ভারতে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা আসলে ঠিক কত? দ্য ইকোনমিস্টের দাবি মানছে না দিল্লি

সরকারি ব্যবস্থাপনায় চেন্নাইতে কোভিডে মৃত একজন ব্যক্তির সৎকারের কাজ চলছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চেন্নাইতে কোভিডে মৃত একজন ব্যক্তির সৎকারের কাজ চলছে
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ভারতে কোভিডে মৃত্যুর আসল সংখ্যা কত, তা নিয়ে সে দেশের সরকার আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্টে'র সঙ্গে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন একজন গবেষকের সমীক্ষাকে উদ্ধৃত করে ওই সাময়িকীটি বলেছিল, ভারত সরকার সে দেশে কোভিডে মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে আসল মৃত্যু তার চেয়ে অন্তত ছ-সাতগুণ বেশি হতে পারে।

এর জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ওই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণায় যে সব সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য নিয়ে সমীক্ষায় তাদের কোনও অভিজ্ঞতা পর্যন্ত নেই।

প্রসঙ্গত, গত মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধেও ভারত সরকার অনেকটা ঠিক একই ধরনের অভিযোগ এনেছিল।

কোভিড পরিস্থিতির রিপোর্টিং নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ভারত বারে বারেই বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে - দ্য ইকোনমিস্ট সেই তালিকায় সবশেষ সংযোজন।

Skip X post, 1
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post, 1

দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সাম্প্রতিক সংখ্যায় এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ভারতে কোভিডে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ২০ লক্ষেরও বেশি হতে পারে।

অথচ এই মুহুর্তে (শনিবার ১২ জুন পর্যন্ত) ভারতে কোভিড মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যান মাত্রই ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার।

ওই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছিল আমেরিকার ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার লেফলারের একটি গবেষণাকে।

ওই গবেষণায় তিনি ভারতের আটটি বড় রাজ্য বা মেট্রো শহরের তথ্য নিয়ে দেখেছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সেখানে 'অল কজ মর্টালিটি' বা সব ধরনের কারণে মৃত্যুর হার কতটা।

আরও পড়তে পারেন :

এলাহাবাদের কাছে গঙ্গাতীরে অগভীর গর্ত খুঁড়েই বহু কোভিড রোগীকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এলাহাবাদের কাছে গঙ্গাতীরে অগভীর গর্ত খুঁড়েই বহু কোভিড রোগীকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে

তারপর ২০২০র মার্চ থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়সীমায় 'অল কজ মর্টালিটি'র তুলনা করে তিনি বের করেছেন ওই সময়ে মৃত্যুর হার ঠিক কতটা বেড়েছে - যেটাকে বলা হচ্ছে 'এক্সেস মর্টালিটি' বা অতিরিক্ত মৃত্যু।

কোভিডে মৃত্যুর সরকারি হিসেব আর এই 'এক্সেস মর্টালিটি'র তুলনা করে দেখা যাচ্ছে দুটো হিসেব কিন্তু একেবারেই মিলছে না।

আর তার ভিত্তিতেই ক্রিস্টোফার লেফলার জানাচ্ছেন, দেশের আটটি অঞ্চলের হিসেব পুরো ভারতে প্রয়োগ করে তার উপসংহার হল - ২০২১র ৩১শে মে তারিখ পর্যন্ত ভারতে মহামারিতে ২১.৪ লক্ষ থেকে ২৬.২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

এই সংখ্যা ভারত সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের চেয়ে অন্তত ছয় থেকে সাতগুণ বেশি।

দ্য ইকোনমিস্ট তাদের প্রতিবেদনে এই বক্তব্য তুলে ধরার পরই শনিবার রাতে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তাদের প্রতিটি যুক্তি খন্ডন করার চেষ্টা করেছে।

Skip X post, 2
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post, 2

দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর তরফে জারি করা ওই বিবৃতিটি টুইট করেছেন।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রগুলোর 'সায়েন্টিফিক ডেটাবেসে' ইন্টারনেট সার্চ করেও ক্রিস্টোফার লেফলারের ওই গবেষণার কিন্তু কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি।

এমন কী, কী ধরনের বিশদ প্রক্রিয়া (ডিটেইলড মেথোডলজি) ব্যবহার করে ওই গবেষণাটি করা হয়েছে, দ্য ইকোনমিস্ট সেটাও কিছু জানায়নি।

ভারত সরকার আরও বলছে, ওই প্রতিবেদনটি আরও প্রশ্নবিদ্ধ এই কারণে যে সেখানে 'প্রশ্নম' ও 'সি-ভোটার' নামে ভারতীয় দুটি সংস্থার করা জরিপের ওপর নির্ভর করা হয়েছে - যে দুটি সংস্থাই 'সেফোলজি' বা নির্বাচন-সংক্রান্ত জরিপ বা গবেষণার জন্য পরিচিত।

অবশ্য প্রশ্নম ও সি-ভোটার দুটি সংস্থার ওয়েবসাইটে গেলেই দেখা যাচ্ছে, তাদের কাজের পরিধি সেফোলজির বাইরেও বিস্তৃত বলে তারা জানাচ্ছে।

মৃত কোভিড রোগীদের অস্থিপাত্র - যা পরিজনরা নিতে চাননি - কাবেরী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মৃত কোভিড রোগীদের অস্থিপাত্র - যা পরিজনরা নিতে চাননি - কাবেরী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে

ওদিকে মার্কিন গবেষক ক্রিস্টোফার লেফলার নিজেও তাঁর গবেষণাপত্রের একটি লিঙ্ক টু্‌ইট করেছেন - যাতে দেখা যাচ্ছে ওই পেপারটি 'রিসার্চগেট' ডেটাবেসে পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত যে কোভিডে মৃত্যুর আসল সংখ্যা লুকোতে চাইছে - আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়।

গত মাসেই দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, খুব কম করে ধরলেও ভারতে কোভিডে মৃত্যুর ঘটনা অন্তত ৬ লক্ষ হবে - আর সবচেয়ে খারাপ হলে সেটা ৪২ লক্ষ হওয়াও আশ্চর্য নয়।

ওই রিপোর্টটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন ভারতে কোভিডে মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যান ছিল মাত্রই ৩.১৫ লক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ওই রিপোর্টটিকেও 'ভিত্তিহীন ও সর্বৈব মিথ্যা' বলে খারিজ করে দিয়েছিল। এবারে অবশ্য আরও দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনকে তারা নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: