আফগানিস্তান: কাবুলে বিক্ষোভকারীদের ওপর তালেবানের ফাঁকা গুলি

বিক্ষোভকারীদের ওপর তালেবানের গোলাগুলির দৃশ্য।
ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীদের ওপর তালেবানের গোলাগুলির দৃশ্য।
Published

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবান-বিরোধী একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে তাদের যোদ্ধারা ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

গোলাগুলির শব্দে আতংকিত লোকজন এদিক ওদিক পালাচ্ছে, একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের প্রতিবাদ, নারীদের অধিকার দাবি এবং তথাকথিত 'পাকিস্তানী হস্তক্ষেপে'র নিন্দা জানাতে কয়েকশো লোক এ বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে যত বিক্ষোভ হয়েছে তার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড়।

তালেবান শাসনের মধ্যেই শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন কাবুল শহরে।

আরও পড়তে পারেন:

তালেবান শাসনে নারী অধিকার ক্ষুন্ন হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, তালেবান শাসনে নারী অধিকার ক্ষুন্ন হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

গত সপ্তাহে কাবুলে একদল নারী বিক্ষোভ করেছিলেন, তবে মঙ্গলবার নারীদের সাম্য ও নিরাপত্তার দাবি নিয়ে বিক্ষোভে পুরুষরাও যোগ দেন।

কিছু বিক্ষোভকারী 'পাকিস্তান মুর্দাবাদ' বলে ধ্বনি দেয়।

এই বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছে যে ইসলামাবাদের সরকার তালেবান যোদ্ধাদের যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে এবং পাকিস্তানের বিমানবাহিনী পাঞ্জশেরে তালেবান-বিরোধীদের ওপর বোমা ফেলেছে, যদিও পাকিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে।

বিবিসির সংবাদদাতা সিকান্দার কেরমানি জানাচ্ছেন, কিছুদিন আগে পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান কাবুল সফর করায় আফগানিস্তানে অনেকেই আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকে দিচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা।
ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকে দিচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা।

সম্পর্কিত খবর:

তিনি বলছেন, এ পর্যন্ত কাবুলে তালেবানের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে যত বিক্ষোভ হয়েছে তার মধ্যে মঙ্গলবারের বিক্ষোভটি ছিল সবচেয়ে বড়।

বিক্ষোভে আসা একজন আফগান তরুণী বলেন, "আমরা মৃত্যুর ভয় করি না, আমরা বাক-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র চাই।"

এমন অভিযোগও উঠেছে যে বিবিসিসহ বেশ কিছু সাংবাদিককে এ ঘটনার ভিডিও তুলতে দেয়া হয়নি।

টোলো নামের একটি আফগান টিভি চ্যানেল বলছে, তাদের একজন ক্যামেরাম্যানকে আটক করা হয়েছে।

কাবুলে তালেবানের বিরুদ্ধে নারী বিক্ষোভকারীদের একাংশ।
ছবির ক্যাপশান, কাবুলে তালেবানের বিরুদ্ধে নারী বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

এর মধ্যেও ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায় যে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে, এবং পেছনে প্রচণ্ড গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

এর একদিন আগে তালেবান-বিরোধী যোদ্ধাদের নেতা আহমদ মাসুদ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, তার ভাষায়, একটি "জাতীয় অভ্যুত্থানের" জন্য বেসামরিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

line

আফগানদের দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে তালেবান

ওদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিংকেন বলছেন, তিনি তালেবানের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে যারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যেতে যেতে চায়, তাদের সাথে উপযুক্ত কাগজপত্র থাকলে তাদের যেতে দেয়া হবে।

মি. ব্লিংকেন এখন কাতারে রয়েছেন এবং আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনার কাজে কাতারি সরকার যে ভূমিকা রেখেছে, তিনি তার প্রশংসা করেছেন।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেছেন, কাবুল বিমান বন্দর কয়েকদিনের মধ্যেই চালু করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন এবং এ ব্যাপারে তালেবানের সাথে আলোচনা চলছে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: