সংসদ নির্বাচন: ভোট গ্রহণ পেছানোর জন্য ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে আলোচনা করবে কমিশন

সংলাপে উপস্থিত জাতীয় ঐক্যফন্টের নেতারা।

ছবির উৎস, PMO

ছবির ক্যাপশান, গণভবনে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফন্টের নেতারা (ফাইল ছবি)
Published

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারো পেছানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে ঐক্যফ্রন্ট বৈঠক করার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এ বিষয়ে আরো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমেদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকীসহ কয়েকজন নেতা অংশগ্রহণ করেন আলোচনায়।

নির্বাচন অন্তত তিন সপ্তাহ পেছানো সহ আরো কিছু দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা।

কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান নির্বাচন পেছানো বাদেও বেশ কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের সাথে আলোচনা হয়েছে তাদের।

নির্বাচনে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের পুরোপুরি বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল ঐক্যফ্রন্টের।

তবে নির্বাচন কমিশন সিটি কর্পোরেশনগুলোতে সীমিত সংখ্যক ইভিএম ব্যবহার করার বিষয়ে চিন্তা করছে বলে জানান মি. আলমগীর।

নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে নিয়োগ পাওয়া প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ঐক্যফ্রন্ট।

মি. আলমগীর জানান যে পোলিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরপেক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা দেখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যেন উপস্থিত থাকেন সেই দাবি জানানো হয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

মি. আলমগীর বলেন পর্যবেক্ষকদের আনাগোনায় বাধাদান করা হবে না বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

এছাড়া বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি যেন বন্ধ করা হয় সেবিষয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বৈঠকে।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে অনুরোধ করা হয়, নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিকদের যেন বাধাদান করা না হয়।

নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের খবর সংগ্রহে কোনোরকম বাধাদান করবে না বলে নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন মি. আলমগীর।

তবে কোনো নির্বাচনী কেন্দ্রের অভ্যন্তর থেকে সরাসরি খবর সম্প্রচার করা যাবে না বলে জানান তিনি।

মি. আলমগীর বলেন, "আমাদের এই নির্বাচনে টিকে থাকা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের আচরণের ওপর এবং তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, তার উপর।"

আরো পড়ুন: