ভারতের ভোপালে গ্যাস বিষক্রিয়ার ঘটনার ৩৫ বছর

Published

ভারতের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড রাসায়নিকের একটি প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিষাক্ত গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনায় প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০০০ মানুষ প্রাণ হারায়। ভয়াবহ ফুসফুসের প্রদাহ থেকে শুরু করে আজীবন পঙ্গুত্বের মধ্যে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ এই শিল্প বিপর্যয়ের ৩৫ বছর কেটে গেছে। ফটোগ্রাফার জুদাহ পাসো ওই রাসায়নিক প্রকল্পের কিছু ছবি ধারণ করেছেন।

ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড রাসায়নিকের প্লান্ট
ছবির ক্যাপশান, ১৯৮৪ সালে ভারতের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড রাসায়নিকের একটি প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিষাক্ত গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনায় প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
শাকির আলী খান হাসপাতালে এক রোগী তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক্স-রে করছেন।
ছবির ক্যাপশান, শাকির আলী খান হাসপাতালে এক রোগী তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক্স-রে করছেন। বিস্ফোরণের ফলে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে অল্প বয়সেই তিনি এই রোগে আক্রান্ত হন।
হাসপাতালে রোগী।
ছবির ক্যাপশান, প্রায় ২০,০০০ মানুষ এই গ্যাসের প্রভাবে মারা গেছে। এখনও অনেকেই সেই ভয়াবহতার চিহ্নগুলি বহন করে চলছেন।
ব্লু মুন পাড়ার বাসিন্দা।
ছবির ক্যাপশান, পরিত্যক্ত ওই রাসায়নিক কারখানার সীমানা দেওয়ালের ঠিক বাইরেই দাঁড়িয়ে আছেন, ব্লু মুন পাড়ার বাসিন্দা। ১৯৮৪ সালে এই এলাকায় বসবাসকারী সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ এই গ্যাস লিকের ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছিল। যা ভোপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছিল।
হোস পাইপের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
ছবির ক্যাপশান, ওই অঞ্চলে এখনও হোস পাইপের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয় কারণ বিজ্ঞানী এবং ক্যাম্পেইনারদের দাবি যে কিছু রাসায়নিক মাটি এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে রয়ে গেছে।
ভোপালের শিশু
ছবির ক্যাপশান, ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন, বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায়, সেটার প্রভাবে এখনও ভোপালের অনেক শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করছে।
প্রাচি চাঙ
ছবির ক্যাপশান, প্রাচি চাঙ নামে এই শিশু সেরিব্রাল পালসি এবং মানসিক-বিকাশজনিত সমস্যায় ভুগছে। বিস্ফোরণের রাতে তার মা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
বাষ্প থেরাপি
ছবির ক্যাপশান, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার করে ভোপালের সম্ভাবনা ট্রাস্ট ক্লিনিকে এক রোগীকে বাষ্প থেরাপি দেয়া হচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্থদের সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হয়।
ভোপালের চিংগাড়ি ট্রাস্ট ফিজিকাল-থেরাপি ক্লিনিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের হাতের ছাপ।
ছবির ক্যাপশান, ভোপালের চিংগাড়ি ট্রাস্ট ফিজিকাল-থেরাপি ক্লিনিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের হাতের ছাপ।
ভোপালের ওড়িয়া পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় খেলছে শিশুরা।
ছবির ক্যাপশান, ভোপালের ওড়িয়া পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় খেলছে শিশুরা। ডোমিনিক ল্যাপিয়ের ফাউন্ডেশনের তহবিলে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাপিয়েরে এবং জাভিয়ের মোরোর লেখা "ভোপাল ফাইভ পাস্ট মিডনাইট" বইয়ের মুনাফা দিয়ে সম্ভাবনা ক্লিনিকও পরিচালনা করা হয়।
স্কুল
ছবির ক্যাপশান, তবে এই স্কুলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
ভোপালের রাস্তায় মিছিল
ছবির ক্যাপশান, ১৯৮৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঘটনার ন্যায্য বন্দোবস্ত হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেয়ার পক্ষে রায় দেন - তবে অনেকে মনে করেন যে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ এবং এই অঞ্চলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি। গত বছর এই দুর্ঘটনার ৩৪ তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিক্ষোভকারীরা ভোপালের রাস্তায় মিছিল করে।