ডাইনোসর থেকে পাখি, পৃথিবীর চেয়েও বেশি পানি যেখানে

Published

উল্কাপিণ্ডের আঘাতে একসময় বৃহদাকার ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলো কিন্তু আজকের দিনে আমরা বড়ো আকারের যেসব পাখি দেখি, সেগুলো টিকে থাকার কারণ কি?

বিজ্ঞানীরা তা নিয়ে গবেষণা করে বলছেন, এর জন্যে পাখিরা ঋণী তাদের ঠোঁটওয়ালা পূর্ব পুরুষদের কাছে।

পাখির মতো দেখতে যেসব ডাইনোসর ছিলো, আর ছিলো দন্তহীন ঠোট, সেগুলো উল্কাপিণ্ডের আঘাতের পর, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ভেতরেও, বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছিলো।

এবিষয়ে সমীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের বেঁচে যাওয়ার মূল কারণ- ওইসব পাখির খাদ্যাভ্যাস।

বলা হয়, ১০ কিলোমিটার লম্বা এক উল্কাপিণ্ডের আঘাতের কারণে সূর্যের আলো নিভে গিয়ে, আমূল বদলে গিয়েছিলো পৃথিবীর জলবায়ু। ফলে মরে গিয়েছিলো সব গাছপালা। কোনো ফসলও হতো না।

আর তখনই তৃণভোজী ডাইনোসরগুলো খাদ্যের অভাবে এক এক করে মরে যেতে শুরু করলো। প্রাণ হারাতে শুরু করলো মাংসাশী ডাইনোসরও। এর এসবই ঘটেছিলো সাড়ে ছ’কোটিরও বেশি সময় আগে।

কিন্তু মাটিতে তো তখনও বিভিন্ন ফল মূল আর শস্যের বীজ পড়েছিলো। আর এসবের কারণেই পৃথিবী, সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠতে শুরু করার আগ পর্যন্ত, টিকে গিয়েছিলো পাখির মতো দেখতে দন্তহীন এসব ছোট ছোট ডাইনোসর।

বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, আমাদের চারপাশে আজ যেসব পাখি দেখি সেগুলো আসলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসরেরই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন ডেরেক লাসেন। কানাডায় ডাইনোসর সংক্রান্ত একটি জাদুঘরের গবেষক তিনি।

তিনি বলেন, “ডাইনোসর গ্রুপেরই একটি অংশ হচ্ছে পাখি, ঠিক যেভাবে মানুষকে বলা হয় স্তন্যপায়ী প্রাণী। ডাইনোসর গ্রুপটি আসলে খুব বড়ো একটি গ্রুপ। সাড়ে ছ’কোটি বছরেরও আগে, উল্কাপিণ্ডের আঘাতের পর যে অন্ধকার যুগের সৃষ্টি হয়েছিলো, তা শেষ হতে হতে এই পৃথিবী থেকে বেশিরভাগ ডাইনোসরও বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। তবে আজকের দিনে যেসব পাখি, সেগুলোর যারা পূর্ব পুরুষ তারা কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি। সারা পৃথিবী থেকে যখন বহু প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেলো তারপরেও সেগুলো বেঁচে যেতে সক্ষম হয়েছিলো। সেগুলোই তারপরে আজকের দিনের বিভিন্ন প্রজাতির পাখিতে পরিণত হয়।”

কিন্তু আজকের দিনে আমরা যেসব পাখি দেখি সেগুলোর সাথে তো ডাইনোসরের কোনো মিল নেই। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ওই প্রাণীটির যেসব হাড়গোড় পাওয়া গেছে তার চেয়েও বহুগুণে ছোট এসব পাখি। অন্যান্য আরো বড়ো ধরনের তফাতে আছেই।

বিজ্ঞানী ডেরেক লাসেন বলেন, কিছু কিছু ডাইনোসর আছে আজকের দিনের পাখির সাথে যেগুলোর বেশ ভালো রকমের সাদৃশ্য আছে। বিশেষ করে আমি যে ডাইনোসরটি নিয়ে গবেষণা করেছি তার সাথে। যেমন তারা দু’পায়ে হাটে। তাদের শরীরে পালক ছিলো। তাদের শরীরের আকৃতি ছিলো তুলনামূলকভাবে ছোট।”

“তবে পাখির মতো দেখতে যেসব ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেগুলোর সাথে যেসব পাখি টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে সেগুলোর বড়ো রকমের তফাৎ আছে। একটি পার্থক্য হচ্ছে দাঁত থাকা না থাকা। পাখির মতো দেখতে এসব ডাইনোসরের অনেকেরই তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁত ছিলো। মূলত খাবার হিসেবে পশুপাখি খেতেই তারা এই দাঁত ব্যবহার করতো। কিন্তু এগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ওইসব পাখি টিকে গেছে যেগুলোর লম্বা লম্বা ঠোট ছিলো।”

পাখির মতো দেখতে ডাইনোসরের জীবাশ্ম নিয়েই গবেষণা করেছেন এই বিজ্ঞানী। তিন হাজারেরও বেশি দাঁত তিনি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেগুলোর মাপ নিয়েছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন কোটি কোটি বছর ধরে এসব ডাইনোসরের দাঁতের আকার ও আকৃতিতে ঠিক কি ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।

ওই অন্ধকার যুগের শেষ প্রায় দুই কোটি বছরের দাঁত পরীক্ষা করে বলছেন, এক ধরনের ডাইনোসর যেগুলোর দাঁত ছিলো, সেগুলো উল্কাপিণ্ডের আঘাতের পরপরই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো।

কিন্তু আরেক ধরনের ডাইনোসর, যেগুলোর ছিলো লম্বা লম্বা ঠোট এবং উল্কাপিণ্ডের আঘাতের পরেও বহু সময় টিকে থেকেছে, সেগুলো আরো পরে ধীরে ধীরে কমতে কমতে বিলুপ্ত হয়েছে। আর সেগুলোই পরিণত হয়েছে আজকের দিনের পাখিতে।

আমাদের এই সৌরজগতেরই একটি গ্রহ- জুপিটার। আজ থেকে চারশো বছরেরও বেশি সময় আগে এই গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালেলেই।

সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে এটি পঞ্চম গ্রহ। সৌরজগতের সবচে বড়ো গ্রহও এটি। পৃথিবীর যেমন চাঁদ তেমনি, জুপিটারের উপগ্রহ আছে ৬৭টি। তার একটি ইউরোপা। জুপিটার থেকে প্রায় সাত লক্ষ কিলোমিটার দূরের একটি কক্ষপথে ঘুরছে এই উপগ্রহটি।

ইউরোপা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত খুব কমই জানা গেছে। জানা গেছে, এর উপরের স্তরে আছে বরফ। এবং তার নিচে যতো পানি আছে সেটা পৃথিবীর জলের চেয়েও বেশি।

এই উপগ্রহটি সম্পর্কে আরো তথ্য পেতে ইউরোপের মহাকাশ সংস্থা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর সাথে আছে অ্যামেরিকার নাসাও।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের দিকে জুপিটারের এই উপগ্রহে একটি মিশনও পাঠানো হতে পারে।

ইউরোপা মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে শুনুন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার:

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান