ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলিত প্রার্থীদের গুরুত্ব যে কারণে

রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই
ছবির ক্যাপশান, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই
Published

ভারতে আজ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে যাদের মধ্যে তারা দুজনেই দলিত সম্প্রদায়ের।

একজন বিহারের সাবেক গভর্নর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের রামনাথ কভিন্দ। আর অন্যজন লোকসভার সাবেক স্পিকার ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের মীরা কুমার।

বিবিসির সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ দিল্লি থেকে জানাচ্ছেন, সংখ্যার হিসেবে বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোর যা শক্তি, তাতে তারা বিরোধীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। ফলে মি. কভিন্দ বেশ এগিয়ে এবং তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।

বিহারের সাবেক গভর্নর রামনাথ কভিন্দকে মনোনয়ন দেয় বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।
ছবির ক্যাপশান, বিহারের সাবেক গভর্নর রামনাথ কভিন্দকে মনোনয়ন দেয় বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।

এছাড়া বিরোধী দলগুলো আরেকটা ধাক্কা খেয়েছে কারণ অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা নীতিশ কুমার এবং বিহারে ক্ষমতায় থাকা তার দল জনতা দল ইউনাইটেড এনডিএ'র মি. কভিন্দের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

তবে বিরোধী নেত্রী কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী রোববার বিরোধী দলের সাথে বৈঠকে বলেছেন, ভারতবর্ষের যে সংকীর্ণ ধর্মীয় মূল্যবোধ তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই নির্বাচনে বিরোধীদল প্রার্থী দিয়েছে এবং ধর্ম-নিরপেক্ষতার আদর্শ সমুন্নত রাখার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে।

এবার ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দুজন প্রার্থীই দলিত সম্প্রদায়ের।

শাসকদল এবং বিরোধী দল -দুই পক্ষেই আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলিত-ভক্তি সুসংহত করার ভাবনা যে কাজ করেছে, সেটি তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে স্পষ্ট।

অনেকেই বলছেন, রামনাথ কভিন্দকে মনোনয়ন দিয়ে বিজেপি এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে যে, ২০১৯ সালে ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তারা দলিতদের প্রবলভাবে পাশে চায়। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে গত নির্বাচনে বিজেপি অনেকগুলো আসন জিতেছে সেখান থেকে বিরাট সমর্থন আশা করছে আবারও।

আর সেকারণেই মি. কভিন্দকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে মীরা কুমারকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ের সমর্থনের বিষয়টি কাজ করেছে।
ছবির ক্যাপশান, বিরোধীদের পক্ষ থেকে মীরা কুমারকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ের সমর্থনের বিষয়টি কাজ করেছে।

আবার বিরোধী দলগুলোও যখন মীরা কুমারকে তার প্রতিদ্বন্বী হিসেবে নির্বাচন করেছে প্রার্থী করেছে তখন তারাও মনে করেছে, একজন দলিত প্রার্থীকে সমস্ত বিরোধী দল সমর্থন করবে এবং রাজনৈতিক বাধা ততটা দেখা দেবেনা।

এর আগে কে আর নারায়ণন, ছিলেন ভারতের প্রথম দলিত রাষ্ট্রপতি।

অন্যদিকে এর আগে বিজেপির কোনও সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হননি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি দল এবং তার আদর্শগত অভিভাবক আরএসএস দুপক্ষের দাবি ছিল একজন বিজেপি নেতাকে রাষ্টপ্রতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার জন্য।

আরও পড়ুন: