ঢাকার রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় পাঁচ জন আসামিই খালাস

আদালত
Published

বাংলাদেশেরা রাজধানী ঢাকার বনানীতে চার বছর আগে দু'জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায়ে আদালত বৃহস্পতিবার আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ জন আসামীর সব ক'জনকে খালাস দিয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ঘটনার ৩৮ দিন পর মামলা হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণ আসেনি।

কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণ না পেয়েও তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দিয়ে আদালতের সময় নষ্ট করেছে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত ধর্ষণের ঘটনায় ৭২ ঘন্টার মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা এবং মামলা করার পরামর্শও দিয়েছেন।

ঢাকায় বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ২০১৭ সালে ২৮শে মার্চে আয়োজিত জন্মদিনের পার্টিতে দু'জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে আমন্ত্রণ করে সেখানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এই অভিযোগ আনা হয়েছিল মামলায়।

ঘটনার ৩৮ দিন পর মামলা করা হয়েছিল।

আরও পড়তে পারেন:

প্রধান আসামী সাফাত আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ছিল পাঁচজন। (ফাইল ফটো)
ছবির ক্যাপশান, প্রধান আসামী সাফাত আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ছিল পাঁচজন। (ফাইল ফটো)

এখন চার বছর পর মামলার রায়ে আদালত আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকেই খালাস দিয়েছে।

তবে সব আসামী যে খালাস পেয়েছে, সে ব্যাপারে আদালতের পর্যবেক্ষণে ঘটনার দীর্ঘ সময় পরে মামলা দায়ের এবং তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকার সমালোচনা এসেছে।

এই মামলায় সরকার পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি আফরোজা ফারহানা আহমেদ জানিয়েছেন, প্রমাণ নিশ্চিত না করে চার্জশিট দিয়ে আদালতের সময় নষ্ট করা হয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে।

তিনি বলেন, "ঘটনার ৩৯ দিন পর মেডিকেল পরীক্ষা হয়েছে। সেজন্য মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে।"

দুই ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা নিয়ে তোলপাড় চলেছে বাংলাদেশে (ফাইল ফটো)
ছবির ক্যাপশান, দুই ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা নিয়ে তোলপাড় চলেছে বাংলাদেশে (ফাইল ফটো)

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

পাবলিক প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, "আদালত বলেছে, মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। এধরনের কোন মামলায় চার্জশিট দিলে অথবা তদন্তকারি কর্মকর্তা যখন কিছু পায়নি, তখন চার্জশিট দেয়ায় এই বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতের ৯৪ দিনের পাবলিক টাইম নষ্ট হয়েছে।"

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মোছাম্মাৎ কামরুন্নাহার ৯৪ টি কার্যদিবসে শুনানির পর বৃহস্পতিবার রায় দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত দু'জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজেরাই মামলাটি করেছিলেন।

তাদের পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেছেন, পুলিশের তদন্ত্রকারী কর্মকর্তা রেইনট্রি হোটেলের প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীদের এই মামলার শুনানিতে হাজির করতে পারেননি।

তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবেন।

এছাড়া এই আইনজীবী মি: আহমেদ বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘন্টা পরে পুলিশ মামলা না নেয়ার নির্দেশ এসেছে আদালতের পর্যবেক্ষণে।

এটি এ ধরনের ঘটনার শিকার যে কোন নারীর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে তারা মনে করছেন। সেজন্য তারা এই বিষয়টিও হাইকোর্টে তুলবেন।

তবে পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ বলেছেন, এটি আদালতের পরামর্শ, কোন নির্দেশনা নয়।

"আদালতের পরামর্শ হচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা এবং মামলা করা উচিত" জানান পাবলিক প্রসিকিউটর।

এদিকে, মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্তকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, সে ব্যাপারে সেই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।