রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন: খাবার, পানি ও আশ্রয় সংকট চরমে

অস্থায়ী ঘরের সামনে এক নারী
ছবির ক্যাপশান, অস্থায়ী ঘরের সামনে এক নারী
Published

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ায় আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাহায্য সংস্থাগুলোর সহায়তায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণ এবং খাবার, পানি ও স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

তবে কয়েকজন রোহিঙ্গা বলছেন ক্যাম্পে খাবার, পানি ও থাকার জায়গার সংকটে তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

সোমবারের ওই ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘর হারানোর তথ্য দিয়েছিলো জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।

ঘর বাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়া এসব শরণার্থীরা অনেকেই মঙ্গলবার রাত অতিবাহিত করেছেন আশেপাশের এলাকায়।

এমনি একজন শরণার্থী নূরজাহান বলছেন রাত কেটেছে তার খোলা আকাশের নীচে আর আজ সারাদিনে ঠিকমতো খাবারও জুটেনি তার।

"আগুনে সব পুড়ে গেছে। আগুনের জন্য কিছুই বের করে আনতে পারিনি, আমাদের গায়ের উপর আগুন এসে পড়ছিল। চুলা, হাঁড়িপাতিল, চাল ডাল, কাপড় চোপড়, সব শেষ, এখন আমাদের কিছুই নাই, সেই সকালে ভাত খেয়েছি আর খাইনি।"

এদিকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় কিংবা নিজ উদ্যোগে অনেকে নিজেদের থাকার জায়গা কাপড় বা বড় পলিথিন দিয়ে চারপাশ বেঁধে মোটামুটি থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

অনেকে সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন
ছবির ক্যাপশান, অনেকে সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন

আবার সোমবারের আগুনের ঘটনার পর যেসব পরিবার থেকে তাদের শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তেমন কিছু পরিবার তাদের শিশুদের ফেরত পেয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এসব বিষয়ে কোন তথ্য দেয়া হয়নি।

সালিমা নামে একজন শরণার্থী বলছেন তার বাচ্চাকে ফিরে পেয়েছেন তিনি কিন্তু এখন তার দরকার খাবার ও পানি।

"আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন, কোন উছিলায় আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছে। বাচ্চা দুটোকে খুঁজে পাইনি পরশু থেকে, গতকাল পেয়েছি তাদের। মিডিয়ার লোকজন বাচ্চাকে খুঁজে দিয়েছে, রাতে অনেক কষ্ট করে হাকিম পাড়া গিয়ে থেকেছিলাম। আমার এখন চুলার দরকার, পাতিলের দরকার, চাল দরকার, পানি খাওয়া দরকার। বাচ্চাদের জন্য কাপড় দরকার"।

সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দশ হাজার ঘর পুরে যাওয়ার তথ্য দেয়া হলেও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা যে চারশত মানুষের নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছিলো সে সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে কোন বক্তব্য এখনো আসেনি।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন আগুনে অনেকেই জীবন বাচাতে এদিক ওদিকে গিয়েছিলো এবং তাদের অনেকেই ফিরে এসেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হাসপাতালগুলোতে আজও চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিলো।

উপরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা ঘর
ছবির ক্যাপশান, উপরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা ঘর

গতকাল ও আজ ক্যাম্পে গিয়েছিলেন সংবাদকর্মী সালমান সাঈদ। তিনি বলছেন গতকালের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে বলে মনে হয়েছে তার কাছে।

"গতকাল যখন এসেছিলাম তখন রোহিঙ্গাদের সব পুড়ে গেছে। নি:স্ব অবস্থা। হাহাকার চলছিলো। এখন সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো খাবার দিতে শুরু করেছে। অনেকে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে আজ একটু ভালো মনে হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি পুন:নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করছেন কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

"পুনর্বাসন শুরু হয়েছে। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি দ্রব্যাদি দেয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। এগুলো চলমান থাকবে"।

ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা বলেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে নাশকতার কোন সম্পর্ক আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছেন পুরো ঘটনা তারা খতিয়ে দেখছেন।