নাগরিকত্ব আইনে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হল না ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

নিসার আহমেদ
ছবির ক্যাপশান, নাগরিকত্ব আইনে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদনকারীদের একজন নিসার আহমেদ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সামনে অপেক্ষা করছেন শুনানি শেষ হবার জন্য।
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
  • Published

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের ওপর এখন কোনও স্থগিতাদেশ দিতে তারা যে রাজি নয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

‌ওই আইনের বিরুদ্ধে যে শতাধিক আবেদন আদালতে জমা পড়েছে, তার শুনানিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের বক্তব্য জানাতেও চার সপ্তাহের সময় দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি এস এ বোবডে-র নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ বুধবার জানিয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের বক্তব্য শোনার আগে তারা কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা বিবেচনাই করবেন না।

গত মাসে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সারা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অ্যাক্টিভিস্টরা আলাদা আলাদাভাবে যে সব আবেদন করেছিলেন, তার ১৪৪টিকে একত্রিত করে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার শুনানি শুরু হয়।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে সারা দেশ জুড়ে। মুম্বাই
ছবির ক্যাপশান, নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে সারা দেশ জুড়ে। মুম্বাই

আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল নাগরিকত্ব আইনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার ও ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টারের (এনপিআর) কাজ আপাতত বন্ধ রাখার দাবি জানান।

তবে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল জানান, আবেদনগুলোর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬০টির প্রতিলিপি সরকারকে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো পড়ে বক্তব্য জানানোর জন্য আরও সময় দরকার।

ভারতের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে সে দেশের সংখ্যালঘুরা যদি ভারতে চলে আসেন তাহলে তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবেন।

তবে হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রীষ্টানরা এই সুবিধা পেলেও মুসলিমরা এই আইনের আওতায় পড়ছেন না।

কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এনে এই আইন ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই লঙ্ঘন করছে, এই যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে বহু আবেদন জমা পড়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
ছবির ক্যাপশান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

এই আবেদনকারীদের মধ্যে কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিএম, সিপিআই-য়ের মতো বিরোধী দল যেমন আছে, তেমনি অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) মতো সংগঠনও আছে।

এছাড়া কেরালার রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, এআইএমআইএম নেতা ও হায়দ্রাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, তৃণমূলের এমপি মহুয়া মৈত্র, তামিল অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ কমল হাসনও অন্যতম আবেদনকারী।

এখন যে তিন সদস্যের বেঞ্চ আবেদনগুলি শুনছে, তাতে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও রয়েছেন বিচারপিতি এস আবদুল নাজির ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, এই বেঞ্চের আকার বর্ধিত করে পাঁচ সদস্যের করা হবে এবং সেই বর্ধিত বেঞ্চ এই প্রায় শ দেড়েক আবেদনের ওপর একটি অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করবে।

এদিকে গতকাল (মঙ্গলবার) লখনৌতে এক সমাবেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, "বিক্ষোভকারীরা যত খুশি প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু সরকার কিছুতেই এই আইন প্রত্যাহার করবে না।"