জিহাদে প্ররোচনার অভিযোগে মসজিদ বন্ধ করবে তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়ার অবকাশ কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জন মারা গেছে। আহতের সংখ্যা ৩৬।
ছবির ক্যাপশান, তিউনিসিয়ার অবকাশ কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জন মারা গেছে। আহতের সংখ্যা ৩৬।
Published

তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে জঙ্গী মতাদর্শ প্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ৮০টি মসজিদ তারা বন্ধ করে দেবে।

শুক্রবার সুস শহরে সমুদ্রতীরবর্তী একটি অবকাশকেন্দ্রের হোটেলে এক সশস্ত্র হামলায় ৩৮জন প্রাণ হারানোর পর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইউরোপিয়।

হামলায় আহতের সংখ্যা ৩৬ বলে বলা হচ্ছে।

সরকার বলছে পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সৈন্য তলব করা হয়েছে।

তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাবিব এসিদ বলেছেন অতিরিক্ত সৈন্যদের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে।

তিনি বলেছেন জিহাদী কার্যকলাপে প্ররোচনা দিচ্ছে এরকম প্রায় ৮০টি মসজিদ এক সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এমন বেশি কিছু মসজিদ জঙ্গীবাদে প্ররোচনা দিচ্ছে অভিযোগ রয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এমন বেশি কিছু মসজিদ জঙ্গীবাদে প্ররোচনা দিচ্ছে অভিযোগ রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মিঃ এসিদ বলেছেন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এমন কিছু মসজিদ থেকে ''জঙ্গীবাদে উস্কানি দিয়ে বিষ ছড়ানো এবং প্রচারণা চালানো হচ্ছে।''

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন ''সংবিধানের বাইরে থেকে কাজ করছে'' এমন দল বা গোষ্ঠিগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব দলকে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

''দেশ এবং সরকার হুমকিতে,'' বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মিঃ এসিদ।

''সকলের সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া একা এই লড়াই জেতা আমাদের জন্য সম্ভব নয়।''

ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

একজন বন্দুকধারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে।

কর্তৃপক্ষ তার নাম জানিয়েছে সেইফেদ্দিন রেজঘুই, যিনি ছিলেন একজন ছাত্র এবং পুলিশের কাছে তার সম্পর্কে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না।

দ্বিতীয় একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতারের খবর দিচ্ছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো, কিন্তু এ খবর এখনও নিশ্চিত করা যায় নি।

হামলার পরদিন ইমপিরিয়াল মারহাবা হোটেলের শূণ্য সৈকত
ছবির ক্যাপশান, হামলার পরদিন ইমপিরিয়াল মারহাবা হোটেলের শূণ্য সৈকত

তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সশস্ত্র আক্রমণে যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই সম্ভবত ব্রিটিশ।

নিহতদের স্মৃতিতে হোটেলে পুষ্পস্তবক
ছবির ক্যাপশান, নিহতদের স্মৃতিতে হোটেলে পুষ্পস্তবক

ব্রিটিশ ছাড়াও নিহতদের মধ্যে জার্মান, বেলিজিয়ান, ফরাসি এবং তিউনিসিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

এবছর মার্চ মাসেই তিউসিনিয়ার রাজধানী তিউনিসে বার্ডো যাদুঘরে এক জঙ্গী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২২জন লোক, যাদের বেশিরভাগই ছিল বিদেশি।

বার্ডোর হামলার পর প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় নি, তিউনিসিয়ায় নানা মহল থেকে এখন সে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তিউনিসে বিবিসির সংবাদদাতা জিম মিউর।