রোহিঙ্গা সংকট: টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও’র তদন্ত হচ্ছে

২৫শে আগস্ট শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের বিশাল এক সমাবেশ।
ছবির ক্যাপশান, ২৫শে আগস্ট শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের বিশাল এক সমাবেশ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সরকারের উঁচু পর্যায়ের অনেকে।
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু দেশি-বিদেশি এনজিও'র কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমারে না ফেরার জন্য রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দেয়াসহ তিনটি অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসন এবং গোয়েন্দারা বেশ কিছু দেশি- বিদেশী এনজিও'র বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন।

পাশাপাশি, শিবিরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে কিনা তা নিয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বলেছে, পুরোনো একটি তালিকায় ৪১টি এনজিও কর্মকাণ্ডে নানান অভিযোগ এসেছিল। সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

সম্প্রতি দিনক্ষণ ঠিক করেও প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারা এবং এরপর রোহিঙ্গাদের একটি সমাবেশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনটি প্রশ্নে তদন্ত

নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে জানা গেছে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি এনজিওর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের তদন্ত করা হবে :

এক, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফেরত যেতে না চাওয়ার পিছনে কোন ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে কিনা।

দুই, সম্প্রতি শরণার্থী শিবিরের ভেতরে রোহিঙ্গাদের বড় একটি সমাবেশ করার ক্ষেত্রে অর্থ যোগান বা অন্যান্য সহযোগিতা করা হয়েছে কিনা ।

এবং তিন, শরণার্থী শিবিরের ভেতর রাষ্ট্রবিরোধী কোন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে কিনা।

এ তদন্ত করছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

রোহিঙ্গা শিবিরে তুরস্কের একটি এনজিও'র অফিসের সামসে এক রোহিঙ্গা নারী
ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গা শিবিরে তুরস্কের একটি এনজিও'র অফিসের সামসে এক রোহিঙ্গা নারী

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম বলেছেন, পুরনো একটি তালিকায় ৪১টি এনজিও বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গসহ নানান তৎপরতা চালানোর যে অভিযোগ এসেছিল, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

"৪১টার মতই আমাদের তালিকায় ছিল। আপাতত সেটিই আছে। নতুন যে প্রক্রিয়া চলছে বা সর্বশেষ যে ইস্যুগুলো এসেছে, তাতে সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে।"

কিছু এনজিও বন্ধ

সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরে মুক্তি নামের একটি এনজিও'র কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এই এনজিওটি জমি নিড়ানির জন্য বেশ কয়েক হাজার যন্ত্র তৈরি করেছিল। এসব যন্ত্র শিবিরে সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার হতে পারে এমন অভিযোগে সরকার তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এরও আগে গত কয়েকমাসে বিভিন্ন কারণে আরও ৬টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এগুলো দেশি এনজিও।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার দুই বছর পুরো হয় গত ২৫শে আগস্ট। দুই বছর পুরো হওয়ার সেদিন শিবিরে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছিল।

ঢাকায় রোহিঙ্গা নারীদের তৈরি জিনিসপত্রের একটি প্রদর্শনী
ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় রোহিঙ্গা নারীদের তৈরি জিনিসপত্রের একটি প্রদর্শনী

এর কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গাদের আপত্তির কারণে তাদের ফেরত পাঠানোর দ্বিতীয় দফার একটি চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সরকারের অনেকেই রোহিঙ্গাদের এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন বা উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তোলেন।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কে এম আব্দুস সালাম বলেছেন, বার বার সতর্ক করার পরও কিছু এনজিও বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে।

"গত বছর আমরা বার বার বলেছি যে, এনজিওরা মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এর বাইরে তারা যেন কোন কিছুতে না জড়ায়।"

"এখন বিভিন্ন দিক থেকে জানা গেছে যে, কিছু কিছু এনজিও তাদের ডিসকারেজ করেছে প্রত্যাবাসনে ব্যাপারে। আমরা খুঁজে দেখছি কারা এটা করেছে?"

রোহিঙ্গা শিবিরে ফরাসী এনজিও এমএসএফ-এর একটি ফিল্ড হাসপাতাল
ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গা শিবিরে ফরাসী এনজিও এমএসএফ-এর একটি ফিল্ড হাসপাতাল

কী বলছে এনজিওরা

কক্সবাজারে শিবিরগুলোতে ১৩০টির বেশি দেশি বিদেশী এনজিও কাজ করছে।

তাদের একটি ফোরামের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, এনজিওদের নিয়ে ঢালাও অভিযোগ করে ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত একটি এনজিও'র একজন কর্মকর্তা শিউলী শর্মা বলেন, ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করা উচিত।

"যাচাই করতে হবে। একজনে বললো নিয়ম ভঙ্গ করেছে, আর সবাই তাতে লাফাচ্ছে, বিষয়টি এমনই হয়েছে আর কি। এই অভিযোগ ঢালাওভাবে করা যাবে না। মানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে" - বলেন তিনি।