রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: 'মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সূত্রে ইউক্রেনে রুশ জেনারেল হত্যা'

ইউক্রেনে বিধ্বস্ত একটি রুশ ট্যাঙ্ক।
ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনে বিধ্বস্ত একটি রুশ ট্যাঙ্ক।
Published

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস খবর দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যেসব গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে তা বেশ ক'জন রুশ জেনারেলকে হত্যা করতে ইউক্রেনের বাহিনীকে সহায়তা করেছে।

মার্কিন সরকারের অজ্ঞাতপরিচয় কিছু সূত্র উল্লেখ করে সংবাদপত্রটি বলছে, রণক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং তাদের ভবিষ্যৎ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনের হাতে তুলে দিয়েছে।

অর্থাৎ, রুশ বাহিনী কোথায় অবস্থান করছে, কোন পথ দিয়ে চলাচল করছে এসব তথ্য ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

ইউক্রেনের এক হিসেব অনুযায়ী, তারা এই যুদ্ধে শীর্ষস্থানীয় ১২ জন রুশ জেনারেলকে হত্যা করেছে।

তবে এসব মৃত্যুর কতগুলো মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সুবাদে ঘটেছে সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।

আরো পড়তে পারেন:

আজভস্টাল কারখানা থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, আজভস্টাল কারখানা থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসের এই খবরকে 'বিভ্রান্তিকর' এবং 'দায়িত্বহীন' বলে উল্লেখ করেছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এড্রিয়েন ওয়াটসন বলেছেন, "তাদের দেশকে রক্ষার জন্য" ইউক্রেনকে এসব গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে এবং এর পেছনে "রুশ জেনারেলদের হত্যা করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না।"

"৬০০ ইউক্রেনীয় সৈন্য নিহত"

রাশিয়া বলছে যে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বেশ কয়েকটি অবস্থানের ওপর তারা রাতভর গোলাবর্ষণ করেছে।

তবে দক্ষিণের মারিউপোল শহরের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানায় আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক লোকজন যাতে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে পারে সেজন্য ওই কারখানা এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে যে তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ চালিয়ে ইউক্রেনের ৬০০ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে রাশিয়ার এই দাবি যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি।

মারিউপোল শহরে বিধ্বস্ত একটি ভবন।
ছবির ক্যাপশান, মারিউপোল শহরে বিধ্বস্ত একটি ভবন।

ইস্পাত কারখানায় হামলা

আজভস্টাল কারখানায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর কমান্ডার ডেনিস প্রকোপেঙ্কো বুধবার শেষ রাতে বলেছেন, "রুশ সৈন্যরা কারখানার কিছু জায়গায় ঢুকে পড়ার পর সেখানে ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী লড়াই" চলছে।

ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা বলছে রাশিয়া তাদেরকে 'ধ্বংস' করে দিতে চাইছে।

সংবাদদাতারা বলছেন, মারিউপোল শহরে রাশিয়া তিনদিনের জন্য যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সেটা এই কারখানা এলাকায় কার্যকর হবে কি না তা পরিষ্কার নয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই কারখানার ভেতরে প্রায় ২০০ বেসামরিক নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে।

ভিডিওর ক্যাপশান, মারিউপোলের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে দুমাস পর ১০০ মানুষকে বেরুতে দিয়েছে রাশিয়া
প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
ছবির ক্যাপশান, প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

ক্রেমলিনের অস্বীকার

তবে আজভস্টাল কারখানার ভেতরে রুশ সৈন্যদের ঢুকে পড়ার খবর অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন গত মাসেই কারখানার ভেতরে ঢুকে হামলা না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট পুতিন তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কারখানাটি এমনভাবে ঘিরে রাখতে যাতে সেখান থেকে "একটা মাছিও বের হয়ে যেতে না পারে।"

রুশ বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই কারখানাটি অবরোধ করে রেখেছে। এই কারখানাটিকে দেখা হচ্ছে ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের শেষ ঘাঁটি হিসেবে। একারণে এর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমা অস্ত্র ঠেকাতে অবকাঠামোর ওপর হামলা

মারিউপোল ছাড়াও আরো কিছু শহরের ওপর রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে।

পোলিশ সীমান্তের কাছে পশ্চিমের লাভিভ শহর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা সোফি উইলিয়ামস বলছেন, সেখানে বার বার হামলার সাইরেন বেজে ওঠছে।

তিনি বলছেন, যেসব অবকাঠামো ব্যবহার করে পশ্চিমা অস্ত্র ইউক্রেনে নিয়ে আসা হচ্ছে সেগুলো লক্ষ্য করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।

রাশিয়া বলছে, এসব অস্ত্রের সরবরাহ আটকাতে তারা রেল স্টেশন ও সেতু লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।

লাভিভ শহরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুন নেভানো হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, লাভিভ শহরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুন নেভানো হচ্ছে

গত এক সপ্তাহে এসব স্থাপনার ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার শহরের উপকণ্ঠে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আক্রমণ চালানো হয়।

রুশ বাহিনীর ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রো শহরের একটি সেতুর ওপর আঘাত হেনেছে। যানবাহন চলাচলের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পূবের ক্রামাটরস্ক শহরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

রাশিয়া দাবি করছে ,দক্ষিণের মিকোলাইভ শহরে অস্ত্রের বিশাল একটি গুদামে তারা হামলা চালিয়েছে।

রাজধানী কিয়েভ লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল তবে ইউক্রেনের প্রতিরোধী ব্যবস্থা সেটিকে ভূপাতিত করেছে।