খসড়া আইন অনুমোদন, ডে সেন্টার থেকে শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল

ডে কেয়ার সেন্টারে অনেক বাবা মা এখন সন্তানদের রেখে কাজে যান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ডে কেয়ার সেন্টারে অনেক বাবা মা এখন সন্তানদের রেখে কাজে যান

আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকে 'শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১' এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সেখানে বলা হয়েছে, শিশুর কোনো অব্যবস্থাপনা হলে বা শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

ঢাকার বাসিন্দা সামিনা ইয়াসমিন তার সন্তানকে একটা দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ার সেন্টার রেখে অফিসে করেন।

ছয় মাস আগে তিনি বাসার সাহায্যকারীর কাছে রেখে যেতেন সন্তানকে। কিন্তু নিরাপদ বোধ না করায় তিনি এখন বাচ্চাকে একটি ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে যান।

তিনি বলছেন, কিছুটা চিন্তা থাকলেও ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে কাজে যেতে তিনি অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ বোধ করেন।

তিনি বলছিলেন "যদি পরিচিতজনদের মাধ্যমে হয়, বাসার কাছে হয়, বিশ্বস্ত হয় - তাহলে সন্তান রেখে কিছুটা নিরাপদ লাগে। কারণ তাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। এছাড়া বাসায় কাজের সাহায্যকারীর কাছে রাখলে বা অন্য কারো কাছে রাখলে নিরাপদ লাগে না"।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ঢাকা শহরে এমন চাকরিজীবী বাবা-মায়েরা চিন্তায় থাকেন সন্তানকে কার কাছে রেখে নিজের কর্মস্থলে যাবেন।

একক পরিবার হলে দু:চিন্তার কারণ আরো বেশি হয়। ডে কেয়ার সেন্টার বা শিশুদের দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো অর্থের বিনিময়ে শিশুদের দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে রেখে যত্ন করে।

বাংলাদেশ সরকার আজ এসব ডে কেয়ার সেন্টার গুলোকে একটা নিয়মের আওতায় আনার জন্য একটা খসড়া আইনে অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কোনো অব্যবস্থাপনা হলে বা শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

তিনি বলেছেন "যে পরিমাণ জেল জরিমানার কথা বলা আছে,তাতে বুঝতে পারবেন কতটা শক্ত বার্তা সবাইকে দেয়া হয়েছে"

নিরাপদ একটা ডে কেয়ার সেন্টার সব বাবা-মায়ের কাম্য

ছবির উৎস, Inhabitant/Getty

ছবির ক্যাপশান, নিরাপদ একটা ডে কেয়ার সেন্টার সব বাবা-মায়ের কাম্য

এ আইন প্রবর্তন হলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণীর কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার পাশাপাশি আইনানুযায়ী নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তবে বেসরকারিভাবে কতগুলো আছে সেই সংখ্যার সঠিক হিসেব পাওয়া যায়না।

ঢাকার শ্যামলীর ক্রিয়েটিভ ডে কেয়ার এন্ড প্রি স্কুল সেন্টারের মালিক অনন্যা সাহা বলছিলেন, অনেক সময় ডে কেয়ার সেন্টারের খরচের সাথে অভিভাবকদের মতের অমিল হয়। সেক্ষেত্রে সরকারের নজর দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন "যারা ছোট পরিসরে কাজ করছে এবং বাবা-মায়ের অনেক সময় সামর্থ্য থাকে না বড় ডে কেয়ার সেন্টারে রাখার, সেক্ষেত্রে সরকারকে সাহায্য করা উচিত"।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, এই আইন কার্যকরের ৬ মাসের মধ্যে সবাইকে নিবন্ধন করে নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।