ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন লক্ষাধিক, এশিয়াতে ইরানের ঠিক পরেই

উত্তরপ্রদেশের একটি জেলায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, উত্তরপ্রদেশের একটি জেলায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
  • Published

ভারতে মোট শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে – সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে সে দেশে এখন মোট করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ১৩৯।

মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় ভারত চীনকে ছাপিয়ে গিয়েছিল আগেই, এখন গোটা এশিয়াতে ভারতের অবস্থান একমাত্র ইরানের পরেই।

ভারতে লক্ষাধিক রোগী শনাক্ত হল এমন একটা সময়ে যখন দেশব্যাপী লকডাউন সবে চতুর্থ দফায় সম্প্রসারিত করা হয়েছে – তবে বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল করে।

ভারতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় এসে মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়াল।

এর মধ্যে প্রায় চল্লিশ হাজার রোগী অবশ্য সেরে উঠেছেন, আর মারা গেছেন ৩,১৬৩জন।

ভারতে গত তিন-চারদিন ধরে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা রোজ পাঁচ কি সোয়া পাঁচ হাজার করে বাড়ছে – আর আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মুম্বাই-সহ মহারাষ্ট্র, তামিলনাডু আর গুজরাট – এই রাজ্যগুলোতে।

রোগীর সংখ্যা যখন রোজ এভাবে হু হু করে বাড়ছে, তখনই কিন্তু চতুর্থ দফার লকডাউনে বেশ কিছু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড খুলে দিতে হয়েছে ভারতকে।

লকডাউন কতটা কাজে আসছে?

লকডাউনের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ ট্রেনের টিকিটের জন্য মরিয়া অভিবাসী শ্রমিকরা
ছবির ক্যাপশান, লকডাউনের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ ট্রেনের টিকিটের জন্য মরিয়া অভিবাসী শ্রমিকরা

ভারতের নামী এপিডেমিওলজিস্ট ও ভেলোরের সিএমসি-র সাবেক অধ্যক্ষ জয়প্রকাশ মুলিয়িল মনে করছেন, লকডাউন শিথিল করা হলে ভারতে অন্তত কুড়ি লক্ষ মৃত্যু ঘটতে পারে – কিন্তু লকডাউন বহাল রাখাটাও কম বিপজ্জনক নয়।

ড: মুলিয়িল বলছেন, "এখন অবধি যা মৃত্যু হয়েছে লকডাউন শুরুর আগে আমরা কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা করছিলাম।"

"মনে রাখবেন, জাপান এক সময় বলেছিল সে দেশে ৪.৮ লক্ষ প্রাণহানির সম্ভাবনা আছে – আর জাপানের চেয়ে আমাদের জনসংখ্যা দশগুণেরও বেশি।"

"সেই জায়গায় লকডাউন অবশ্যই আমাদের মৃত্যুর হার অনেক শ্লথ করতে পেরেছে, কিন্তু এটা তুলে নেওয়া মাত্র মৃত্যুর হিসেব আবার আগের জায়গায় পৌঁছে দিতেই পারে।"

"সমস্যা হল, লকডাউন আবার কোটি কোটি ভারতীয়কে আধপেটা বা অভুক্ত রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বাচ্চারা ডিপথেরিয়া বা হুপিং কাশির টিকা পাচ্ছে না।"

ভারত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনও মনে করছেন – লকডাউন যথেষ্ঠ ফলপ্রসূ হচ্ছে, কারণ এর আগে বিভিন্ন গাণিতিক মডেল ভারতে যত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা পূর্বাভাস করেছিল ভারত এখনও তার ধারেকাছেও পৌঁছয়নি।

গ্রাফ কি 'পিকে'র কাছাকাছি পৌঁছেছে?

তবে ভারতের করোনাভাইরাস গ্রাফ এখনও পিক বা শিখরের কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না, তা নিয়েই তীব্র মতভেদ আছে।

অনেক বিশেষজ্ঞই যেমন বলেছেন, ভারতে পরিস্থিতি সবচেয়ে সঙ্কটাপন্ন হতে জুলাই মাস হয়ে যেতে পারে।

বিহারের রাস্তায় পথচারীদের থার্মাল স্ক্রিনিং করছে মিলিটারি পুলিশ
ছবির ক্যাপশান, বিহারের রাস্তায় পথচারীদের থার্মাল স্ক্রিনিং করছে মিলিটারি পুলিশ

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যর অধ্যাপক ড: ভ্রমর মুখার্জি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন বেশ কিছুদিন ধরে।

তিনি নিজের ওয়েবসাইটে জানাচ্ছেন, "ভারতে পিক আসতে আসতে জুলাই হয়ে যাবে এটা কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি। তবে নানা ধরনের হস্তক্ষেপ কার্ভটা ফ্ল্যাটেন করতে সাহায্য করে এটাও আমরা জানি।"

"আমাদের প্রোজেকশন অনুযায়ী ভারতে ১লা জুলাই নাগাদ ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ রোগী হওয়ার কথা – যে পূর্বাভাস না-মিললে আমরা সবচেয়ে খুশি হব।"

"লকডাউন একটা গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারভেনশন, যা রোগীর সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে।"

"তবে বেশি সংখ্যায় পরীক্ষা করা, কন্ট্রাক্ট ট্রেস করা এবং চিকিৎসা করা – এই 'ট্রিপল টি' প্রিন্সিপল, অর্থাৎ টেস্ট, ট্রেস ও ট্রিটের কিন্তু কোনও বিকল্প নেই।"

ভারতে করোনা পজিটিভ রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার এখন ৩.০৭%, যেটা অবশ্য সারা দুনিয়ার গড়ের চেয়ে অনেক ভাল।

আমেরিকাতে মৃত্যুহার ৬.৫৭%, আর এই ভাইরাস সংক্রমণের সূত্রপাত যেখানে সেই চীনে মৃত্যুহার ৫.৫৬%।

গোটা দুনিয়াতে মৃত্যুহারও সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি – সেখানে ভারতে যে সেই হারে লোক মারা যাচ্ছে না, আপাতত এটাই একটা বড় সান্ত্বনা।