দিল্লিতে দাঙ্গার মধ্যে একজন বিচারপতির বদলি নিয়ে শোরগোল

বিচারপতি এস মুরলীধর
ছবির ক্যাপশান, বিচারপতি এস মুরলীধর
Published

ভারতের রাজধানীতে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্যে দিল্লি হাই কোর্টের একজন বিচারপতির বদলি নিয়ে বিতর্ক-সন্দেহ দানা বাঁধছে।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর এবং আরেক বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ বুধবার দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তিনজন বিজেপি নেতার - কাপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রাভেশ ভার্মা - বিরুদ্ধে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের এক আবেদনের শুনানি শুরু করেন।

শুনানির সময় হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চ অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতির ভিডিও শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেন।

তার কয়েক ঘণ্টা পরেই সরকার তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নোটিশ ইস্যু করে।

বুধবারের ঐ শুনানির আগের দিন মধ্যরাতেও বিচারপতি মুরলীধর তার নিজের বাড়িতে আদালত বসিয়ে দাঙ্গা সম্পর্কিত এক অভিযোগের শুনানি করে আহতরা যাতে নিরাপদে হাসপাতালে যেতে পারে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেন।

ভারতের বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখা হচ্ছে, দাঙ্গা সম্পর্কিত ঐ সব শুনানির সময় বিচারপতি মুরলীধর পুলিশকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেন।

সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম থেকে অবশ্য এ মাসের ১২ তারিখ বিচারপতি মুরলীধর সহ তিনজন বিচারপতিকে বদলির সুপারিশ প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টুইট
ছবির ক্যাপশান, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টুইট

কিন্তু যে প্রেক্ষাপটে এখন তড়িঘড়ি করে প্রেসিডেন্ট সেই সুপারিশে অনুমোদন দিলেন এবং সাথে সাথেই সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বদলির নির্দেশ জারি করা হলো - তা নিয়ে বড় ধরণের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিরোধী দল কংগ্রেস বিচারপতি মুরলীধরের বদলির পেছনে সরকারের রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে।

কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করেছেন - সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় যেভাবে হস্তক্ষেপ করছে তা দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক।

কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি বলেন, দিল্লিতে মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে গভীর রাতে তার বাড়িতে যে বিচারক শুনানি করেছেন তাকে রাতারাতি বদলি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোধগম্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক সাংভি টুইটারে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন - আমার সারা জীবনের আইন পেশায় এমন ঘটনা দেখিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক মানুষ বিচারপতি মুরলীধরের এই বদলি নিয়ে কথা বলছেন।

রুচিরা চতুর্বেদী নামে একজন টুইটারে লিখেছেন - যারা সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে, সরকার তাদের রক্ষার চেষ্টা করছে। 'মহারাজ নাঙ্গা হয়ে পড়েছেন।'

ভারতের আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, বিচারপতি মুরলীধরের বদলি একটি 'রুটিন কাজ।, এবং সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশেই তা করা হয়েছে।

বিজেপি নেতা কাপিল মিশ্রকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কলকাতায় তিন যুবক
ছবির ক্যাপশান, বিজেপি নেতা কাপিল মিশ্রকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কলকাতায় তিন যুবক

কে এই বিচারপতি মুরলীধর

বিচারপতি মুরলীধর ১৯৮৪ সারে চেন্নাইতে আইন পেশা শুরু করেন, এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে চলে আসেন।

আইনজীবী হিসাবে তিনি জনস্বার্থ বিষয়ক অনেকগুলো বড় বড় মামলা লড়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে ভোপালে গ্যাস নিঃসরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের মামলা এবং বিতর্কিত নর্মদা বাঁধ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ মামলা।

দিল্লি হাইকোর্টে আইনজীবীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন বিচারপতি মুরলীধর।

গত সপ্তাহের দিল্লি হাইকোর্ট বার সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বদলির সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের কাছে আর্জি করা হয়।