পত্রিকা: 'নিজের করা আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আ.লীগ'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

নিজের করা আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আ.লীগ— যুগান্তরের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

১৯৭৫ সালে সিরাজ শিকদার হত্যা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ আমলের সব অপরাধ তদন্তের আওতায় আসছে।

তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আওয়ামী লীগেরই প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং দলটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করে। ২০১৩ সালে ২ নম্বর ধারা সংশোধন করে 'অরগানাইজেশন' বা 'সংগঠন' শব্দটি যুক্ত করে আওয়ামী লীগই।

এখন এই আইনেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।

টাইমস অব বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খবর— Reshuffles, command confusion fuel concerns at MoFA; অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রদবদল ও কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ।

এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় বিএনপি সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদল করেছে। ঢাকা অফিসের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মিশনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে পেশাদার কূটনীতিকদের বাইরে থেকে লোকও নিয়োগ করা হয়েছে।

বড় এই পরিবর্তন এবং মন্ত্রণালয়ে কাজের পরিবেশ নিয়ে বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

পেশাদারত্ব, কর্মকর্তাদের মনোবল এবং মন্ত্রণালয়ে তাদের স্থায়িত্ব নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।

কর্মরত ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের ক্ষেত্রে কে কার নির্দেশ মেনে চলবেন তা স্পষ্ট নয়। সেই সাথে ঘন ঘন বদলি এবং রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মকর্তার অশোভন আচরণ কাজের পরিবেশ নষ্ট করছে।

তাদের মতে, এমন সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানো দরকার।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— ইসলামী ব্যাংকিং কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে

এই খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে অনেক বিতর্কিত ঘটনা, অনিয়ম ও বিপর্যয় দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সংকোচনের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চার বছর আগেও দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২৭ শতাংশ ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল। চলতি বছরের মার্চে যা ২৩ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।

আর রেমিট্যান্স সংগ্রহসহ বৈদেশিক বাণিজ্যে অংশীদারত্ব আরো গুরুতর মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৩ সালে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু এ অংশীদারত্ব এখন মাত্র ২০ শতাংশে নেমেছে।

বিপরীতে এ ব্যবস্থার ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের স্থিতি ও হার।

চলতি বছরে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানতের স্থিতিও কমতে শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি সহসা কাটিয়ে ওঠা কঠিন। এ ধারার বেশিরভাগ ব্যাংকই এখন দেউলিয়াত্বের মুখে রয়েছে।

এসব ব্যাংকের অনেক গ্রাহক এখন নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান বা অর্থ জমা রাখার উৎস খুঁজছেন। সেটির বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুকুকের নিলামে।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন আইন

এই খবরে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সরকার ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে গঠন করা হবে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, যা ব্যাংকের মন্দ ঋণ কিনে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ঋণ আদায়ে বছরের পর বছর লেগে যায়। এর মধ্যে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্যও কমে যায়। ফলে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারে না।

নতুন আইন কার্যকর হলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ দ্রুত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতাও বাড়বে।

আইনটির খসড়া এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বড় ঋণের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে মাঠে বাংলাদেশ ব্যাংক— নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার সংবাদ এটি।

এতে বলা হয়েছে, ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের বাস্তব কার্যক্রম সরেজমিন যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন দল সরাসরি বিভিন্ন ব্যাংকের বড় ঋণগ্রহীতাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ব্যবসায়িক আউটলেটে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

অনুমোদিত ঋণের অর্থ প্রকৃত উৎপাদন, শিল্প সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি কেবল পুরনো ঋণ ঢাকতেই নতুন ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ, ঋণের অপব্যবহার এবং একই গ্রাহককে বারবার নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো খেলাপি ঋণ সমন্বয় করার গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগ।

প্রথম আলোর প্রধান সংবাদ— পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি

এই খবরে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার দিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে তিন দিনে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে গত রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জন, জেলা সদরে ১ জন, পেকুয়ায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গতকাল বুধবার কক্সবাজারে ৫ জন ও চট্টগ্রামে ২ শিশু নিহত হয়।

গতকাল কক্সবাজারে যে ৫ জন মারা গেছে, সকলেই ছাত্রী। উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ও মাটিচাপার ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চট্টগ্রামে এবার যে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যাবে না। তবে আবার স্বাভাবিকও নয়।

কেননা এবার আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন প্রায় বৃষ্টি হয়নি। তাই এখন একসঙ্গে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বর্ষাকালে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্ট হলে এ ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। এখন তা–ই হয়েছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের পানিতে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম ছিল দুর্ভোগের নগরী। বেশিরভাগ নিচু এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি।

পানি ঢুকে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়।

বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা করলেও বহির্নোঙরে গতকালও ব্যাহত হয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।

এদিকে, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। লোকজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

এছাড়া, সাজেকে আটকা পড়েছেন ছয় শতাধিক পর্যটক।

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ তদন্ত দল।

এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনুসন্ধান চলমান থাকায় এই তালিকায় নতুন আরও নাম যুক্ত হতে পারে বলে সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় আসা ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো— এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার এবং আরামিট গ্রুপ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর বাইরে আরেকটি গ্রুপের বিরুদ্ধেও মামলার সিদ্ধান্ত হলেও কৌশলগত কারণে এখনো তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থাভাবে লোডশেডিং লাগামহীন— দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি রয়েছে ১১ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট।

এরপরও তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যা শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর পেছনে মূল কারণ অর্থ সংকট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একদিকে উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে বকেয়া বিল পরিশোধ করছে না, অন্যদিকে তেল কেনার টাকাও দিচ্ছে না। এতে ঘুরছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাকা।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার খবর— Govt suspends vehicle buying, foreign trips on public funds for FY27; অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ।

এই খবরে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনাও স্থগিত করা হয়েছে।

'সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে' সরকার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল বুধবার অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।