ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: দেশে পৌঁছেছেন আটকে পড়া জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র নাবিকেরা

ঢাকায় ফেরা নাবিকদের স্বজনদের সাথে দেখা হবার পর আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় ফেরা নাবিকদের স্বজনদের সাথে দেখা হবার পর আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
Published

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর তীরের অলভিয়া বন্দরে আটকে পড়া জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি'র ২৮জন নাবিক বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার কিছু পর ঢাকায় পৌঁছেছেন।

এর আগে দোসরা মার্চ আটকে পড়া জাহাজটিতে রকেট হামলায় একজন বাংলাদেশি নাবিক মারা যান।

এরপরই বন্দরটির আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের সহায়তায় ৩রা মার্চ জাহাজে থাকা ২৮জন নাবিক ও ইঞ্জিনিয়ারকে উদ্ধার করে তাদেরকে ইউক্রেনের বাঙ্কারে সরিয়ে নেয়া হয়।

সেসময় কর্মকর্তারা জানান, রকেট হামলায় নিহত ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মৃতদেহ নিরাপদ জায়গায় নিয়ে হিমাগারে রাখা হয়েছে এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

হাদিসুর রহমান ফেসবুক সেল্ফি
ছবির ক্যাপশান, জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন নিহত হাদিসুর রহমান

আরো পড়তে পারেন:

এর দুই দিন পর মলদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান নাবিক এবং ইঞ্জিনিয়ারেরা।

এরপর গতরাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে রোমানিয়ার বুখারেস্ট থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেন বাংলাদেশি নাবিকেরা।

জাহাজটিতে রকেট হামলায় একজন নিহত হওয়ার পর বেঁচে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা এবং দেশে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মালিকানাধীন 'বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজটি ২৯জন নাবিক ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে ২২শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায়।

জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পরদিন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ
ছবির ক্যাপশান, বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটিতে রকেট হামলায় আগুন ধরে যায়।

'বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজটির ইউক্রেন থেকে সিরামিক ক্লে নিয়ে ইতালির রেভেনা বন্দরে যাবার কথা ছিল।

জাহাজের একজন নাবিক সেসময় বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফিরে আসার জন্য তাদের তীব্র আকুতির কথা জানিয়েছিলেন।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে মোট ২৯জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন, এর মধ্যে দুইজন নারী ক্যাডেট রয়েছেন।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: