বড়দিনের বিজ্ঞাপনে বিপুল খরচ কতটা কাজে লাগছে?

বড়দিনের আগে লন্ডনের আলোকসজ্জা
ছবির ক্যাপশান, বড়দিনের আগে লন্ডনের আলোকসজ্জা
Published

বিলেতে সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাস বা বড়দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা পণ্যের বিজ্ঞাপনের বহর।

ব্রডকাস্ট, প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি এই বড়দিনের মরশুমে বিজ্ঞাপনের পেছনে শত শত কোটি পাউন্ড খরচ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু যাদের কথা ভেবে এই সব বিজ্ঞাপন, তাদের সঙ্গে কি এগুলো আদৌ 'কানেক্ট' করতে পারছে? আর তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ কি আদৌ বাণিজ্যিক বার্তা দেখতে উৎসাহ বোধ করে?

২০১৮ সালে ব্রিটেনে শুধু ক্রিসমাসের বিজ্ঞাপনের পেছনেই অন্তত ৬৪০ কোটি পাউন্ড খরচ করা হবে বলে প্রাথমিক অনুমান।

কিন্তু প্রশ্ন হল, মানুষ কি তাদের স্ক্রিনে এই বিজ্ঞাপনগুলো আদৌ মন দিয়ে দেখে?

রাস্তায় এক তরুণী ক্রেতা বলছিলেন, "বিজ্ঞাপনগুলোয় যদি কোনও একটা বার্তা থাকে একমাত্র তখনই সেটা নজর কাড়ে। আর ক্রিমসাসের সময় অবশ্যই সেই বার্তাটা হতে হবে ভালবাসার, আনন্দের, দান করার।"

"আমাকে ভেতর থেকে খুশি করতে না-পেরে যদি একটা বিজ্ঞাপন শুধুই একটা পণ্যের কথা বলে, আমার মনে হয় না সেটা কোনও ভাল বড়দিনের বিজ্ঞাপন বলে!"

লিভিটি-র গিলিয়ান জ্যাকসন
ছবির ক্যাপশান, লিভিটি-র গিলিয়ান জ্যাকসন

কারও কারও আবার এই বিজ্ঞাপনগুলো 'ম্যাজিকের মতো আকর্ষণীয়' লাগে - কারণ এগুলো মনে করিয়ে দেয় বড়দিন এল বলে! বড়দিনের পরিবেশ, আনন্দ তৈরি করে দেয় এগুলোই - কাজেই এগুলো অনেকেরই ভীষণ প্রিয়!

ক্রিয়েটিভ নেটওয়ার্ক লিভিটি-র গিলিয়ান জ্যাকসন বলছিলেন, এ বছর কিন্তু বিজ্ঞাপনদাতারা অনেক বেশি বৈচিত্র্য এনেছেন, যেটা খুবই কাঙ্ক্ষিত।

তার কথায়, "বৈচিত্র্যর ব্যাপারটা নিয়ে তারা এবার অনেক ভেবেছেন। আধুনিক পরিবারগুলোকে তারা সম্পূর্ণ আলাদা ভঙ্গীতে তুলে ধরছেন।"

"বিশেষ করে সেইন্সবারির যে বিজ্ঞাপনে সিঙ্গল মাদার ও তার সন্তানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে - কৃষ্ণাঙ্গ মা ও তার শিশুকে আমরা যেভাবে সেখানে দেখতে পাচ্ছি, গত কয়েক বছরে কিন্তু ওরকম একটাও বড়দিনের বিজ্ঞাপন হয়নি।"

কিন্তু এই যুগের অডিয়েন্সের যে ট্রেন্ড, বিজ্ঞাপনদাতারা কি তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন?

গিলিয়ান জ্যাকসনের কথায়, "আজকের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে মিডিয়াকে ব্যবহার করে সেটা বুঝতে কিন্তু তাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। মানুষ এখনও রিয়াল টাইম টিভি খুব কমই দেখে, আর দেখলেও বিজ্ঞাপনী বিরতিতে নিজের মোবাইল ফোন বা অন্য মিডিয়া ডিভাইসে চলে যায়।"

বড়দিনের আগে বিজ্ঞাপন। লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাস
ছবির ক্যাপশান, বড়দিনের আগে বিজ্ঞাপন। লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাস

"ব্র্যান্ডগুলো যদি সত্যিই তরুণদের সাথে এনগেজড হতে চায়, তাহলে তাদের এমন কিছু দিতে হবে যেটা ওই তরুণরা শেয়ার করতে পারে - আর ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের ওই স্পেসে ঢুকতে হবে।"

হাই স্ট্রিটে কেনাকাটা করতে আসা তরুণীরাও জানাচ্ছেন, যে কোনও অ্যাড টিভিরও আগে ফেসবুক পপ আপেই তাদের আগে চোখে পড়ে। এবং বিজ্ঞাপন তারা বেশি দেখেন মোবাইল বা হাতে ধরা ডিভাইসেই।

ব্রিটিশ কোম্পানি আইসল্যান্ড এবার পাম অয়েল উৎপাদনের প্রভাব নিয়ে যে বিজ্ঞাপনটি করেছিল, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ধারায় রেগুলেটররা সেটিকে নিষিদ্ধ করেছেন - কারণ মূল বিজ্ঞাপনটি ছিল পরিবশেবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের তৈরি।

গিলিয়ান জ্যাকসন কিন্তু তার পরেও বলছেন, "আইসল্যান্ডের ওই বিজ্ঞাপনটি প্রাসঙ্গিক ছিল কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ নিয়ে সবাই আজ মাথা ঘামাচ্ছেন।"

"এবং সবচেয়ে বড় কথা - তারা এমন একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছেন যা টিভিতে নিষিদ্ধ হলেও মানুষ কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে ঠিকই সেটি নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি করে শেয়ার করছেন।"

বড়দিনের মরশুমে অডিয়েন্সের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তাই চলছে নানা ধরনের চেষ্টা।