সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে 'গোয়েন্দা তথ্য ও সরকারি সিদ্ধান্তে'

বিজিবির জওয়ানরা হেটে যাচ্ছেন।
ছবির ক্যাপশান, বিজিবির জওয়ানরা হেঁটে যাচ্ছেন।
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে দীর্ঘ ২২ বছর পর হঠাৎ করেই ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

১৯৯৭ সালের পর এই প্রথম গতকাল রবিবার থেকে বিজিবির একটি প্লাটুন সেখানে অবস্থান নিয়েছে।

টেকনাফে বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বিবিসিকে জানিয়েছেন, 'গোয়েন্দা তথ্য ও সরকারি সিদ্ধান্তের' কারণে এটি করা হচ্ছে।

তিনি বলছেন, "২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার সাথে সাথে মাদকের একটা রুট, টেকনাফকে কেন্দ্র করে ইয়াবা পাচার বেড়ে গিয়েছে।"

"এই সবকিছু বিবেচনা করে গোয়েন্দা রিপোর্ট, সরকারি রিপোর্ট এবং আমরা নিজেরাও সবাই মিলে ফিল করছি [মনে করেছি] বিজিবি এখানে মোতায়েন দরকার।"

তিনি বলছেন, "বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে একটু দূরে এই দ্বীপটির নিরাপত্তা আমাদের জন্য বড় একটা বিষয়। তাই আমরা নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছি। ভারী অস্ত্রশস্ত্র সহই আমরা সেটা করেছি।"

কী ধরনের ভারী অস্ত্র?

'ভারী অস্ত্র' বলতে কী বোঝানো হয়েছে - সেটি বলতে চাননি তিনি।

সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, "একটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন যখন আসে তখন একটা নিরাপত্তা বাহিনী বা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী কী অস্ত্র মোতায়েন করেছে তা কখনোই ডিসক্লোজ করে না।"

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে?

টেকনাফের এই বিজিবির কর্মকর্তা বলছেন, "নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কিছু ঘটে নি। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ কোন চাপ যাতে আমাদের উপর তৈরি করতে না পারে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে ফোর্স ডেপলয় [মোতায়েন] করা হয়।"

তাহলে কি মিয়ানমারের তরফ থেকে কোন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে - সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তেমন কিছুই ঘটেনি'।

সেক্ষেত্রে এখন প্রশ্ন উঠছে কেন এতদিন পরে হঠাৎ বিজিবি এখানে অবস্থান নিয়েছে।

আরো পড়ুন:

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলছেন, "মাদকের অন্যতম রুট হিসেবে যেহেতু ঐ এলাকাটা ব্যবহৃত হয়। সেটা বন্ধ করতে হবে।"

"মালয়েশিয়াগামী যে সব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের যাতায়াত রোধ করতে হবে। চোরাচালান রোধ করাও একটা উদ্দেশ্য।"

তিনি জানান, "এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এখানে বিজিবি মোতায়েন হবে।"

রোহিঙ্গা সংকট
ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গাদের আগমনের সাথে সাথে মাদক চোরাচালানে রুট বেড়েছে বলে বিজিবির দাবি।

স্থানীয়রা কী বলছেন?

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একজন স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা মাস খানেক আগে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তিনি বলছেন, "স্থানীয়রা কেউ কেউ ভাবছে মিয়ানমারের তরফ থেকে কোন হুমকি তৈরি হল কিনা।"

মিয়ানমার মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল।
ছবির ক্যাপশান, মিয়ানমার মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল।

সেন্ট মার্টিন নিয়ে মিয়ানমারের দাবি

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যা বিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল বলে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করেছিলো।

এর প্রতিবাদ জানাতে সেসময় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, "মিয়ানমারের এই দাবির ব্যাপারে আমরা সবসময় অ্যালার্ট (সতর্ক)। এই ভূখণ্ড শুধুমাত্রই বাংলাদেশের, আগেও বাংলাদেশের ছিল, এখনো বাংলাদেশের আছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের থাকবে।"

"এই বিষয়টাকেও আমরা মাথায় রেখেছি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে আমাদের উপর কোন প্রেশার [চাপ] নেই, কোন হুমকি নেই ।"

অস্ত্র হাতে লাইন দিয়ে বিজিবির জওয়ানরা হেঁটে যাচ্ছেন এমন ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর সাথে 'প্রকৃত চিত্রের মিল নেই' বলে তিনি জানাচ্ছেন।

১৯৯৭ সালে কেন বিজিবি সেখান থেকে সরে এসেছিলো সেটিও জানা যায়নি।

অন্যান্য খবর: