ইউক্রেনের নেটোর সদস্য হবার 'স্পষ্ট দিনক্ষণ' চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
Published

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নেটোর উদ্দেশ্যে কড়া মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, নেটো সামরিক জোটে যোগদানের জন্য তার দেশকে কখন আমন্ত্রণ জানানো হবে - সে বিষয়ে কোনরকম দিন তারিখ নির্ধারণ না করাটা ‘অযৌক্তিক’ বিলম্ব।

“ইউক্রেনকে কখন আমন্ত্রণ জানানো হবে, কখন ইউক্রেন জোটের সদস্য হবে এসবের কোন সময়সীমা নির্ধারণ না করাটা নজিরবিহীন এবং অযৌক্তিক, টুইটারে কড়া ভাষায় দেয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেছেন মি. জেলেনস্কি।

“কার্যত মনে হচ্ছে ইউক্রেনকে জোটে আমন্ত্রণ জানানো বা সদস্যপদ দেয়ার ব্যাপারে কোন প্রস্তুতিই নেই।”

নেটো ২০০৮ সালে বুখারেস্টের শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেনকে জোটের সদস্যপদ দেবার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু কখন ও কীভাবে সেটা হবে সে বিষয়ে নেটো কিছুই বলেনি।

“এখন ভিলনিয়াসে সম্মেলন শুরুর আগে আমরা এমন ইঙ্গিত পাচ্ছি যে ইউক্রেনের উপস্থিতি ছাড়াই তারা এব্যাপারে কিছু বয়ান নিয়ে আলোচনা করছে,” বলেন মি. জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে আরও বলেন যে, “এই বয়ান নেটোর সদস্য হবার আমন্ত্রণ নিয়ে, ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে নয়”।

“অনিশ্চয়তা একটা দুর্বলতার লক্ষণ। এবং শীর্ষ বৈঠকে আমি এবিষয়ে খোলাখুলি কথা বলব,” তিনি জানান।

লিথুয়ানিয়া ও নেটোর পতাকা
ছবির ক্যাপশান, নেটো জোটের নেতারা ভিলনিয়াসের শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সেনা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে

তবে মি. জেলেনস্কি এটাও জানেন যে যুদ্ধ চলাকালীন নেটো ইউক্রেনকে সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে না। কারণ সেটা করলে নেটো জোট রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিতে জড়িয়ে পড়বে। যেহেতু নেটো সনদের আর্টিকেল ফাইভে বিধান দেয়া আছে যে জোটের কোন সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেই দেশকে প্রতিরক্ষা দিতে সব সদস্য দেশকে এগিয়ে আসতে হবে।

লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে গুরুত্বপূর্ণ এক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে জড়ো হয়েছেন নেটো সামরিক জোটের নেতৃবৃন্দ। ধারণা করা হচ্ছে এই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং পশ্চিমা এই জোটের ভবিষ্যত রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

জোটের ৩১টি সদস্য দেশ আশা করছে রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সহায়তা দিতে তারা যে রাজি - সেটা তারা রাশিয়াকে বোঝাতে পারবে।

শীর্ষ বৈঠকের আগে নেটো জোটে সুইডেনের যোগদানের ব্যাপারে তুরস্ক তাদের আপত্তি তুলে নেয়াটাকে জোট ইতিবাচক একটা অগ্রগতি হিসাবে দেখছে।

কিন্তু ভবিষ্যত সদস্য হিসাবে ইউক্রেনের নিজস্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে জোটের কিছু সদস্য দেশ রাশিয়ার দিক থেকে ভবিষ্যত আক্রমণ ঠেকাতে কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেবে। তারা আরও অস্ত্র এবং গোলাবারুদ দেবার বিষয়টি নিয়েও কথাবার্তা বলবে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ
ছবির ক্যাপশান, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করায় আগ্রহী নেটোভুক্ত দেশগুলো
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তবে সদস্যপদ প্রশ্নে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চান যে যুদ্ধ শেষ হবার পর দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব নেটো যেন ইউক্রেনকে জোটে যোগ দিতে দেয়। কবে এবং কীভাবে সেটা করা হবে তার স্পষ্ট পরিকল্পনা যেন তৈরি করা হয়।

তবে অনেক সদস্য দেশ এতটা এগোতে নারাজ- বিশেষ করে আমেরিকা আর জার্মানি। তাদের ভয় ইউক্রেনকে সদস্য করার জন্য এতটা নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি এখনই দিলে রাশিয়া যুদ্ধ আরও তীব্র ও দীর্ঘায়িত করার অজুহাত পাবে।

নেটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন চূড়ান্ত ইশতেহারের ভাষা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে তিনি বলেছেন: “ইউক্রেন নিয়ে আমরা জোরালো একটা বার্তা দিতে পারব এবং আমরা যে একমত হব সে বিষয়ে আমি স্থির নিশ্চিত।”

দুদিনের এই বৈঠকে নেটো নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যত রুশ হামলা প্রতিহত করতে এবং ইউক্রেনকে রক্ষা করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে একমত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা ইউক্রেনের পূব দিকে নেটো বাহিনীকে আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করবে।

নেটোর এই শীর্ষ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য জোট যে সামরিক সহায়তা জোগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেটা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া।

ভিলনিয়াসে নেটোর শীর্ষ বৈঠকে নেটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ (ডানে), লিথুয়েনিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নসিডা (বামে) এবং জো বাইডেন (মাঝে)
ছবির ক্যাপশান, ভিলনিয়াসে নেটোর শীর্ষ বৈঠকে নেটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ (ডানে), লিথুয়েনিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নসিডা (বামে) এবং জো বাইডেন (মাঝে)

নেটো কর্মকর্তারা আশা করছেন এর ফলে রুশ নেতা মি. পুতিন হয়ত তার ধ্যানধারণা বদলাতে শুরু করতে পারেন। হয়ত পশ্চিমা শক্তিকে কাবু করার ব্যাপারে তার মনে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ বৈঠকে মি. জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন বলে আমেরিকান কর্মকর্তারা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা অ্যান্টনি জারকার জানাচ্ছেন - আগামী বছর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই পটভূমিতে ইউক্রেনের প্রতি আমেরিকার সমর্থন যে ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে সে বিষয়টা নেটো সদস্য দেশগুলোকে বিশ্বাস করাতে মি. বাইডেনকেও এই বৈঠকে কিছু কাঠখড় পোড়াতে হবে।