কে গ্যাংস্টার আব্দুল লতিফ, যার নাম গুজরাতে 'রাজনৈতিক লাভের জন্য' ব্যবহার করেছিল বিজেপি?

ছবির উৎস, Getty Images/Facebook
- Author, আর্যব পারেখ
- Role, বিবিসি নিউজ গুজরাতি
- Published
- পড়ার সময়: ১৩ মিনিট
সালটা ১৯৯৫। পুলিশ অফিসার গীতা জোহরি আরও তিনজন পুলিশ কর্মীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন আব্দুল লতিফের বাড়ির বাইরে। তার আগেই মি. লতিফের শার্পশুটার রফিক আর একজন সঙ্গী ধরা পড়েছে।
অতিরিক্ত লোকবলের জন্য তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ফোন করেন। তাতে সাড়া দিয়ে দরিয়াপুরের পোপাতিয়াওয়াড়ের কাছে একটা পুলিশের ভ্যানও এসে পৌঁছায় সেখানে। ওই এলাকাতেই আব্দুল লতিফের বাড়ি।
কিন্তু পুলিশের টিম বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেনি। আসলে তারা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না যে সত্যিই আব্দুল লতিফের বাড়িতে যাচ্ছে তারা।
প্রবীণ গুজরাতি সাংবাদিক প্রশান্ত দয়াল তার বই 'লতিফ'-এ এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই ছোট্ট ঘটনা থেকেই আব্দুল লতিফের প্রভাব এবং পুলিশের মনেও যে তাকে ঘিরে একটা আতঙ্ক ছিল, সেই ছবিটা ফুটে ওঠে।
গত শতাব্দীর আশির দশকে গুজরাতের আহমেদাবাদের 'ডন' আব্দুল লতিফের সাম্রাজ্য সম্পর্কে জানতেন না, এমন মানুষ খুব কমই ছিলেন।
তার প্রসঙ্গ উঠলেই বেশিরভাগ মানুষ তার অপরাধ, খুন এবং অবৈধ মদের ব্যবসা নিয়ে কথা বলেন; কিন্তু রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন আব্দুল লতিফ।
বহু রাজনীতিবিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। গুজরাতের সমাজ ও রাজনীতির ওপর তার সাম্রাজ্যের গভীর প্রভাবও ছিল। এই প্রতিবেদনে সে সম্পর্কেই বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।

ছবির উৎস, Context Publication
গুজরাতে 'মেরুকরণের ভিত' ও লতিফ
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
গত ৩০ বছর ধরে গুজরাতে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি এবং সে রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিরই আধিপত্য।
ভারতে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত যতগুলো হিন্দু ও মুসলিম দাঙ্গা হয়েছে, তার একটা তথ্যাবলী প্রকাশিত হয়েছে। এটিকে ভার্শনে-উইলকিনসন ডেটাসেট বলা হয়।
সেই তথ্য অনুযায়ী, ওই ৪৫ বছরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে গুজরাতে। এর ফ্রিকোয়েন্সি (বারবার ঘটেছে তার হার বোঝাতে) ২৪১ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছিল। উত্তর প্রদেশে এর হার ছিল ১৯৯ পয়েন্ট। মহারাষ্ট্রে এর হার ছিল ১৮৭ পয়েন্ট।
এই সময়সীমার মধ্যে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গায় গুজরাতের শহুরে বাসিন্দাদের প্রতি ১০ লাখের মধ্যে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল যা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে। বিহারে দাঙ্গার কারণে মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের।
তবে গুজরাতে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ার নেপথ্যে একমাত্র কারণ দাঙ্গা নয়।
ভারতের গণতন্ত্র ও হিন্দু জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে গবেষণার জন্য পরিচিত ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ক্রিস্টোফ ডাফ্রেলো তার বই 'গুজরাত আন্ডার মোদী : দ্য ব্লুপ্রিন্ট অফ টুডেস ইন্ডিয়া'-তে গুজরাতের ওই সময়কাল সম্পর্কে লিখেছেন।
তার বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, "অবৈধ মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত মুসলিম মাফিয়াদেরও এখানে অবদান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে গুজরাতে অবৈধ মদের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। পুলিশের জোর করে টাকা আদায় করার মতো বিষয় এই ব্যবসাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।"
জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি বা জেএনইউ-এর অধ্যাপক ছিলেন বছর ৮৬-র ঘনশ্যাম শাহ। গুজরাতের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞও তিনি। ১৯৬৯ সালের দাঙ্গার পরে ঘনশ্যাম শাহ লিখেছিলেন, "গুজরাতে ব্যাপকভাবে মনে করা হতো, সে রাজ্যের 'বেশিরভাগ গুন্ডা' মুসলিম সম্প্রদায়ের।"
তিনি তার লেখায় এও উল্লেখ করেছিলেন যে, "বলা হয় যে 'এই গুন্ডারা' সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করত, কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কারণ তাদের রক্ষা করতেন কয়েকজন কংগ্রেস নেতা এবং এই গুন্ডারাই তাদের জন্য ভোট এনে দিত।"
"পুলিশের সঙ্গে এই ধরনের ব্যক্তিদের সংযোগ সাধারণ হিন্দুদের মনে একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল যে তারা বাস্তবে অসহায়," লিখেছিলেন মি. শাহ।
এই প্রেক্ষাপটে যার নাম প্রায়শই উঠে আসে তিনি হলেন আব্দুল লতিফ। ১৯৫১ সালে আহমেদাবাদের ওল্ড সিটি এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি।
দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাংয়ের সদস্যও ছিলেন তিনি। আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে চোরাচালান, খুন ও অপহরণের মতো একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তার প্রধান ব্যবসা ছিল অবৈধ মদ বিক্রি ও সরবরাহ করা যার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতেন। ১৯৮০ সালের পর তার প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে।
সেই সময়ে গুজরাতে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের সরকার।
১৯৮৫ সালে দাঙ্গার সময়ে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষদের প্রয়োজনীয় খাবার আর অন্যান্য সহায়তা করেছিলেন।
প্রফেসর ক্রিস্টোফ জাফ্রেলো তার সম্পর্কে লিখেছেন, "আহমেদাবাদ ওল্ড সিটির মুসলমানদের কাছে তিনি স্থানীয় রবিন হুড হয়ে উঠেছিলেন। মুসলমানদের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি ছিল।"
"সে সময়ে বলা হতো যে পুলিশ, প্রশাসন এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারও লতিফের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।"
কারাগার থেকে পাঁচ আসনে জেতেন
১৯৮৭ সালে আহমেদাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ততদিনে আব্দুল লতিফের প্রভাব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে জেলে থাকা অবস্থাতেই তিনি দরিয়াপুর, কালুপুর, দানিলিমাদা, জামালপুর এবং রায়খার- এই পাঁচটা ওয়ার্ড থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
ভোটের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায় পাঁচটা আসনেই জিতেছেন তিনি। পরে নিয়ম মেনে চারটে আসন অবশ্য ছেড়ে দেন।
গুজরাতের প্রবীণ তদন্তমূলক সাংবাদিক প্রশান্ত দয়াল তার বই 'লতিফ'-এ লিখেছেন, "যে বিজেপি নেতারা, প্রকাশ্যে লতিফের সমালোচনা করতেন তারা ভেতরে ভেতরে লতিফের সঙ্গে চুক্তি করেন এবং এমন আসন খালি করার ব্যবস্থা করেন যা বিজেপির কাজে লাগতে পারে।"
"কালুপুর থেকে বিজেপির ভামিনী প্যাটেল এবং রায়খার থেকে বিজেপির গুরুপ্রসাদ নাইডু জিতেছিলেন। এইভাবে মিউনিসিপ্যাল বোর্ডে বিজেপির সংখ্যা বেড়েছিল।"
ওই নির্বাচনের হাত ধরেই বিজেপি প্রথমবারের মতো আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ক্ষমতায় আসে।
অধ্যাপক জাফ্রেলো তার বইয়ে লিখেছেন, "লতিফের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে গুজরাতের রাজনীতিকে মেরুকরণ করার জন্য ব্যবহার করেছিল বিজেপি এবং কংগ্রেসকে এর মূল্য চোকাতে হয়েছিল। কারণ অনেক মুসলমান কংগ্রেসকে বিশ্বাস করতে পারেনি। এই কৌশল প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের পৌর নির্বাচনে।"
প্রবীণ সাংবাদিক ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষ্ণু পান্ডিয়া অবশ্য এর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে না। তার মতে গুজরাতের রাজনীতিতে আব্দুল লতিফের অধ্যায় এমন ছিল না যা নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, "গুন্ডা, মাফিয়া নেতা এবং মদ চোরাকারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে গুজরাতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী। ১৯৮৫ সালের দিকে আহমেদাবাদের পরিস্থিতি এমন ছিল যে শহরের প্রধান অঞ্চলে মাফিয়া গ্যাংগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটত। তবে গত কয়েক বছরে গুজরাতে তুলনামূলকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
মি. পান্ডিয়া মনে করেন, আব্দুল লতিফের প্রার্থীপদ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে এমনটা বলা ঠিক হবে না।
তার মতে, আব্দুল লতিফ নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তাই তার প্রার্থিতা বিজেপির পক্ষে লাভজনক হয়েছে, এটা তার কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয় না। তার (আব্দুল লতিফের) উপস্থিতি বা কার্যকলাপের ফলে সমাজে মেরুকরণ হয়েছিল এবং বিজেপি এর রাজনৈতিক সুযোগ নিয়েছিল এই দাবির সঙ্গেও তিনি একমত নন।
বিষ্ণু পান্ডিয়া বলেছেন, "কোনো এক মাফিয়াকে নির্মূল করে দিলে মেরুকরণ হবে না- এমনটা নয়। দাঙ্গার মাধ্যমে মেরুকরণ হয়। ১৯৬৯ এবং ২০০২ সালে গুজরাতে বড় দাঙ্গা হয়েছিল। এর ফলে গুজরাতের মানুষের মধ্যে মেরুকরণ দেখা দেয়। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো ভূমিকা ছিল না।"

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ষাটের দশকে আহমেদাবাদে শিক্ষকতা করতেন বিশ্ব ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড স্পোডেক, তিনি তার বই 'আহমেদাবাদ: শক সিটি অফ দ্য টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি'-তে সেই সময়ের কথা লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন, "লতিফ এবং পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে বদনাম করতে শুরু করে বিজেপি এবং নির্বাচনে 'রামরাজ বনাম 'লতিফরাজ' মডেল তুলে ধরার চেষ্টা করে। ১৯৮৭ সালে বিজেপির ভোটে জেতার এটাই একমাত্র কারণ ছিল।"
আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপি ১২৭টা আসনের মধ্যে ৬৭টা আসন জিতেছিল এবং কংগ্রেস ৩০টা আসন পেয়েছিল।
সাংবাদিক প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, "লতিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতাদের শিথিলতা নিয়ে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল। কংগ্রেস নেতারা মনে করেছিলেন যে এই পদক্ষেপ মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করবে। তারা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং বুঝতে পারেননি যে এটা হিন্দু ভোটারদের বিচ্ছিন্ন করছে। তাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে দলটা মাত্র পাঁচ-সাত বছর আগে ১৯৮০ সালে গঠিত হয়েছিল, অর্থাৎ বিজেপি এর সুবিধা নিতে পারে।"
তারপর, ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে, বিজেপি শহরাঞ্চলে নিজেদের ভিত এতটাই পোক্ত করে নিতে পেরেছিল যে সুরাত, রাজকোট এবং ভদোদরা পৌর কর্পোরেশনের ভোটে তারাই জয়ী হয়।
প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, "আহমেদাবাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়, বিজেপির শরিক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল আহমেদাবাদ ওল্ড সিটি এলাকায় (পূর্ব আহমেদাবাদ) তাদের ভিত আরও শক্ত করতে শুরু করে। বিজেপি এতে লাভবান হতে থাকে।"
"কিন্তু বিজেপি যে ক্ষমতায় আসবে সেটা বিজেপি নেতারাও বিশ্বাস করেননি। কিন্তু ১৯৮৫ সালের দাঙ্গা এবং কংগ্রেসের ভুলগুলো তাদের শক্তিশালী করে তুলেছিল।"
আরেকটা বিষয় হলো, অশোক ভাট-সহ অনেক বিজেপি নেতা ওল্ড সিটি এলাকায় থাকতেন। জনসাধারণের সঙ্গে প্রতিদিনই যোগাযোগ রাখতেন তারা। সেই সময় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা ধারণা ছিল যে বিজেপি হিন্দুদের দল এবং কংগ্রেস মুসলমানদের দল।
তবে অনেক কংগ্রেস নেতাও আব্দুল লতিফের বিরোধিতা করেছিলেন। সবচেয়ে বেশি সোচ্চার প্রতিবাদ করেছিলেন কালুপুরের বাসিন্দা কংগ্রেস সংসদ সদস্য রউফ ওয়ালিউল্লাহ। এই এমপিকেও খুন করেছিল একটা আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাংয়ের সদস্যরা।
প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিডি প্যাটেলও আব্দুল লতিফের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ছবির উৎস, Kalpit Bhachech/Getty Images
'লতিফকে ভুলে যাবেন না'
১৯৮৭ সালে জয়ের পর বিজেপি এই বিষয়টাকে আরো গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ১৯৯০ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তারা এই কৌশল ব্যবহার করে। তবে ১৮২টা আসনের মধ্যে মাত্র ৬৭টা আসন তাদের ঝুলিতে আসে এবং তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
অধ্যাপক ক্রিস্টোফ জাফ্রেলো লিখেছেন, "১৯৯৩ সালে আহমেদাবাদের এলিসব্রিজ আসনের উপনির্বাচনে একই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন 'রাইজিং স্টার' হরেন পান্ডিয়া এবং তার নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই সময়ে গুজরাত বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মি. মোদী।"
কংগ্রেস হরেন পান্ডিয়ার বিরুদ্ধে শিল্পপতি লালচাঁদ দেবচাঁদকে প্রার্থী করেছিল।
তিনি লিখেছেন, "চিমনভাই প্যাটেল এই নির্বাচনে হরেন পান্ডিয়াকে হারাতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজে লতিফের ঘনিষ্ঠ থাকলেও নরেন্দ্র মোদী তার 'দুর্বলতা' সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।"
অধ্যাপক জাফ্রেলো লিখেছেন, "প্রতিটা বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রচারের সময় বিজেপি কর্মীরা বলতেন, ভোট দিতে যাওয়ার সময় লতিফকে ভুলে যাবেন না। এইভাবে তারা মানুষকে তার (আব্দুল লতিফের) অবৈধ কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি ইত্যাদির কথা মনে করিয়ে দিত।"
এই আসনে তাদের দখল ছিল। উপনির্বাচনে চমকপ্রদ ফলাফল দেখা যায় যেখানে হরেন পান্ডিয়া ৪৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতেন।
এই জয়ের পর বিজেপি মনে করতে থাকে যে গুজরাতে জয়ের একটা নতুন মডেল খুঁজে পেয়েছে তারা। এই নিয়ে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশ্য পরেও অব্যাহত ছিল।

ছবির উৎস, Kalpit Bhachech/Dipam Bhachech/Getty Images
১৯৯৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে 'ইস্যু'
আব্দুল লতিফ পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পর কংগ্রেসের ছাবিলদাস মেহতা সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। তখন ১৯৯৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রায় আসন্ন।
প্রবীণ সাংবাদিক প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, "কিছু কংগ্রেস নেতা লতিফের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছিলেন, কিন্তু এই সব কিছুই বন্ধ দরজার আড়ালে ঘটছিল। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছিলেন যে কংগ্রেসের কারণে আহমেদাবাদ এবং গুজরাতের হিন্দুরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। মুসলিমদের একটা বড় অংশও কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।"
অধ্যাপক জাফ্রেলো আবার লিখেছেন, "এলিসব্রিজের উপনির্বাচন ১৯৯৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একটা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে দিয়েছিল।"
১৯৯৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়ে, বিজেপি কংগ্রেস নেতাদের এবং আব্দুল লতিফের মধ্যে সম্পর্কের উপর কড়া নজর রাখতে শুরু করে।
তিনি লেখেন, "উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস মুসলিম বিধায়ক মহম্মদ হুসেন বারেজ এবং লতিফের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বহু আলোচনাই হয়েছিল। তাকে কংগ্রেসের চিমনভাই গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।"
প্রশান্ত দয়াল আবার লিখেছেন, "বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের সময়ে অশোক ভাট-সহ বিজেপি নেতারা লতিফের উত্থানের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করেছিলেন। বিষয়টা ছিল লতিফের কিন্তু তাকে সরাসরি না বলে পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা হচ্ছিল।"
তিনি উল্লেখ করেছেন, "হিন্দুরা মনে করেছিল যে যদি তাদের ত্রাণকর্তা হিসাবে কেউ থেকে থাকে তাহলে সেটা হলো বিজেপি। এটাই প্রথম বিধানসভা নির্বাচন ছিল যেখানে মানুষের মনে বিজেপি সম্পর্কে তৈরি ধারণার পরীক্ষা হতে চলেছিল।"
"১৯৯৫ সালের নির্বাচনে, বিজেপির কাছে কোনো ইস্যু ছিল না, কিন্তু তাদের কাছে লতিফ ছিল। তারা কংগ্রেসকে লতিফের দল অর্থাৎ 'মুসলমানদের দল' হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকে।"

ছবির উৎস, Kalpit Bhachech/Dipam Bhachech/Getty Images
১৯৯৫ সালের নির্বাচনের সময় আব্দুল লতিফ ভারতে ছিলেন না, তিনি পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল লতিফ ও দাউদ ইব্রাহিমের কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ না করলে কোনো বিজেপি নেতারই নির্বাচনী ভাষণ সম্পূর্ণ হতো না।
গুজরাত পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বলেন, "এটা বললে ভুল হবে না যে আব্দুল লতিফ গুজরাতে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।"
অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আরবি শ্রীকুমার তার বই 'গুজরাত বিহাইন্ড দ্য কার্টেন'-এ লিখেছেন, "১৯৮৪ সাল থেকে, গুজরাতে সঙ্ঘ পরিবারের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হয়ে উঠছিল। সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন মুসলিম বিরোধী সহিংসতায় পরিণত হয়েছে।"
তিনি ওই বইয়ে উল্লেখ করেছেন, "কংগ্রেসের প্রথাগত ভোটাররা বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। ১৯৯৫ সালে বিজেপির জয়ের পরে, সঙ্ঘ পরিবার তার সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং গেরুয়াকরণ কর্মসূচি জোরদার করে। ফলস্বরূপ, পতিদারদের মতো জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট হয়।"
"রাম জন্মভূমি আন্দোলন, আদভানির রথযাত্রা, কাশ্মীরি পণ্ডিত ইস্যু, বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং তার পরে দাঙ্গা, গুজরাতের আহমেদাবাদের মতো শহরে আব্দুল লতিফের মতো মুসলিম অপরাধীদের উত্থান ইত্যাদির মতো ঘটনাগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে।"
১৯৯৫ সালের নির্বাচনে, বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। তাদের ঝুলিতে ছিল ১২১টা আসন, আর কংগ্রেসের কাছে ছিল মাত্র ৪৫টা আসন।
প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, "এই জয়ের পরেও জনসাধারণের দৃষ্টি বিজেপির বিজ্ঞানী নরেন্দ্র মোদীর দিকে যায়নি, যিনি 'হিন্দু-মুসলিম ভোটের মেরুকরণে' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।"
তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী রাম জন্মভূমি ইস্যু তুলে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে প্রচার করে কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। এটা তার প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল যেখানে তিনি সফল হয়েছিলেন।
এই দাবির প্রসঙ্গে বিজেপির অবস্থান জানতে আমরা গুজরাতে বিজেপির প্রধান মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু তিনি এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি।
লতিফের গ্রেফতার, মৃত্যু ও তার পরের রাজনীতি
বিজেপির কেশুভাই প্যাটেল যখন আব্দুল লতিফকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন তখন তার দল বেশ কয়েকটা জেলায় 'হিন্দু হৃদয় সম্রাট' হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে।
তবে আব্দুল লতিফের নামে ভোট চেয়ে জেতার পর যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিজেপির অভ্যন্তরীণ কলহের কারণে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টির শঙ্করসিং বাঘেলা ক্ষমতায় আসেন। রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেসের জোট সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে কথিত পুলিশ এনকাউন্টারে আব্দুল লতিফের মৃত্যু হয়।
প্রশান্ত দয়াল লিখেছেন, "লতিফের মৃত্যুর পর আহমেদাবাদে দাঙ্গা নিয়ে পুলিশ যা আশঙ্কা করেছিল, তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়। কারণ সাম্প্রদায়িক নেতা হিসেবে আবির্ভূত লতিফ বহু মুসলিমদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করেছিলেন। তার অনুপস্থিতি হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত দুই অঞ্চলেই শান্তি নিয়ে আসে।"
"কিন্তু লতিফ নামের এক ব্যক্তির কারণে আহমেদাবাদে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে এমন এক ব্যবধান তৈরি হয়েছিল, যা সম্ভবত এক শতাব্দী ধরেও পূরণ করা সম্ভব নয়। এই ব্যবধান বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।"
অধ্যাপক জাফ্রেলো লিখেছেন, "১৯৯৭ সালে লতিফের মৃত্যু হয়। কিন্তু যতক্ষণ লতিফের গ্যাং সক্রিয় ছিল, বিজেপি গুজরাতি সমাজকে সাম্প্রদায়িক লাইনে বিভক্ত করতে থাকে এবং ভয়ের রাজনীতিকে চিরস্থায়ী করতে থাকে।"
তার মতে ১৯৯০ এর দশকে বিজেপির ভোটে জেতার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা ছিল গুজরাতের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ।

ছবির উৎস, Kalpit Bhachech/Dipam Bhachech/Getty Images
লতিফ না থাকলে গুজরাতে বিজেপি শক্তিশালী হতো না?
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ঘনশ্যাম শাহ মনে করেন, "লতিফ না থাকলে গুজরাতে বিজেপি এত শক্তিশালী হতো না" এটা বলা ঠিক নয়। তবে এটা বলা যায় যে সে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে আব্দুল লতিফ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অধ্যাপক শাহের কথায়, "বিজেপি চতুরতার সঙ্গে ১৯৮৫ সালের পর সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। লতিফ এবং অন্যান্যদের প্রশ্রয় দিয়ে গুজরাতে দাঙ্গাও হয়েছিল, কিন্তু তাতে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমাদের মনে রাখা দরকার যে ১৯৬৯ সালের ভয়াবহ দাঙ্গা বা ২০০২ সালের দাঙ্গার সময় কিন্তু লতিফ ছিলেন না।"
আহমেদাবাদের প্রবীণ কলামিস্ট এবং লেখক উর্ভিশ কোঠারির কথায়, "লতিফ একসময়ে বিজেপি এবং কংগ্রেস দুই দলের জন্যই উপযোগী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তারা দু'জনেই তাকে ব্যবহার করেছে।"
"তবে গুজরাতে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও আসলে লক্ষ্য ছিল এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা যেখানে দেখানো যায় যে 'হিন্দুরা ভয় ও বিপদের মধ্যে রয়েছে।' তার জন্য লতিফ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লতিফ কংগ্রেসকে লাভবান করতে পারে, কিন্তু বিজেপি তার কারণে আরো বেশি উপকৃত হয়েছে।"
উর্ভিশ কোঠারি বলেন, "সেই সময় বিজেপির সত্যিই এমন প্রতীক দরকার ছিল যা জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। সে সময় আহমেদাবাদে ক্রমাগত দাঙ্গা চলছিল।"
তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি আজ আহমেদাবাদে কোনো মধ্যবয়সী ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই তাদের মনে মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে কিছু কথা শুনতে পারেন।"
পাশাপাশি মি. কোঠারি বলেছেন, "আসলে বিজেপি লতিফকে পুরোপুরি ব্যবহার করে এমন পরিবেশ, এমন আলোচনা এবং আবহ তৈরি করেছে।"
"একবার কল্পনা করুন যে গুজরাতের একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করা কত বড় বিষয় যেখানে ৮৯ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যা রয়েছে। গুজরাতে বিজেপি এমন একটা অসম্ভব কাজ করেছে।"
তবে তিনি স্পষ্টতই মনে করেন যে আব্দুল লতিফের থাকা বা না থাকায় বিজেপির কিছু যায় আসে না।
মি. কোঠারি ব্যাখ্যা করেছেন, "বিজেপির রাজনীতির দিকে তাকালে আজ এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, লতিফ না থাকলে বিজেপি হয়তো নতুন লতিফ তৈরি করত। প্রকৃতপক্ষে, তাদের সাফল্য ছিল লতিফকে ব্যবহার করে পাওয়া তাদের ভোটের প্রচার সংক্রান্ত কৌশল।"

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
এখনো 'লতিফ'-এর কথা মনে করায় বিজেপি
গুজরাতের প্রায় সব নির্বাচনে লতিফের নাম এখনো প্রতিধ্বনিত হয়। এই বছর অনুষ্ঠিত আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনেও তার নাম আবার উঠে এসেছিল।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল আহমেদাবাদের দরিয়াপুরে অনুষ্ঠিত এক সভায় লতিফের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।
তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "কংগ্রেসের দুঃশাসনের কথা এই এলাকার মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। মনে আছে তো নিজের জায়গায় বাস করাটা আমাদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল? কংগ্রেস আমলে আমাদের শহর 'লতিফের শহর' নামে পরিচিত ছিল। বিজেপির শাসনকালে লতিফ হোক বা লতিফের দাদা, সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
একইভাবে, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক ভূষণ ভাট গত ১৫ই এপ্রিল তার নির্বাচনী প্রচারের সময় আব্দুল লতিফকে স্মরণ করেছিলেন।
খাদিয়ায় এক সভায় তিনি বলেছিলেন, "সেই সময় মানুষকে শাহপুর, জামালপুর ও খাদিয়া ছেড়ে যেতে হয়েছিল কেন? ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে, গুজরাত জুড়ে এই বিষয়টা সকলের জানা ছিল যে আহমেদাবাদের পুলিশ এবং প্রশাসন লতিফের হাতে। মনে আছে, তাই না? আমরা খাদিয়াকে পাকিস্তান হতে দেব না।"
তবে এই খাদিয়াতেই এবারে হেরেছে বিজেপ যা চার দশক ধরে তাদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল।
এর আগে, যখন ২০১৭ সালে 'রইস' নামে সিনেমা মুক্তি পায়, তখন আলোচনা হয়েছিল যে সেটা আব্দুল লতিফের জীবন অবলম্বনে তৈরি। সে বছরই গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনও হয়েছিল।
আমরা এই বিষয়ে গুজরাত বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে দল এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায় না।
আহমেদাবাদের জামালপুর-খাদিয়া অঞ্চলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং বিজেপি নেতা ভূষণ ভাট আব্দুল লতিফের আধিপত্যকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, সেই সময় আমেদাবাদে লতিফের যোগাযোগ ছিল অকল্পনীয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "আমার বাবা বিধায়ক অশোক ভাট এবং পুলিশ কমিশনারের মধ্যে একজন কনস্টেবলের বদলি নিয়ে ফোনে কথোপকথনের কথাও লতিফ জানতে পেরেছিলেন। এতে তার সাম্রাজ্য সম্পর্কে বোঝা যায়। খুন করা, গুলি চালানো এবং অন্যান্য তো ছেড়েই দিন।"
তিনি বলেন, "লতিফের কারণে গুজরাতের রাজনীতি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো এনকাউন্টার রাজের দিকে এগোচ্ছিল। লতিফের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে সে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। এক সময় সরকার, গণমাধ্যম, প্রশাসন সব কিছু তার নির্দেশে চলত এখন সে সবই শেষ হয়ে গিয়েছে।"
তবে তার কথায়, লতিফের কারণে গুজরাতে বিজেপি যে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, তা সত্যি নয়।
ভূষণ ভাট বলেছেন, "কেশুভাইজির সরকার যদি চোখ না রাঙাত, তাহলে গুজরাত আজ অন্য পথে চলত। গুজরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কারণেই হয়েছে।"
অধ্যাপক ঘনশ্যাম শাহ আবার বলেছেন, "বিজেপি প্রয়োজনে লতিফকে ব্যবহার করছে।"
অন্যদিকে, উর্ভিশ কোঠারি বলেন, "লতিফের মৃত্যুর পর তার প্রভাব কমে যায় এবং তারপর নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারে তিনি লতিফের নাম নেওয়া বন্ধ করে দিয়ে 'মিঁয়া মোশাররফ' ও 'পাকিস্তান'-এর মতো শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেন। লতিফ এখন তাদের কাছে অতীতের কথা। এখন তাকে আর বিজেপির দরকার নেই, কারণ তাদের আরো অনেক কিছু রয়েছে।"









