ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রী অরিত্রীর মৃত্যু: 'শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়?'

প্রতিবাদ সমাবেশ
ছবির ক্যাপশান, ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
Published

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার পর স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিবিসি নিউজ বাংলার সংবাদদাতা নাগিব বাহার ঘটনাস্থল থেকে জানাচ্ছেন, সকালে অভিভাবক এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। তারা দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

এ সময় কিছুক্ষণের জন্য স্কুলের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, ''এর আগেও অভিভাবকদের সঙ্গে নানা কারণ ধরে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। অরিত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অমানবিক এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।''

অভিভাবক-শিক্ষকরা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুলের সব পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাই স্কুলের পরীক্ষা কার্যক্রম যথারীতি চলেছে।

সোমবার ঢাকার শান্তিনগর থেকে অরিত্রী অধিকারী নামে স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন:

ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
ছবির ক্যাপশান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ

পরিবারের অভিযোগ, রোববার পরীক্ষা চলার সময় অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার পর, সে নকল করছে, এমন অভিযোগে সোমবার বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সেখানে তাদের অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। মেয়েকে ছাড়পত্র নিয়ে যেতেও বলা হয়। এরপর বাড়ি এসে অরিত্রী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয় বলে জানান মি. অধিকারী।

ভিকারুননিসা স্কুলের সামনে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশান, ভিকারুননিসা স্কুলের সামনে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের বিক্ষোভ

তদন্ত কমিটি গঠন

সকাল ১১টার দিকে স্কুলে আসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

এ ঘটনাকে 'অত্যন্ত হৃদয়বিদারক' বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ''একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।''

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: