নুহাশপল্লীতেই হুমায়ূনের দাফন সম্পন্ন

Published

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে তার নিজের গড়া নুহাশ পল্লী নামের বাগান বাড়ীতে দাফন করা হয়েছে।

হুমায়ুন আহমেদ
ছবির ক্যাপশান, হুমায়ুন আহমেদ

বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায়, নুহাশপল্লীর লিচুবাগান নামের একটি স্থানে তাঁকে কবর দেয়া হয়।

এরা আগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নুহাশ পল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় সেখানে পৌছান তাঁর বর্তমান স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও সন্তানরা। লেখকের ভাই-বোন ও অপরপক্ষের সন্তান নোভা, শীলা ও নুহাশ আগেই সেখানে পৌছান।

বৃষ্টি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই কথাশিল্পীকে শেষ বিদায় জানাতে বাড়িটিতে সমবেত হয় কয়েক হাজার মানুষ।

জোহরের নামাজের পর সেখানে আরেকটি জানাজা হয়। এরপর বাগানবাড়িটির লিচুবাগানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে কবরের স্থান নিয়ে পরিবারের সদস্যেদের মধ্যে তীব্র মতভেদ তৈরী হলে গভীর রাত পর্যন্ত এ নিয়ে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় কয়েকদফা আলোচনা চলে। ভোররাতে সিদ্ধান্ত হয়, নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করা হবে।

মূলত: সোমবার হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে তার প্রথম পক্ষের সন্তান এবং ভাইদের সাথে মতভেদ তৈরি হয় বর্তমান স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে।

হুমায়ুনের জানাজা
ছবির ক্যাপশান, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে হুমায়নের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা

লেখকের ভাই এবং প্রথম পক্ষের সন্তানেরা আগেই জানিয়েছিলেন তারা চান হুমায়ূন আহমেদকে ঢাকার বনানী কিংবা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হোক।

কিন্তু লেখকের মৃত্যুর সময় তার পাশে থাকা বর্তমান স্ত্রী শাওন দাবি করেন, লেখকের শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে যেন নুহাশ পল্লীতেই দাফন করা হয়।

দফায় দফায় বৈঠকেও সিদ্ধান্ত না আসার পর এক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেন বিষয়টির একটি সম্মানজনক সুরাহা করতে।

ভোররাতে সিদ্ধান্ত হয়, নুহাশ পল্লীতেই লেখকের শেষ শয্যা হবে।

ওই বৈঠকগুলোতে লেখকের পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, 'বারডেমের হিমঘর থেকে সকাল নয়টায় লেখকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে নুহাশ পল্লীতে। সেখানে বাদ-জোহর আরো এক দফা নামাজে জানাজার পর সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। এটি তার বর্তমান স্ত্রী শাওনের ইচ্ছেমতই হয়েছে।'

তিনি আরো জানান, লেখকের ভাইয়েরা এবং প্রথম পক্ষের সন্তানেরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'সন্তানেরা বললো যে আমরা আমাদের বাবাকে এভাবে আর কষ্ট দিতে চাইনা। হিমঘরে রাখতে চাইনা। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এখানে অত্যন্ত বড় একটি ভূমিকা পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই সবার সামনে ঘোষণা দিয়েছেন যে হুমায়ূন আহমেদকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হবে।'