মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ছবির উৎস, HRW
বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে বিএনপি সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা সেটি রক্ষা করতে পারেনি। বরং সম্প্রতি এমন তিনটি আইন পাস করা হয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আবারও পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
যে তিনটি আইন নিয়ে সংস্থাটি এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, সেগুলো হলো: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন- ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন- ২০২৬ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে দেওয়া 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন- ২০২৬'।
সংস্থাটি বলছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসেন নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার সুরক্ষায় বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা নতুন তিন আইন পাসের পর বাতিল হয়ে গেছে।
এর ফলে অতীতে ব্যাপকভাবে ঘটে যাওয়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঠেকানোর ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দু'টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে।
কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাগ্রহণের পর তারেক রহমানের সরকার সেই কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে এবং নতুন আইনে প্রতিষ্ঠানটির তদন্তের ক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে।

ছবির উৎস, PM PRESS WING
এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের জন্য দায়ী পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী 'র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন' (র্যাব) বিলুপ্ত করার দাবি করা হলেও 'কার্যত কেবল সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
এমনকি সাধারণ পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে যে ধরনের সুরক্ষামূলক নিয়ম প্রযোজ্য হয়, সেগুলো নতুন আইনে রাখা হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে এইচআরডব্লিউ ।
"নিরাপত্তা বাহিনীকে তদন্ত ও জবাবদিহিতার বাইরে রাখার নতুন সরকারের যে প্রচেষ্টা, সেটি থেকে এমনটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না যে, হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা অতীতের বিষয় হয়ে থাকবে," বিবৃতিতে বলেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলায়িন পিয়ারসন।
তিনি মনে করেন, অতীতে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে 'প্রকৃত সংস্কার ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রয়োজন'।








