মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তকে মা ও সন্তানদের দেখভাল করার শর্তে প্রবেশনে মুক্তি দিল হাইকোর্ট

মাদকের মামলায় হাইকোর্টে এ ধরণের রায় এটাই প্রথম বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
ছবির ক্যাপশান, মাদকের মামলায় হাইকোর্টে এ ধরণের রায় এটাই প্রথম বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
Published

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে বরং পরিবারের সাথে থেকে তাদের যত্ন করার মাধ্যমে সংশোধনের বিরল সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট।

মাদকের মামলায় হাইকোর্টে এ ধরণের রায় এটাই প্রথম বলে আইনজীবীরা জানাচ্ছেন।

রবিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ একটি মাদকের মামলায় এই রায় দিয়ে বেশ কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

শর্তের মধ্যে রয়েছে, কারাগারের বাইরে থাকার সময় সাজাপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে তার ৭৫ বছরের মায়ের যত্ন করতে হবে। সেই সঙ্গে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। আইনানুগ বয়স হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না।

এসব শর্তের লঙ্ঘন করা হলে তাকে কারাগারে যেতে হবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এনামুল হক মোল্লা বিবিসি বাংলাকে জানান, এর আগে ফৌজদারি মামলায় এ ধরণের একটি রায় দেয়া হলেও হাইকোর্টে মাদকের কোন মামলায় এ ধরণের প্রবেশনের রায়ের ঘটনা এটাই প্রথম।

এর সঙ্গে আরও শর্ত রয়েছে যে, তার আচরণ ভালো হতে হবে, অন্য কোন অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারবে না। এসব শর্তের লঙ্ঘন করলে তাকে পুনরায় কারাগারে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে।

আরো পড়তে পারেন:

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে বরং পরিবারের সাথে থেকে তাদের যত্ন করার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে হাইকোর্ট।
ছবির ক্যাপশান, মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে বরং পরিবারের সাথে থেকে তাদের যত্ন করার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিবিসি বাংলাকে বলছেন, প্রবেশন অধ্যাদেশ ১৯৬০ অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরে একজন প্রবেশন কর্মকর্তা এসব শর্ত পালনের বিষয় নজরদারি করবেন। এগুলো ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি আদালতে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন দেবেন।

''দেড় বছর যদি তিনি নিয়মিতভাবে এসব শর্ত পালন করে চলেন, তাহলে তার বাকি সাজা এবং জরিমানা মওকুফ হবে,'' তিনি জানান।

ইয়াবা রাখার অভিযোগে ৪২ বছরের মতি মাতবর নামের এই ব্যক্তিকে ২০১৫ সালের ২৩শে নভেম্বর গ্রেপ্তার করে ঢাকার কোতওয়ালি থানা পুলিশ। ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

এর আগে মাগুরায় নিম্ন আদালতে মাদক মামলার একটি রায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১০টি গাছ লাগানোর আদেশ দেন আদালত। কক্সবাজারে প্রতারণার অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে নামাজ পড়া এবং এতিমদের খাওয়ানোর আদেশ দেয়া হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: