই প্রথমবার ভোট দিতে পারিনি।'

মি. সুভানির মতো প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ বিচারব্যবস্থার বিবেচনায় ভোট দেওয়ার অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগে তাদের নাম বাদ পড়ে যায় ভোটার তালিকা থেকে।

ফলে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেতে তাদের অনেককেই এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের জন্য।

ভোটাধিকার সংক্রান্ত আপত্তি ও অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে গড়া হয় ১৯টি 'অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল'।

প্রতিটির দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদন বিবেচনা করে তাদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এই ট্রাইবুনালগুলির।

মার্চ মাসে এই ট্রাইবুনালগুলি গঠন করা হলেও, তাদের কাজ হতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

কিন্তু মি. সুভানির মতো লক্ষ লক্ষ 'ডিলিটেড ভোটাররা' এখনও ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনিশ্চয়তা কাটছে না।

"দিনে দিনে আমাদের চিন্তাও বাড়ছে। কোথাও শুনছি, ডিলিটেড ভোটারদের রেশন পেতে সমস্যা হচ্ছে। আবার মহিলাদের মধ্যে কেউ ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। যে গতিতে ট্রাইবুনালে মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের মনে খুব উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন ট্রাইবুনালের হাতে।"

ভোটাররা তাদের সচিত্র পরিচয়পত্র তুলে ধরছেন - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Asian News International

ছবির ক্যাপশান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ - ফাইল ছবি

কতদূর এগিয়েছে ট্রাইবুনালের মামলা নিষ্পত্তির কাজ?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ভারতের শীর্ষ আদালতে ১৬ই সেপ্টেম্বরে জমা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের একটি হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাইবুনালগুলিতে মোট জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩২ হাজার।

এর মধ্যে ডিলিটেড ভোটারদের আবেদন রয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ ২২ হাজার। প্রায় ১৬ লক্ষ ১১ হাজার ভোটারের নাম বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদনও এসেছে।

এখনও পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষ ২৬ হাজার ভোটাধিকার সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে হলফনামায়, অর্থাৎ, মোট জমা পড়া আবেদনের মাত্র ৩.২৯ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, ডিলিটেড আবেদনকারীদের ৯২.৯৮ শতাংশই ট্রাইবুনালে বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

বর্তমানে ট্রাইবুনালগুলির সামনে বিবেচনাধীন আবেদনের সংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৫ হাজারেরও বেশি।

অর্থাৎ, বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর প্রক্রিয়াটি যে সময়সাপেক্ষ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ থেকেই সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ট্রাইবুনালে। কিন্তু সেই তুলনায় আবেদনের নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম।

এপ্রিল মাসে ট্রাইবুনালগুলির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫৯৫টি। পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৫২২ জনের, খারিজ হয়েছে ৭৩টি আবেদন।

অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ থেকে জমা পড়া প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ০.০৮ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে গত প্রায় পাঁচ মাসে।

আপিল ট্রাইবুনালগুলিতে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ মানুষ আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না। একই সঙ্গে, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদনও আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে একটি ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানম ট্রাইবুনালের শীর্ষকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দেন। 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া' সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ২২ দিনে মোট ১,৭৭৭টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, "আমি ২২ দিন রোজ ট্রাইবুনালের কাজ করেছি। সকাল ৮.৩০ থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এতগুলো আপিল নিষ্পত্তি করেছি। রোববার একা এই কাজ করেছি।"

তবে তার মতে, বর্তমানে যে গতিতে ভোটাধিকার সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে, সেই গতিতে চললে লক্ষ লক্ষ আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত দিতে একজন বিচারকের অনেক বছর লেগে যাবে।

পদত্যাগ করার পর সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি সমস্যা আছে; বিচারকরা যেখানে দীর্ঘ অর্ডার দিতে অভ্যস্ত, এখানে এই ক্ষেত্রে শব্দসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা প্রযুক্তি ব্যবহারে খুব একটা দক্ষ নন, তাই লগ-ইন বা অনলাইনে অর্ডার আপলোড করার ক্ষেত্রে তারা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নথি জমা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Asian News International

ছবির ক্যাপশান, ট্রাইবুনালে বিপুল সংখ্যক ভোটারদের আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে - ফাইল ছবি

কীরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আবেদনকারী 'ডিলিটেড' ভোটারদের?

এই পরিস্থিতিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন 'ডিলিটেড' ভোটাররা। কয়েক মাস আগে মহিবুল্লা মণ্ডল নামক একজন ব্যক্তি ভারতের শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর ভোটাধিকার হারানোর কারণে যেন রেশন পাওয়ার সরকারি সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত না করা হয়।

ভারতে রেশন ব্যবস্থা হলো স্বল্প আয়ের পরিবারগুলির জন্য ভর্তুকি দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের সরকারি ব্যবস্থা।

মি. মণ্ডলের অভিযোগ, জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের একটি অর্ডারে 'ডিলিটেড' ভোটারদের রেশন সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, দুই মাসের মধ্যে ট্রাইবুনালে যেন তার ভোটাধিকারের মামলাটির নিষ্পত্তি হয়।

ট্রাইবুনালে ডিলিটেড ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তি হতে দেরি হওয়ার কারণে কীরকম সমস্যা তৈরী হচ্ছে, তার উদাহরণ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী আসিফ রেজা আনসারী। তিনি বলছেন, বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে অনেক ক্ষেত্রে বাদ যাওয়া ভোটারদের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি তার এক মক্কেলের কথা তুলে ধরেন।

"সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি ছেলে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাক্তারিতে ভর্তি হতে গেলে একটি ফর্ম ভরতে হয়, যেখানে উল্লেখ করতে হয় তার স্থায়ী বাসস্থানের ঠিকানা। কিন্তু তার বাবা ছিলেন একজন ডিলিটেড ভোটার। সেই কারণে স্থানীয় প্রশাসনের কেউ এই ছেলেটিকে ফর্মটি দিতে চাইছিল না।"

তিনি জানান, কলকাতা হাই কোর্টে তাদের একটি জরুরি আবেদন করতে হয়, যাতে ট্রাইবুনালে ওই ছেলেটির বাবার শুনানি ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, দুই সপ্তাহের মধ্যে তার শুনানি করে আবেদনটির নিষ্পত্তি করতে হবে।

"হাই কোর্টের আদেশের কয়েকদিনের মধ্যেই ট্রাইবুনালে ছেলেটির বাবার জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। আমি সেই কারণে ট্রাইবুনালকে ধন্যবাদ জানাব। অনেকেই ট্রাইবুনালে আপিল করার পর বিভিন্ন কারণে আইনজীবীদের মাধ্যমে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন, যাতে তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।"

মি. আনসারীর মতে, ট্রাইবুনালে একটি আবেদন নিষ্পত্তি করতে এতটা সময় লাগার পিছনে যথাযথ কারণ রয়েছে। তার বক্তব্য, প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই এবং সিদ্ধান্ত লেখার মতো একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

তিনি বলছেন, "ট্রাইবুনালের দায়িত্বে যে বিচারক রয়েছেন, তিনি প্রত্যেক ব্যক্তির সব নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করছেন। তাকে দেখতে হচ্ছে, সব নথির মধ্যে মিল আছে কি না, ব্যক্তির নাম সব জায়গায় ঠিক আছে কি না। তারপর সেই নথির ভিত্তিতে ওই ব্যক্তি যোগ্য ভোটার কি না, তা বিবেচনা করে বিচারককে তার সিদ্ধান্ত একটি অর্ডার শিটে লিখতে হচ্ছে। সেটিতে সই করে, সিল করে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোডও করতে হচ্ছে।"

"এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে একটি নির্দিষ্ট সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। বেলা ১১টার সময়ে যদি ট্রাইবুনাল শুরু হয় এবং চারটে পর্যন্ত কাজ চলে, তার মধ্যে একাধিক শুনানি, লাঞ্চ ব্রেক ইত্যাদি মিলিয়ে একজন বিচারকের পক্ষে একদিনে একটি ট্রাইবুনালে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদনই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।"

রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদন আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে - প্রতীকী ছবি

ছবির উৎস, Subham Dutta

ছবির ক্যাপশান, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আবেদন আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে -প্রতীকী ছবি

কীভাবে এগোচ্ছে ট্রাইবুনালে ভোটারদের মামলা নিস্পত্তির কাজ?

ইতোমধ্যেই মি. আনসারীর কয়েকজন মক্কেল ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে হাজির হয়েছেন। তিনি বলছেন, এই মুহূর্তে ট্রাইবুনালে শুনানি সশরীরেও হচ্ছে, পাশাপাশি চলছে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমেও ।

"অনেকের ক্ষেত্রে সশরীরে হাজির হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তারা বাড়ি থেকে বা মহকুমা দফতর থেকে শুনানিতে হাজির হচ্ছেন। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনালে সশরীরে শুনানিতে অংশ নেওয়াটা বেশি কার্যকর। কারণ এতে একজন ব্যক্তি সরাসরি তার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেশ করতে পারেন, বিচারকের কাছে তার নিজের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন।"

মি. আনসারী বলছেন, অনলাইন শুনানির ক্ষেত্রে অনেক সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে অস্পষ্টতা থেকে যায় এবং আপিলকারী হয়তো নিজের পক্ষে ভালোভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না, বিশেষ করে যদি ইন্টারনেটের গতি বা কোয়ালিটি খারাপ হয়।

তিনি জানাচ্ছেন, "শুনানিতে আপনার নথি দেখা হচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না, তাতে কোন পার্থক্য বা অসঙ্গতি আছে কি না। আপনার আগের ভোটার কার্ডের সঙ্গে এখনকার মিল আছে কিনা সেগুলো দেখা হয়।"

নির্বাচন কমিশনের সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামায় বিবেচনাধীন আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কয়েকটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা যেতে পারে। এর ফলে, জমে থাকা আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে কমিশনের প্রস্তাব।

এ ছাড়া, কমিশন জানিয়েছে, ট্রাইবুনালের বিচারকদের শুনানি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য তৈরি সফটওয়্যারটি নির্দিষ্ট কোনও জায়গার উপর নির্ভরশীল নয়। ফলে, প্রয়োজন মনে করলে বিচারকরা নির্ধারিত ট্রাইবুনালের স্থানে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও, এমনকি নিজেদের বাসস্থান থেকেও শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন। যাতায়াতের সময় কমিয়ে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিতে সাহায্য হবে বলে আদালতের বিবেচনার জন্য জানিয়েছে কমিশন।

এই মুহূর্তে প্রত্যেকটি ট্রাইবুনালের কাজ চলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকা অঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি দফতরে।