তেহরানে পাকিস্তান ও কাতারের জোর প্রচেষ্টা, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবির উৎস, Getty Images
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিবিসির নিউজ পার্টনার সিবিএস নিউজকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বিবিসি ফার্সি।
পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সূত্রের কথা উল্লেখ করে সিবিএস নিউজ এর খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যদিও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান যে 'সরকারি দায়িত্ব' পালনের কারণে তিনি শনিবার তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এর বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো তার নিউ জার্সিতে অবস্থিত নিজের গলফ রিসোর্টে কাটানোর কথা ছিল, কিন্তু এখন তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যাচ্ছেন।
আরও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য তাদের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। নতুন হামলার সম্ভাবনার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিদেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত অবস্থায় থাকা সেনাদের তালিকা হালনাগাদ করছেন।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কিছু সেনা প্রত্যাহারও করা হচ্ছে, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো যায় এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করা যায়।
এপ্রিলের শুরুতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একে অপরের ওপর আক্রমণ থেকে অনেকটাই বিরত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সময় তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, "ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।"

ছবির উৎস, Majid Saeedi/Getty Images
হাজার হাজার নাবিক পানি সংকটে, হামলার ভয়ে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরে ইরান নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজারো নাবিকের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
খবরটিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রায় ২ হাজার বিশ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন।
তাদের অনেকেই জাহাজ ছেড়ে যেতে পারছেন না, খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্কে রয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা নাবিকরা তাদের কঠিন জীবনযাপনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়ন পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গত মাসে নিজের আটকে থাকা জাহাজ থেকে ফোনে ভারতীয় নাবিক সালমান সিদ্দিক রয়টার্সকে বলেছেন, "এখানে আমরা শুধু রাত পার করার পরিকল্পনা করি এবং প্রার্থনা করি যেন কোনো হামলার লক্ষ্যবস্তু না হই"।
এই সপ্তাহে রয়টার্সের সাংবাদিকরা সৌদি আরব উপকূলের কাছে নোঙর করা জাহাজগুলোর দিকে একটি সরবরাহ নৌকায় করে যান।
তারা জানান, একটি তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের জাহাজের রেলিংয়ের পাশে জড়ো হয়ে হাত নাড়তে দেখা গেছে।
রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস ধরে এসব নাবিক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
তারা ছোট ছোট কক্ষ, যৌথ খাবারঘর এবং প্রখর রোদে উত্তপ্ত জাহাজের ডেকে অল্প কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সময় পার করছেন।

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images
কাতারি ডেলিগেশন তেহরানে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার তেহরানে অবস্থান করেছিল এবং তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, "এই সময়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক- উভয় পর্যায়ের অনেক দেশ যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তার চেষ্টা করছে।"
তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
তিনি জানিয়েছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে রয়টার্সের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।
কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব- এই তিন দেশের অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত করেছিলেন বলে সোমবার মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ছবির উৎস, IRNA
তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল শুক্রবার সন্ধ্যায় তেহরানে পৌঁছেছেন।
সেখানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দর মোমেনি। ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি বা ইরনা এ খবর দিয়েছে।
ইরনার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার থেকেই তেহরানে অবস্থান করছেন। তিনিও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে পাকিস্তান আর্মি জানায়, আসিম মুনিরের এই সফরের উদ্দেশ্য হলো 'ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে' আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।








