পত্রিকা: 'জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী যে কারণে ঢাকায়'

পত্রিকা
Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট

স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তির কারণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত আড়াই মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী পাঁচ বছরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারের পেনশন ব্যয় ৫১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, ঘটনাটি নজিরবিহীন। শুধু দেশে নয়, বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসেও এমন ঘটনা বিরল। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী অন্য দেশে সফরে গেলে সাধারণত সেই দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তার সফরের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে এর ব্যতিক্রম ঘটছে।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না। ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, জাপানের জন্য স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তির কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সফরসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কাজ থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে যুক্ত হওয়া একটি অনুচ্ছেদকে ঘিরে জাপানের আপত্তির কথা উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ওই অনুচ্ছেদের বক্তব্য নিজেদের জন্য স্পর্শকাতর মনে করে টোকিও।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, জাপান দাউদ আলীকে চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করে। গত জুনে চীন-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ফ্যাসিবাদী ও সামরিকতাবাদী পুনরুত্থানের বিরোধিতা নিয়ে যে সংবেদনশীল অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছিল, তা প্রণয়নে দাউদ আলীর ভূমিকা ছিল বলে মনে করে জাপান।

সূত্র বলছে, এ নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তির প্রভাবেই প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মানবজমিন
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

খবরে বলা হচ্ছে, বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

কোথাও অনলাইন ব্যাংকিং, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি অন্তত ১০টি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রেখেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সাইবার হামলা, তথ্য চুরি বা আর্থিক ক্ষতির তথ্য না মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর জরুরি নিরাপত্তা অডিট, নিয়মিত পেনিট্রেশন টেস্ট এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে নিজস্ব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের আরো কয়েকটি ব্যাংকও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়াতে এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকি কেটে গেলে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই শেষ হলে ওয়েবসাইটগুলো আবার চালু করা হবে।

বণিক বার্তা

'ঢাকায় দিনে ভাঙছে ৪৪ সংসার' কালের কণ্ঠের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীতে একই ছাদের নিচে থেকেও পরস্পর দূরে সরে যাচ্ছেন হাজারও দম্পতি। নগরের সংসার ভাঙার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ভাঙছে ৪৪টি সংসার। অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় দুটি করে বিচ্ছেদ ঘটছে।

বিচ্ছেদের এই চিত্রে নারীদের পক্ষ থেকে আবেদনের সংখ্যাও অনেক বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সাত হাজার ৫১৪টি এবং জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় দুই হাজার ৮৫১টি তালাক কার্যকর হয়েছে।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পারস্পরিক আস্থার সংকট, সন্দেহ-সংশয়, মাদকের নেশা—এসব ক্ষতিকর বিষয় প্রতিনিয়ত নগরের দাম্পত্যজীবনে ফাটল ধরাচ্ছে। আর্থিক টানাপড়েনও অনেক দাম্পত্যসংকটের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যার পরিণতি একটি সংসারের কয়েকটি জীবনকে ফেলে দিচ্ছে ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

বিবাহবিচ্ছেদে সবচেয়ে সংকটে পড়ে নির্দোষ সন্তানরা। কে দেখবে, কার কাছে থাকবে, কে দেবে সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা—এই টানাপড়েনে অনেক শিশু-কিশোরের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ সিটির চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় মাসে গড় হিসাব করলে দক্ষিণে তালাকের সংখ্যা বেশি। ৯ মাসের (সাত হাজার ৫১৪ তালাক) তথ্য মতে, প্রতিদিন ভাঙছে প্রায় ২৮টি সংসার। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় মাসে পাওয়া (দুই হাজার ৮৫১ তালাক) তথ্য মতে, প্রতিদিন ভাঙছে ১৬টি সংসার।

কালের কণ্ঠ

'জাহাজভাঙায় ছাড়, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও শ্রমিক' প্রথম আলোর শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের জন্য সর্বোচ্চ দূষণকারী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করাসহ কয়েকটি ধাপে অনুমোদন নিতে হয়।

তবে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এ শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জাহাজভাঙা শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, এ শিল্প লাল শ্রেণিতে থাকায় ইয়ার্ড স্থাপনের অনুমোদন পেতে ৯০ দিনের মতো সময় লাগে। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিক ও পরিবেশ দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁরা বলছেন, জাহাজভাঙা শিল্প উচ্চ ঝুঁকি ও দূষণকারী শিল্প।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এ শিল্পকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ এশিয়ার যেসব সৈকতে জাহাজ ভাঙা হয়, সেসব উপকূলের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মাটি, বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, গত ২৯শে সেপ্টেম্বর এ শিল্পকে লাল থেকে কমলায় নিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এ-সংক্রান্ত কমিটি। এর আগে আগস্ট মাসে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি, নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রথম আলো

খবরে বলা হচ্ছে, দেশে পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত আর তার পাশ ঘেঁষে থাকা ছোট ছোট পাহাড়। সেখানে ঘুরতে গিয়ে চার দিনের ব্যবধানে প্রাণ গেছে ১৫ জনের।

এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে রিসোর্টে অগ্নিকান্ডে এবং পাঁচজন সাগরে ডুবে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই রাঙামাটির সাজেকে ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়ার পর গোলাগুলির শব্দ শুনে ফিরতে হয়েছে প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে।

গত আড়াই মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাহাড়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে জিম্মি ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে।

এসব মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পর্যটকদের নিরাপত্তায় অবহেলা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার দায়ও রয়েছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার ঘাটতি, নজরদারির বাস্তবতা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নামের একটি রিসোর্টে ১৭ই অক্টোবর সকালে অগ্নিকাণ্ডে নারী শিশুসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কক্সবাজার জেলায় ২ হাজারের বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। টুপটুপ রিসোর্টের মতো কক্সবাজার শহর ও আশপাশ এলাকায় অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা ছয় শতাধিক। পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক স্থাপনায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

আজকের পত্রিকা

খবরে বলা হচ্ছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাজেকে আটকে পড়া দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেয়া হলেও অবরোধ অব্যাহত থাকায় রিসোর্ট-কটেজ, পর্যটকবাহী জিপ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যটক যাতায়াতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার বাঘাইহাট বাজার এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ ছিল অধিকাংশ দোকানপাট। খোলা কয়েকটি দোকানেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান জসিম জানান, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন পাহাড়ের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।

দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে আবারো অবরোধ শুরু করে সংগঠন দু'টি। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

 নয়াদিগন্ত

'বন্দিদের ৭৪% সৌদি আরবে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই' সমকালের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে কারাবন্দি থাকার পর ১৩ই অক্টোবর দেশে ফেরেন ময়মনসিংহের ভালুকার আলী হোসেন। বড় স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল শুক্রবার শোনালেন প্রবাসজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা।

আলী হোসেনের (২১) বাবা ইউনূস আলী পেশায় কৃষক। ধারদেনা করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবে যান আলী হোসেন। তবে কফিলের কাছ থেকে আট হাজার রিয়াল ধার নেওয়া ও মোটরসাইকেল চুরির মিথ্যা অভিযোগে জেদ্দার কারাগারে সাত মাস বন্দি থাকতে হয় তাঁকে।

আলী হোসেন বলেন, 'খাবার ডেলিভারিম্যানের কাজ করতাম। মাসে আড়াই হাজার রিয়াল দেওয়ার কথা ছিল। প্রথম দিকে কিছুদিন দেওয়া হয়। এর পর ৫০০ রিয়ালের বেশি দিত না। দেশে ফেরত আসার কথা জানালে মোটরসাইকেল চুরি ও টাকা ধার করার মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়।'

আলী হোসেন বলেন, 'পুলিশ গ্রেপ্তারের পর সৌদি দূতাবাসের কেউ খোঁজ নেয়নি। আমাকে কখনও আদালতেও তোলা হয়নি। বন্দিজীবনের সাত মাসে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে চারবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছি।'

তিনি বলেন, 'পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছি, দ্রুত মুক্তি পাব। এভাবে সাত মাস একটি রুমে কাটাতে হয়। কারাগারে গিয়ে রেজওয়ান নামে আরেক বাংলাদেশি ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি এখনও কারাগারে বন্দি আছেন।'

বিদেশের মাটিতে কারাভোগের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা সমকালকে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ থেকে আসা আলী হোসেনের মতো আরও কয়েকজন। দেশে ফিরে তারা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য সামনে আসার পর প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সমকাল

খবরে বলা হচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ দেশের অর্থনীতির জন্য একদিকে অগ্রগতির স্বীকৃতি, অন্যদিকে বড় পরীক্ষা। এতে রপ্তানিতে ৬৩৮ কোটি ডলারের ঝুঁকি রয়েছে।

এতদিন উন্নত ও উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির যে সুবিধা পাওয়া গেছে, উত্তরণের পর তার একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। কমতে পারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। চাপ পড়তে পারে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতে।

একই সঙ্গে ওষুধের মেধাস্বত্ব, রপ্তানি প্রণোদনা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার কিছু ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান সম্প্রতি এক সেমিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করেন। এই গবেষণার মূলভিত্তি হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান।

জানতে চাইলে মোস্তফা আবিদ খান যুগান্তরকে বলেন, এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হয়তো তিন বছর সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু এরপরও এটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন তিন বছর সময় পেলে তা ভালো ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে সংস্কার আনতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে।

যুগান্তর

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Govt pension spending to double to Tk 51,000cr in 5yrs' অর্থাৎ '৫ বছরে সরকারি পেনশন ব্যয় ৫১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে'।

খবরে বলা হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর আগামী পাঁচ বছরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারের পেনশন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত একটি অসহনীয় আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।

এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেনশনভোগীর সংখ্যা গড়ে বার্ষিক প্রায় ৪.৫ শতাংশ হারে বেড়েছে।

২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পেনশনের পেছনে ১২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা বছরে প্রায় ২৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার সমান।

নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে ৩৪,৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেনশনারের সংখ্যা ৯ দশমিক ১৬ লাখ হলেও, ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা ১০ দশমিক ৪৫ লাখে পৌঁছাবে। ফলে পেনশন বাবদ ব্যয় বেড়ে ৫০,৬৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।

দ্য ডেইলি স্টার

নিউ এইজের শিরোনাম 'Contractual jobs continue at top level, many in admin frustrated' অর্থাৎ 'শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা'

খবরে বলা হচ্ছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনপ্রশাসনকে মেধা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্ষমতায় আসার পর তারা সরকারি প্রশাসনে রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিতর্কিত ধারাটি অব্যাহত রেখেছে বলে মনে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আমলাতন্ত্রে রাজনীতিকীকরণের সুযোগ তৈরি করে এবং পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ৮৮ জন সচিবের মধ্যে ২৬ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সচিবদের ২৯ শতাংশেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ মোট নয়জন সিনিয়র সচিবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে চাকরি করা কর্মকর্তারা একপর্যায়ে বড় বড় সংস্থার প্রধান হতে চান। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে তা স্বভাবতই কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে।

নিউ এইজ