বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ডুবে যাবে আরও ৪ জেলা

বন্যার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
ছবির ক্যাপশান, বন্যার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
Published

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যাঞ্চলের আরো চারটি জেলা প্লাবিত হতে পারে। এ নিয়ে মোট ২২টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হবে।

বাংলাদেশের উত্তরের জেলারগুলোর মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা।

চিলমারীর একজন বাসিন্দা বসির আহমেদ বলছিলেন, এখন চিলমারী শতভাগ এলাকা বন্যা প্লাবিত।

"আমি যে বাড়িতে থাকি সেটি বেশ উঁচুতে। আমার বাড়িওয়ালা বলছেন ৮৮ সালের বন্যায় এই বাড়িতে পানি ওঠেনি," তিনি জানান, "কিন্তু আজ সকালে আমাদের বাড়িতে পানি উঠেছে। বাড়ির বাইরে কোমরের উপরে পানি।"

"ডিঙ্গি নৌকায় করে এই মাত্র আমার স্ত্রীকে একটা আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে এলাম।। চিলমারীর সব জায়গায় এখন পানি আর নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে" - বলছিলেন বসির আহমেদ।

কুড়িগ্রামের মতই দেশের মধ্যাঞ্চলের চারটি জেলা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্যায় প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তার বলছে, এসব জেলাগুলো হচ্ছে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ এবং রাজবাড়ী।

বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো.শাহেদ কাওসার জানান, উজান থেকে পানি বিভিন্ন নদনদী দিয়ে এখন এসব এলাকা প্লাবিত করবে।

তিনি বলছিলেন, "উজান থেকে যে পানিটা আসছে বিশেষ করে জামালপুর, কুড়িগ্রামের তিস্তা নদী - সেখান থেকে পানিটা এখন মধ্যাঞ্চলে চলে আসছে।"

গাইবান্ধায় শুকনো জায়গার সন্ধানে বানভাসী মানুষ।
ছবির ক্যাপশান, গাইবান্ধায় শুকনো জায়গার সন্ধানে বানভাসী মানুষ।

আরও পড়তে পারেন:

যে চারটি নতুন জেলা প্লাবিত হবে তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ফরিদপুরের।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা রহমান জানান, বন্যার পূর্বাভাসের পরেই তারা আশ্রয়কেন্দ্রসহ দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

মিজ রোকসানা বলছিলেন, "আমরা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই জেলার সংশ্লিষ্ট সকল অফিস মিটিং করেছি। ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া নিকটবর্তী স্কুলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ত্রাণের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলাগুলোতে শুকনা খাবার চাল পাঠানো হয়েছে। আরো যে চাহিদা রয়েছে সেটা আমরা ঢাকায় জানিয়েছি।"

বাংলাদেশের মোট ২২টি জেলা এখন বন্যাপ্লাবিত। তবে কত মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তার হিসেব এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, এ বছর বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, বিহার এবং মিয়ানমারে একই সময়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে বন্যার প্রকোপটা বেশি দেখা যাচ্ছে।

এমনিতে বাংলাদেশে জুলাই মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে এবং উজান থেকে নদীর পানির ঢলে বন্যা হয়।

পানি বাড়ার পরও নিজের ভিটামাটি ছাড়তে চাইছেন না অনেকেই।
ছবির ক্যাপশান, পানি বাড়ার পরও নিজের ভিটামাটি ছাড়তে চাইছেন না অনেকেই।

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক মো. ইফতেখারুল ইসলামের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রতি বছরই বন্যার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবছর কি তারা আগাম সতর্কতামূলক কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন?

জবাবে মি. ইসলাম বলেন, তারা বিষয়টা খতিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যা কবলিত এবং কালকের তুলনায় পরিস্থিতি আজ আরো খারাপ হয়েছে। কালিহাতিতেও বন্যা হচ্ছে।

"সেখানে তালিকা তৈরি করতে হবে কাদের ত্রাণসামগ্রী দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ত্রাণ পৌঁছাতে তো মিনিমাম একটা সময়ের প্রয়োজন। এখন যদি কেউ বলে ত্রাণসামগ্রী তারা পাচ্ছে না, বিষয়টা তেমন না। তারা অবশ্যই পাবে।"

এদিকে পূর্বাভাস কেন্দ্র জানাচ্ছে, যদি আবারো ভারী বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে এসব জেলায় আগামী দুই সপ্তাহ সময় পর্যন্ত বন্যার পানি থাকবে।

কেন্দ্র বলছে, যমুনা এবং পদ্মা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।