কেনিয়ার 'ভয়ংকর' এক পুলিশ কর্মকর্তার কাহিনী

কেনিয়া
ছবির ক্যাপশান, অপরাধ দমনের জন্য কেনিয়ার পুলিশের বিশেষ ইউনিট আছে।
Published

দিনের বেলায় শত-শত মানুষের সামনে কেনিয়ার এ পুলিশ কর্মকর্তা দুজন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গুলি করে হত্যা করছে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ভিডিও ভাইরাল হবার পর লাখ-লাখ মানুষ সেটি দেখছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাটিতে উপুর হয়ে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির পিঠের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে আছে সাধারণ পোশাক পরা এক পুলিশ কর্মকর্তা।

আরেকজন ব্যক্তি এসে একটি পিস্তল দিয়ে গেলে একের পর এক গুলি চালায় সে পুলিশ কর্মকর্তা। মৃত্যু নিশ্চয় করার জন্য যাবার সময় আরো কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে এ ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

সাদা পোশাকে যে পুলিশ কর্মকর্তা একের পর এক গুলি চালিয়ে দুজন সন্দেহভাজন অপরাধীকে হত্যা করেছে তাঁর নাম আহমাদ রশিদ।

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির শহরতলীর একটি এলাকায় অপরাধ নির্মূলের দায়িত্ব তার কাঁধে।

মি: রশিদ বলেন, " আমাদের কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এখানে অপরাধীদের যত নেতা আছে তাদের পাকড়াও করতে হবে যাতে এ এলাকায় কোন অপরাধ না ঘটে। সেটা তাদের জীবিত রেখে হোক, আর মৃতই হোক। কাজটা করতেই হবে। এখানে কোন ছাড় দেয়া যাবে না।"

নাইরোবি
ছবির ক্যাপশান, কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অপরাধ প্রবণতা বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মি: রশিদকে ভালোবাসেন।

নাইরোবির এক বাসিন্দা বলেন, "এ মানুষটি অপরাধীদের খুঁজে বের করে ধরছে এবং হত্যা করছে। সে কোন ঘুষ নেয় না।"

"আমরা তার জন্য মসজিদে বসে দোয়া করি। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুক। আমি তাদেরকে শতভাগ সমর্থন করি। তারা আমাদের এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে," বলেন আরেকজন বাসিন্দা।

তবে অনেকে মি: রশিদ এবং তাঁর দলের নিন্দা করছে। কেনিয়ার হিউম্যান রাইটস কমিশনের জর্জ মোরারা মনে করেন, বুলেট এবং বন্দুক দিয়ে বিচার করা যায়না। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত সে নির্দোষ।

মি: মোরারার মতে, "সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সংক্ষিপ্ত রাস্তা ব্যবহার করছি। কিন্তু আমি এটাকে খুব ভালোভাবে দেখছিনা। কারণ একটা সময় এ ধরণের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে।"

নাইরোবির রাস্তায় পুলিশের দ্বারা বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল করেছে একদল মানুষ।

এখানে যোগ দিয়েছিলেন লুসি, যার স্বামীকে পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ রশিদ গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন লুসি।

মাথারে বস্তি।
ছবির ক্যাপশান, নাইরোবির মাথারে বস্তি। এটি অপরাধীদের বড় আস্তানা বলে মনে করে পুলিশ।

মিস লুসি বলেন, " দুজন পুলিশ কর্মকর্তা একদিন বাড়িতে এসে আমার স্বামীকে বললো চলো। তারপর তাকে নিয়ে গেল। আমরা এখনো জানিনা তাঁর অপরাধ কী ছিল। আমার স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর আমরা সন্তানের জন্ম হয়। তার বয়স এখন ১৫ মাস। জীবন অনেক কঠিন"

পুলিশ বলছে এখন পুলিশ যখন গুলি করে তখন তার যুক্তিসংগত কারণ থাকে। সে ধরণের পরিস্থিতিতে পুলিশকে গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়।

আরও পড়তে পারেন:

কেনিয়ার পুলিশের মুখপাত্র চার্লস ওয়িনো বলছেন, " আইন খুব পরিষ্কার। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোন অবস্থায় তার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে সেটি বলা আছে। প্রথমত একজন পুলিশ সদস্য যখন নিজের জীবন রক্ষা করতে হয় এবং অন্য নাগরিকদের রক্ষা করতে হয় তখন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।"

পুলিশ যে যুক্তিই তুলে ধরুক না কেন, সমালোচকরা বলছেন পুলিশ যখন একই সাথে বিচারক এবং বিচারের রায় বাস্তবায়নের ভূমিকা পালন করে তখন সেটি বিপদজনক উদাহরণ তৈরি করছে বটে।