ইরানের দক্ষিণে 'আত্মরক্ষামূলক' হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    • Author, টবি ম্যান
  • Published
  • পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালানোর খবর জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন বসানোর কাজে নিয়োজিত থাকা নৌযানগুলোকে এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি ছিল 'আত্মরক্ষামূলক' এবং এর উদ্দেশ্য ছিল "ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে আসা হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের রক্ষা করা"।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী "চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে সংযম বজায় রেখে আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে"।

এমন এক সময়ে এই হামলা চালানোর কথা বলা হলো যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবে সংঘাত অবসানের কোনো চুক্তি "শিগগিরই হওয়ার সম্ভাবনা নেই"।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হকিন্স জানিয়েছেন যে এই হামলাগুলো বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি এলাকায় চালানো হয়েছে।

বন্দর আব্বাস ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর, যেখানে হরমুজ প্রণালির পাশে দেশটির একটি নৌঘাঁটি রয়েছে।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

সর্বশেষ এই মার্কিন হামলার বিষয়ে ইরান এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ওপর এই হামলার প্রভাব কী হবে সেটিও এখনো অস্পষ্ট।

গেল সপ্তাহের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তবে পরবর্তীতে এই আলোচনার সাথে জড়িতদের "তাড়াহুড়ো না করার" নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন যে, সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

তবে মি. বাঘাই এর জবাবে বলেছেন যে, "এটি বলা ঠিক হবে যে আমরা আলোচনার অধীনে থাকা বড় অংশের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। তবে এর মানেই যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অবশ্যই হয়ে যাবে- এমন দাবি কেউ করতে পারে না।"

একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনা।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন।

তার অবস্থানের কারণে প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার গতি ধীর হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই গোয়েন্দা তথ্যে।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনাগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মীমাংসায় পৌঁছানো এখনই সম্ভব হবে না।

বিতর্কিত বিষয়গুলো, যেমন- ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের জব্দ করা তহবিল ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মার্কিন দাবি- এসব বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি বা ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

এটি অস্ত্র তৈরির উপযোগী অর্থাৎ ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি, যা তাত্ত্বিকভাবে একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে।

সোমবার রাতে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় "তাৎক্ষণিকভাবে" যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা "ইরানি প্রজাতন্ত্রের সাথে সমন্বয় করে তা সেখানেই ধ্বংস করে ফেলতে হবে"।

যদিও বড় কোনো সাফল্যের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রয়টার্স জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসেছেন।

গত আটই এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনী যুদ্ধবিরতি পালন করছে। ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।