দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে
দিল্লির আলোচিত বিক্ষোভ স্থল যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি-র) দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় আটককৃত দলের অপর সদস্য অজিঙ্ক্যা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদ স্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের অনুমতি বাতিল করার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ গত মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ এই তিনজনের বিরুদ্ধে একটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের করে।
সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ রাত ৩:৪৬ নাগাদ এক বার্তায় জানান, আশুতোষ, সৌরভ ও অজিংক্যকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গ্রেফতার করে রাখা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বন্ডের নিয়ম লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার অভিযোগ, "গভীর রাত পর্যন্ত আটক নেতাদের সঙ্গে তাদের আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। শেষমেশ রাত তিনটের সময় একটি বেসরকারি ভ্যানে করে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে আসা হয়।"
অজিঙ্ক্যা শিন্ডে আজ সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যন্তর মন্তরের দিকে গিয়ে, ভারতের পতাকা উড়িয়েছিলাম আর ‘ভারত মাতার জয়’ বলেছিলাম। তার জন্য মোদী-শাহের এই স্বৈরাচারী সরকার সৌরভ আর আশুতোষকে ৫ দিনের জন্য জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটবে।”
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ‘এক্স’-এ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, "নরেন্দ্র মোদীর জমানায় আজ দেশের জাতীয় পতাকা উড়ানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে! আমি নরেন্দ্র মোদীকে বলতে চাই, যদি দম থাকে তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। পুলিশের পেছনে কাপুরুষের মতো লুকিয়ে থাকা বন্ধ করুন। খোলাখুলি জরুরি অবস্থা জারি করে দেশবাসীকে জানিয়ে দিন যে, ভারতে কোনো প্রতিবাদ বা ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার আর অবশিষ্ট নেই।"
সিজেপি নেতাদের এই গ্রেফতারির ঘটনায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সহ একাধিক বিরোধী নেতা এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ‘এক্স’-এ লেখেন, "জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা উড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়।"
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই গ্রেফতারির কড়া সমালোচনা করে বলেন, "আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিতে হবে। এটি একটি পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের কখনোই আমাদের সাংবিধানিক অধিকার বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।"