যুক্তরাষ্ট্র: আলবাকার্কিতে চার মুসলিমকে হত্যার আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত নিজেও একজন মুসলমান

খুনের অভিযোগে আটক সন্দেহভাজন মুহাম্মদ সাইয়েদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে নেয়া ছবি।
ছবির ক্যাপশান, খুনের অভিযোগে আটক সন্দেহভাজন মুহাম্মদ সাইয়েদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে নেয়া ছবি।
Published

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যে পর পর চারজন মুসলমানকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ এক "প্রাথমিক সন্দেহভাজন"কে গ্রেপ্তার করেছে। এবং জানা যাচ্ছে অভিযুক্ত নিজেও একজন মুসলিম।

আলবাকার্কি শহরের পুলিশ বলছে, তারা ৫১-বছর বয়সী মুহাম্মদ সাইয়েদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে দু'ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তার বাড়ি থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর বাকি দুটি মৃত্যুর সাথে ঐ আফগানকে অভিযুক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

গত নয় মাস জুড়ে আলবাকার্কিতে এসব হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গত দু'সপ্তাহে।

পুলিশ প্রধান হ্যারল্ড মেডিনা মঙ্গলবার এই গ্রেফতারের ঘোষণা করে বলেন, এসব হত্যার ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটি গাড়ির সন্ধান করে তারা অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হন।

সম্পর্কিত খবর:

মো. আফজাল হোসেনকে অ্যামবুশ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, মো. আফজাল হোসেনকে অ্যামবুশ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মুহাম্মদ সাইয়েদ আফগানিস্তান থেকে কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে তিনজনই পাকিস্তানি অভিবাসী এবং তারা একই মসজিদে নামাজ পড়তেন।

কর্মকর্তারা বলেন, "কোনও সতর্কতা ছাড়াই" ভিকটিমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং গুলি করে হত্যা করা হয়।

মোহাম্মদ আহমাদি নামে চতুর্থ ব্যক্তি আফগানিস্তান থেকে এসেছিলেন। গত নভেম্বর মাসে তিনি নিহত হন।

আলবাকার্কি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডেপুটি কমান্ডার কাইল হার্টসক বলেন, পুলিশ সন্দেহভাজন গাড়ির একটি ছবি বিতরণ করার মাত্র দু'দিন পর জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

আলবাকার্কির পুলিশ প্রধান হ্যারল্ড মেডিনা।
ছবির ক্যাপশান, আলবাকার্কির পুলিশ প্রধান হ্যারল্ড মেডিনা।

তবে আটক ব্যক্তি নিজে একজন সুন্নি এবং তিনি ভিকটিমদের টার্গেট করেছিলেন কারণ তার মেয়ে একজন শিয়া মুসলিমকে বিয়ে করায় তিনি বিরক্ত ছিলেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চায়নি।

এসব হত্যার ঘটনা নিয়ে এতই শোরগোল উঠেছিল যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার বলেছিলেন, তিনি এসব "ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং দুঃখিত।"

"আমেরিকাতে এই ঘৃণ্য হামলার কোন স্থান নেই" বলে তিনি মন্তব্য করেন।