বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যারা এসেছিলেন, যারা আসেননি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খানম।
ছবির ক্যাপশান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খানম।
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বঙ্গভবনে ঢোকার জন্য দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমছিল। প্রায় হাজার খানেক অতিথি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার বেশ আগেই দরবার হল পরিপূর্ণ।

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সংখ্যাই বেশি। আর ছিলেন সামরিক-বেসামরিক আমলা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

আওয়ামী লীগের যে সিনিয়র নেতারা এবার মন্ত্রিসভায় ডাক পাননি, তাদের অনেককেই দেখা গেছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। সামনের দিকের কাতারেই বসেছিলেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী। ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এম মুহিত।

তাদের অনেকেই ছিলেন বেশ গুরুগম্ভীর।

নতুন সংসদে যিনি বিরোধী দলীয় নেতা হতে চলেছেন, সেই সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদকে অনুষ্ঠান দেখা যায় নি। বলা হচ্ছে তিনি অসুস্থ। তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদও গরহাজির ছিলেন। চোখে পড়েনি জাতীয় পার্টির কোন প্রথম সারির নেতাকে। দেখা যায়নি বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কোন নেতাকেও।

একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্পধারার নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
ছবির ক্যাপশান, শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাম্যাবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া এবং জাসদের শিরিন আখতারকে দেখা গেছে। তবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেখা যায়নি অনুষ্ঠানে।

মন্ত্রিসভায় যারা শপথ নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নতুন এবং অপেক্ষাকৃতভাবে বয়সে তরুণ। তাদের অনেকেই ছিলেন উৎফুল্ল।

নবীন মন্ত্রীদের অনেকে সামনের কাতারে বসে থাকা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তাদের আশীর্বাদ চান।

সাহসী পদক্ষেপ

সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী মনে করেন একটা মন্ত্রিসভায় এত বেশি সংখ্যায় নবীন এবং তরুণদের জায়গা করে দেয়া, সেটা খুবই সাহসী একটা পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই সাহসী একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:

মন্ত্রিসভায় কেন মহাজোটের কোন শরিকদল থেকে কাউকে নেয়া হয়নি, সে প্রশ্ন উঠছিল রোববার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইঙ্গিত দিলেন, মন্ত্রিসভায় তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা এখনো আছে।

মন্ত্রিসভা থেকে যারা বাদ পড়েছেন: (উপরে বাম থেকে) তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরি, আমির হোসেন আমু, (নিচে বাম থেকে) নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেনন।
ছবির ক্যাপশান, মন্ত্রিসভা থেকে যারা বাদ পড়েছেন: (উপরে বাম থেকে) তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরি, আমির হোসেন আমু, (নিচে বাম থেকে) নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেনন।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত ছিল তার কথায়, "এখন হয়তো শরিকদের কেউ মন্ত্রিসভায় নেই, কিন্তু ভবিষ্যতে যে হবে না তা তো বলা যায় না।" তিনি মনে করেন, নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম এবং শেষ কাজ হবে দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা।

আওয়ামী লীগের প্রথম সারির ডাকসাইটে নেতারা যে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজী নন ওবায়দুল কাদের। তিনি এটিকে দেখছেন, নতুন করে দায়িত্ব বন্টন হিসেবে।

"কাউকে সরিয়ে দেয়া হয়নি বা বাদ দেয়া হয়নি। তারা দলের জন্য কাজ করবেন। দল গোছানোর কাজ করবেন।"

তিনি আরও বলছেন, সরকার এবং দল যেন দুটি আলাদা সত্তা বজায় রেখে চলে, সেটাও হয়তো কাজ করেছে এরকম একটি মন্ত্রিসভা গঠনের পেছনে।