আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বারবার কেন 'নিষেধাজ্ঞার' মুখে পাঞ্জাবে গুম-খুনের ঘটনা নিয়ে তৈরি সিনেমা 'সাতলুজ'?
"অমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি"–– 'সাতলুজ' ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরে পাঞ্জাবে খুন হয়ে যাওয়া মানবাধিকারকর্মী জসওয়ান্ত সিং খালড়ার ওই উক্তির মাধ্যমেই সামাজিক মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ছবিটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা পাঞ্জাবি অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
ভারতে খালিস্তানি আন্দোলনের সময়ে পুলিশি বর্বরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা গুম-খুনের তথ্য সামনে এনেছিলেন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ান্ত সিং খালড়া। এরপর তাকে অমৃতসর শহরের বাড়ি থেকে ১৯৯৫ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর অপহরণ করা হয় এবং তিনি আর কখনোই বাড়ি ফিরে আসেননি।
মি. খালড়ার জীবন ও কর্মকাণ্ডের উপর ভিত্তি করেই নির্মিত হয় 'সাতলুজ' ছবিটি।
বহু সমস্যা পার করে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম 'জি ফাইভে' মুক্তি পেয়েছিল গত তেসরা জুলাই। কিন্তু পাঁচই জুলাই দেখা যায় যে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ছবিটি।
সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে 'জি ফাইভ' জানিয়েছে, "সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সম্পর্কে সতর্ক হয়ে সাতলুজ ছবিটি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ভারতে দেখা যাবে না।"
"আমরা ছবিটি দর্শকদের কাছে ফেরত আনার জন্য সব আইনি পথ অবলম্বন করার প্রচেষ্টা করছি।"
তবে এই প্রথমবার নয়, এই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আগে বার বার বাধা পেয়েছে।
দমিয়ে রাখতে পারবে না: বললেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ
'জি ফাইভ' থেকে সিনেমাটি সরিয়ে ফেলার পর দিলজিৎ দোসাঞ্জ বলেন যে, যথেষ্ট হয়েছে, জসওয়ান্ত সিং খালড়ার কথা এভাবে দমিয়ে রাখা যায় না।
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে লাইভে আসেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, "সিনেমাটি মানুষেরই এবং মানুষ যেভাবে খুশি সেভাবেই এটি দেখতে পারেন।"
"ছবিটি সরিয়ে নেওয়ায় আমি অবাক হইনি, বরং এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল," এটা জানিয়ে তিনি বলেন, তার ধারণা ছিল সিনেমাটি সোমবার সরানো হবে, কিন্তু তা রোববার সন্ধ্যাতেই সরিয়ে ফেলা হয়।
তিনি আরও বলেন যে, তিনি চেয়েছিলেন সিনেমাটি যেন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়, কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি।
নিজের কাজকে (সীমিত সময়ের জন্য হলেও) হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে খুশি হওয়ার কথাও জানান দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
পাঁচই জুলাই, ছবিটি ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর 'জি ফাইভ' একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখে, "সাতলুজ হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু ছবিটি যা শুরু করেছে তা থামেনি।"
স্পষ্টতই, ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে ভারতের একাধিক অঞ্চলে দর্শকদের মধ্যে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে তার দিকেই নির্দেশ করছে কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য এই ছবিটির মুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।
এর নাম প্রথমে 'পাঞ্জাব ৯৫' রাখা হয়েছিল। কিন্তু একাধিক কারণে এই ছবির মুক্তি আটকে ছিল।
নির্মাণের ঘোষণা থেকে শুরু করে মুক্তি এবং তারপর দুই দিনের মধ্যে সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়া পর্যন্ত কী কী ঘটেছিল?
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
২০২২ সালে ঘোষণা ও পরিবারের সম্মতি
২০২২ সালের মার্চ মাসে জানান হয় যে, জসওয়ান্ত সিং খালড়াকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হবে; এটি পরিচালনা করবেন হানি ত্রেহান এবং এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
ফেসবুকে এক পোস্টে জসওয়ান্ত সিং খালড়ার স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালড়া লেখেন, "গত কয়েক বছর ধরে অনেক সংগঠনই জসওয়ান্ত সিং খালড়ার জীবন ও কর্মের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে খালড়া পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু আমরা সেসবের অংশ হতে চাইনি।"
"তবে অবশেষে, খালড়া পরিবার হানি ত্রেহানের টিমকে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে, যার সাথে দিলজিৎ দোসাঞ্জও যুক্ত রয়েছেন।"
এই ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন মুখ্য চরিত্রে কাজ করা অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তিনি ফেসবুকে শিখ ধর্মীয় স্লোগান 'ওয়াহেগুরু' লিখে জসওয়ান্ত সিং খালড়ার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেছিলেন।
বন্ধ হয় প্রিমিয়ার, ১২০টি দৃশ্য কাটার দাবি
ছবিটি তৈরি হয় ২০২৩ সালে। সে বছরেরই জুলাই মাসে ছবিটির প্রিমিয়ার হওয়ার কথা ছিল।
মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা দিলজিৎ দোসাঞ্জ জানিয়েছিলেন, কানাডায় টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে 'সাতলুজ'।
কিন্তু পরবর্তীতে ছবিটিকে প্রিমিয়ারের তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। যার কারণ নির্মাতারা কখনোই জানতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক।
চলচ্চিত্রটির প্রাথমিক নাম ছিল 'ঘল্লুঘারা', যার বাংলা অর্থ, 'গণহত্যা'। কিন্তু পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'পাঞ্জাব ৯৫' রাখা হলেও তা মুক্তি পায়নি। মি. খালড়ার পরিবার জানিয়েছিল যে, সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটি নিয়ে কিছু আপত্তি তুলেছিলো।
পাঞ্জাবের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের খোঁজ করতে গিয়ে জসওয়ান্ত সিং খালড়া নিজেই যে বছর নিখোঁজ হয়ে যান, সেই সালটার কথা মাথায় রেখেই প্রথমে ছবিটির নাম রাখা হয়েছিল 'পাঞ্জাব ৯৫'।
বিবিসির সাংবাদিক রাজবীর কৌর গিলের ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মি. খালড়ার পরিবারের দাবি উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছিলো যে সেন্সর বোর্ড তাদের চলচ্চিত্রটির নাম পরিবর্তন করতে বলেছিল।
সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে খালড়া পরিবার একথাও জানায়, ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) বা সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটির কিছু বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এতে ১২০টি দৃশ্য বা অংশ বাদ দেওয়ার দাবি করেছে।
জসওয়ান্ত সিং খালড়ার স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালড়া সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে জানান, সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটিতে আরও কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ছিল, জসওয়ান্ত সিং খালড়ার নাম ব্যবহার না করা; শিখ ধর্মগ্রন্থ 'গুরু গ্রন্থ সাহেবের' অংশ, যা 'গুরবাণী' বলে পরিচিত, তার উচ্চারণ বা পাঠ বাদ দেওয়া; পাঞ্জাবে ভুয়া পুলিশ এনকাউন্টার, দাবিদারহীন লাশের পরিসংখ্যান এবং যেসব স্থানে এসব ঘটনা ঘটেছিল সেই জায়গাগুলোর নাম বাদ দেওয়া।
সে সময় ওই পরিবারের সদস্যরা সেন্সর বোর্ডের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সঙ্গে একমত হননি। তাদের দাবি ছিল যে, চলচ্চিত্রটি যেভাবে তৈরি করা হয়েছে সেভাবেই যেন তা মুক্তি দেওয়া হয়।
ওই পোস্টে পরমজিৎ কৌর উল্লেখ করেছিলেন যে, "সিবিএফসি চলচ্চিত্রটিতে যেসব পরিবর্তনের কথা বলেছিল, তার বিষয়বস্তু মূলত বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সরকারি নথিপত্র থেকেই নেওয়া হয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন দ্বারা যাচাই করা তথ্যগুলোকে সেন্সর বোর্ডের মাধ্যমে ভারত সরকার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
২০২৫ সালেও আটকে যায় ছবির মুক্তি
'সাতলুজ' ছবিটি 'পাঞ্জাব '৯৫' নামে প্রথমে ২০২৫ সালের সাতই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এর মুক্তি স্থগিত করা হয়।
২০২৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি, দিলজিৎ দোসাঞ্জ মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালড়ার সিনেমাটির টিজার ইনস্টাগ্রামেও শেয়ার করেন।
সেই ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "পাঞ্জাব '৯৫ আন্তর্জাতিকভাবে ৭ই ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে। সম্পূর্ণ চলচ্চিত্রটি, কোনো কাটছাঁট ছাড়াই।"
এর মাত্র তিন দিন পরেই দিলজিৎ ইনস্টাগ্রামে ফের একটি স্টোরি শেয়ার করে জানান, "অমীমাংসিত পরিস্থিতির কারণে 'পাঞ্জাব '৯৫' ৭ই ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে না। এ কথা জানাতে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।"
পরবর্তীতে ইউটিউব থেকেও সিনেমাটির টিজার সরিয়ে ফেলা হয়।
কী বক্তব্য পরিচালক হানি ত্রেহানের?
২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিবিসি পাঞ্জাবির সহযোগী সাংবাদিক আরশদীপ কৌর আরশিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্রটির পরিচালক হানি ত্রেহান ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন।
"আমি জানি না কেন ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না, কারণ পুরো ছবিটিই আইনি নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।"
তার মতে, "প্রতিটি দৃশ্যের পেছনেই এমন সব প্রামাণ্য নথিপত্র রয়েছে যা উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া নয়। ছবিটি সেশনস কোর্ট, সিবিআই বিশেষ আদালত, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।"
সাতই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তির জন্য নির্ধারিত ছবিটি কেন স্থগিত করা হলো, এ প্রসঙ্গে হানি ত্রেহান বলেন, "সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, এমনকি দিলজিৎ 'পা-জির' (দিলজিৎ দোসাঞ্জ, পাঞ্জাবে 'পা-জি' একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্বোধন) একটি টিজারও তৈরি ছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ কী যে হলো, প্রযোজক কোথাও থেকে একটি ফোন পেলেন এবং বললেন যে আমরা এটা করতে পারব না।"
"অথচ আমি এটাও বুঝি না যে, আন্তর্জাতিকভাবে ছবি মুক্তি কেন আটকে গেল, আন্তর্জাতিক মুক্তির জন্য তো কোনো সার্টিফিকেটেরও প্রয়োজন হয় না।"
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে, অবশেষে তেসরা জুলাই ২০২৬-এ 'সাতলুজ' নামে ছবিটি মুক্তি পায়। সাতলুজ হলো পাঞ্জাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এই নদীটি বাংলায় পরিচিত শতদ্রু নামে।
ছবিটি মুক্তির পর এর পরিচালক হানি ত্রেহান তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লেখেন, "এই ছবিটিতে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি এবং এর মূল রূপের সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি।"
অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জও জানান যে, ছবিটি তার মূল রূপেই মুক্তি পেয়েছে।
জসওয়ান্ত সিং খালড়ার স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালড়াও এই চলচ্চিত্রটির মুক্তি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "বহু বছর ধরে রাজনৈতিক বাধা ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর… অবশেষে ওটিটি মাধ্যমের সাহায্যে দর্শকদের কাছে ছবিটি পৌঁছাচ্ছে জেনে আমি সন্তুষ্ট।"
তবে চলচ্চিত্রটি দুই দিন পরেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো কারণ জানানো হয়নি। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আবার মুক্তির কোনো তারিখও ঘোষণা হয়নি।
জসওয়ান্ত সিং খালড়া কে ছিলেন?
১৯৯৫ সালের ছয়ই সেপ্টেম্বর অমৃতসরের কবির পার্কের বাসস্থান থেকে জসওয়ান্ত সিং খালড়াকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে এবং এরপর তিনি আর কখনোই বাড়ি ফিরে আসেননি।
আদালতে সিবিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জসওয়ান্ত সিং খালড়া একজন মানবাধিকারকর্মী ছিলেন এবং পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সংগঠন শিরোমণি আকালি দলের মানবাধিকার শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাব খালিস্তানপন্থিদের কার্যকলাপের পাশাপাশি পুলিশি নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু এবং ভুয়া এনকাউন্টারের ঘটনার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
জসওয়ান্ত সিং খালড়া ১৯৮৪ সালের জুন থেকে ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অমৃতসর, মজিথা এবং তরন তারনের তিনটি শ্মশানে পাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি দাবি করেছিলেন যে, এই দাবিদারহীন মৃতদেহগুলো পুলিশের বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ বহন করে।
জসওয়ান্ত সিং খালড়ার এই দাবিটি এই তথ্যের মাধ্যমে আরও জোরালো হয় যে, এই মৃতদেহগুলোর অধিকাংশই পুলিশের দিক থেকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আদালতে পেশ করা তদন্তমূলক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জসওয়ান্ত সিং খালড়া পুলিশের ওই আইন বহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি এবং তাকে অপহরণের ষড়যন্ত্র করে। সেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ১৯৯৫ সালের ছয়ই সেপ্টেম্বর কবির পার্কের কাছে অবস্থিত তার বাসভবন থেকেই মি. খালড়াকে অপহরণ করেন।"
"বেআইনিভাবে আটকে রাখার পর তাকে হত্যা করা হয় এবং তার মৃতদেহ হরিকে এলাকার একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।"