আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকরা কী ধরনের অভিযোগ করছেন?
- Author, জান্নাতুল তানভী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
রাত সাড়ে এগারোটায় হঠাৎ বিদ্যুত চলে যাওয়ার পর প্রি-পেইড মিটার চেক করে আবার রিচার্জ করতে গিয়ে তা লক হয়ে গেলে বিপাকে পড়েন রংপুরের বাসিন্দা গাউসুল আজম কায়েস।
তিনি বলছিলেন, তাকে এখন মিটারের লক খোলার জন্য বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হবে।
"রাত তখন সাড়ে এগারোটা, বিদ্যুৎ চলে গেছে। তাড়াহুরো করে আমি রিচার্জ করতে গেলাম। ভুল ডিজিট দিয়েছিলাম, দেখি লক হয়ে গেছে। এখন তো আবার আমাকে অফিসে যেতে হবে লক খোলার জন্যে। এটা তো কোনো কথাই হইতে পারে না, এখন কি রাতে অন্ধকারেই থাকবো?" বলেন মি. কায়েস।
পরে এই লক খোলার জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও বাড়তি টাকা গুনতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার সংযোগ নিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনার অভিযোগ ভুগছেন ভোক্তারা।
প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে গেলে সেটি ভাঙচুরের ঘটনা সম্প্রতি দেখা গেছে, আবার স্থাপন করা মিটারগুলো অপসারণের দাবিতে মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশও করতে দেখা যাচ্ছে।
এসব দাবিতে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং রংপুরে এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রমকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে এই কমিটি।
আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এই জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ। তিনি দাবি করেন, সরকার পোস্ট পেইড এবং প্রি-পেইড উভয় ব্যবস্থাতেই সমান খরচের কথা বললেও আদতে সেটি সঠিক নয়।
বরং গ্রাহককে প্রি-পেইড বিদ্যুতের মিটার ব্যবহারে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মি. নাগ বলেন, "আগে যারা পোস্ট পেইড মিটার ব্যবহার করতো তাদের মাসে যদি এক হাজার বা বারোশো টাকা বিল আসতো, এখন যারা প্রি-পেইড পদ্ধতিতে সেটা তিন হাজার সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো।"
যদিও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের এক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের প্রি-পেইড ও পোস্ট পেইড মিটারে সমান পরিমাণে বিল হবে।
পোস্ট-পেইড মিটারের বিল প্রতি ইউনিটের জন্য যে মূল্যে হিসাব করা হয়, সেই মূল্য তালিকা প্রি-পেইড মিটারের মেমোরিতে দেওয়া আছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, তাই দুই প্রকারের মিটারেই বিদ্যুৎ বিল সমান হবে। কম বা বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি বা নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমানও বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কাটার কোনো সুযোগ নেই।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ
কী ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ গ্রাহকদের
ডিমান্ড চার্জসহ অন্যান্য যেসব খরচের নামে প্রি-পেইড মিটারে টাকা কাটা হয় সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রংপুরের বাসিন্দা পলাশ কান্তি নাগ।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখন প্রি-পেইডে পাঁচশো টাকা রিচার্জ করলে প্রতি মাসে মিটার ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা, বাসা-বাড়ির দুই কিলোওয়াটের মিটারের ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা করে ৮৪ টাকা এবং প্রতিবার ভ্যাট বাবদ শতকরা পাঁচ টাকা কেটে নেওয়া হয়।
অর্থাৎ, একজন গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের একবার ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে এসব খরচ বাবদ ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে, ওই টাকা কাটার পর তার নিজের ব্যবহারের জন্য ৩৫০ বা ৩৪০ টাকার মতো মিটারে অবশিষ্ট থাকবে।
এই খরচই মূলত দেশব্যাপী গ্রাহকদের আপত্তির প্রধান কারণ বলে জানান তিনি।
আইনজীবী মি. নাগ বলছেন, যখন বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সেসময়ই উৎপাদন খরচ যুক্ত করে প্রতি ইউনিটের মূল্যটি নির্ধারণ করা হয়।
"তাহলে এই যে অতিরিক্ত টাকা, এই অতিরিক্ত টাকাটা গেল কোথায়? কারণ একটা বিদ্যুৎ যখন মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তখন কিন্তু এই যে প্রোডাকশন যে কস্ট সেই কস্ট যুক্ত করেই কিন্তু বিদ্যুতের মূল্যটা নির্ধারণ করা হয়। তাহলে প্রতি ইউনিটে গ্রাহককে আলাদা করে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এসব কেন দিতে হবে?" প্রশ্ন করেন আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ।
২০২৫ সালের চৌঠা জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি অফিস আদেশের কথা উল্লেখ করে আইনজীবী মি. নাগ জানান, যাদের মিটার নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা যারা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হবে।
তার দাবি, সরকারের সংস্থাগুলো বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা প্রতিপালন করছে না।
রংপুরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, "দেখা গেছে, তারা এই শহরের যে বাসা-বাড়ি বা বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অফিস আদালত, তারা কিন্তু সচল যে পোস্টপেইড মিটার, সেই পোস্টপেইড মিটারগুলো খুলে প্রিপেইড মিটার সেখানে স্থাপন করছে। তাহলে গভর্নমেন্ট তো এই মিটারটিকে ব্যান্ড করেনি, বাতিল করেনি। তাহলে একটা সচল মিটার তারা খুলছে।"
প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে রংপুর মশাল মিছিল করেছে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি।
বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ এর ৫৬ ধারার কথা উল্লেখ করে কমিটির সদস্য সচিব মি. নাগ বলেন, "কোনো গ্রাহকের বকেয়ার দায়ে যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হয় তাহলে তাকে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। তারপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে।"
"কিন্তু এখন এই প্রি-পেইড মিটার সিস্টেমে রিচার্জের টাকা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ধরেন, যদি আমার বাড়িতে অসুস্থ রোগী কিংবা পরীক্ষার্থী যার সামনে পরীক্ষা থাকে, আমার রিচার্জ করার সামর্থ্য নেই তখন কিন্তু অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকতে হবে। বাস্তবে হচ্ছেও তাই," বলেন তিনি।
একইসঙ্গে, নিম্ন আয়ের মানুষের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সারাদেশে গ্রাহকদের এমন অভিযোগও পাওয়া যায় যে, বিদ্যুতের ওভারলোডের কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যদিও সরকারি একটি ওয়েবসাইটে এই সমস্যা সম্পর্কে বলা হয়েছে, "ওভার লোডের কারণে মিটার বন্ধ হওয়ার আগে অ্যালার্ম দেবে এবং লোড কমানো না হলে মিটারটি কিছু সময় পর পর পাঁচবার ট্রিপ করবে। তারপরও যদি লোড কমানো না হয় তাহলে মিটারটি ৩০ মিনিটের জন্য অফ হয়ে যাবে।"
"৩০ মিনিট পর লোড কমানো না হলে মিটারটি পুনরায় আগের মতো অ্যালার্ম দেবে। এ ক্ষেত্রে লোড বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।"
এদিকে, রংপুরের স্থানীয় একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, কৃষিকাজে সেচের জন্য মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা বাকিতে সেচ পাম্পগুলো থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে, ফসল তুলে বিক্রি করে বকেয়া বিদ্যুতের সেই টাকা তারা পরিশোধ করে থাকেন।
এখনকার প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতিতে আর সেই সুযোগ থাকছে না এবং এতে কৃষকদের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করার পরেও অন্তত দেড় ঘণ্টা বিদ্যুত সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেন রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা খলিলুর রাব্বানী ভুঁইয়া।
তিনি জানান, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরে রিচার্জ করেন। কিন্তু এরপরেও ঘণ্টা দেড়েক পার হলেও সংযোগ না পাওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুত অফিস অর্থাৎ ডিপিডিসির কার্যালয়ে যান।
পরে সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে জানান, এই সমস্যায় তিনি একা নন আরো অনেকে পড়েছেন।
প্রি-পেইড মিটারে টাকা না থাকা অর্থাৎ নেগেটিভ বা বকেয়া দেখানোর কারণে এমন কয়েক হাজার মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বলে ডিপিডিসির কার্যালয় থেকে মি. ভুঁইয়াকে জানানো হয়। পরবর্তীতে দেড় ঘণ্টা পরে বিদ্যুত সংযোগ ঠিক হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া আদায় নিয়ে ভোক্তাদের প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা যৌক্তিক।
"মিটার ভাড়া বিতরণ চার্জের সঙ্গে সমন্বয় হতে হবে। মিটার আলাদাভাবে ভাড়া আদায় করার কোনো সুযোগ নাই। জনগণের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জের নামে বাড়তি অর্থ আদায় এটা এক ধরনের লুটপাটে পরিণত হয়েছে। ডিমান্ড চার্জের রিভিউ হওয়া দরকার," বলেন মি. আলম।
সরকারি কর্তৃপক্ষ যা বলছে
বাংলাদেশে প্রথম ২০০৫ সালের নভেম্বরে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সিলেটসহ কয়েকটি জেলায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়।
বর্তমানে সারাদেশে একযোগে সরকারের ছয়টি সংস্থা এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ করছে।
পিডিবি, আরইবি, নেসকো, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ করছে।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি বা নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, একপর্যায়ে সরকার পুরোপুরিভাবেই এই পোস্ট-পেইড মিটার বন্ধ বা বাতিল করে দেবে এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রথম দিকে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার ছিল না, এখন যেটি স্মার্ট হয়েছে।
"এখন এতে রিয়েল টাইম ডেটা, চার্জটা অনলাইনে করা যায়, আগে এই সুবিধাগুলো ছিল না। ওই ভেন্ডিং স্টেশন লাইনে যেয়ে করতে হইতো, এটার যাত্রা কিন্তু অনেক আগেই শুরু হয়েছে," বলেন মি. রহমান।
এদিকে, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মি. রহমান জানান, প্রি-পেইড মিটারে এ ধরনের কোনো সুযোগই নেই।
"আমরা এইটুক বলতে পারি, এটার কোনো সুযোগ নাই, এটা টোটালি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করা। প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড আমরা দুটা পাশাপাশি লিখে ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি যে আপনারা দেখেন কনজাম্পশনের কী ডিফারেন্স হয়," বলেন তিনি।
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. রহমান জানান, বুয়েটের শিক্ষক ও জ্বালানী সেক্টরের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি এই প্রি-পেইড মিটার নিয়ে অনুসন্ধানও করেছিল। সেই কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে।
"এটা একটা প্রোপাগান্ডা এবং এটা হয়তোবা অনেকের অজ্ঞতার জন্য, বা আমাদের ট্যারিফ বেড়ে গেছে একটা কারণ। ট্যারিফ বেড়ে গেছে সেজন্য বিল কিছুটা বেড়ে গেছে," বলেন নেসকোর এমডি মো. মশিউর রহমান।
একইসঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় 'সাপ্লাই চেইনে' সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মি. রহমানের দাবি, যেভাবে আগে টাকা রিচার্জ করে মোবাইল ফোনে কথোপকথন করতে হয়, মানুষ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টিতে "ইউজড টু হচ্ছে না"।
"এখানে টেকনিকেলি কোনো সমস্যা নাই," বলেন নেসকোর এমডি।
তার দাবি, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে 'প্রপাগান্ডা' ছড়ানোর পেছনে মিটার রিডারদেরও ভূমিকা রয়েছে।
"মিটার রিডাররা তাদের একটা আগে মনোপলি ছিল। এগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে, তারা মনে করতেছে আমরা কর্মহীন হয়ে যাবো বা কিছু, বিভিন্ন কারণ আছে। কিছুটা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে তারা," দাবি করেন মি. রহমান।
এর আগে, ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন বলেছিলেন, প্রি-পেইড মিটার নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলে পোস্ট-পেইড থেকে প্রি-পেইড মিটারে গেলে স্বচ্ছতা তৈরি হবে। এখানে প্রি-পেইড মিটারে বাড়তি কোনো টাকা কাটা হয় না, পোস্ট পেইডের মতো একই হারে ভ্যাট এবং ডিমান্ড চার্জ কাটা হয়।
এদিকে, এরইমধ্যে উত্তরাঞ্চলে ৭০ শতাংশ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে নেসকোর এমডি জানান, উত্তরাঞ্চলে নেসকো আগামী বছরের ৩০শে জুনের মধ্যে আরো তিন লাখের বেশি প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে।
তবে, শুধু আবাসিকেই নয়, বরং সরকারি অফিসের কার্যালয়গুলোতেও ইতোমধ্যে এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও কাজ চলছে।
"এটা সরকারি অফিসেও আমরা করছি, এটা গভর্নমেন্টেরই পলিসি। এটা (পোস্ট-পেইড) টোটাল ফেজিং আউট (বাতিল) হয়ে যাবে" বলেন মি. রহমান।