মিরাজ শেখকে আটক বা গুম করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: কোস্ট গার্ড
বাগেরহাটের মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সোমবার এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সেই অনুসন্ধানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক মিরাজ শেখকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ শেখের পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) অভিযোগ করে যে গত ১০ই এপ্রিল মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় সাড় চার মাস ধরে নিখোঁজ।
তবে কোস্ট গার্ড বলছে, ওই দিন জয়মনির ঘোল এলাকায় তাদের কোনো বিশেষ অভিযান ছিল না। সেদিন শুধু হারবারিয়া ইকো ট্যুরিজম এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর করা সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্ট গার্ড বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে আটক, অপহরণ বা গুম করার অভিযোগ ছিল না।
কোস্ট গার্ডের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা জানতে পেরেছে যে মিরাজ শেখ সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বনদস্যু চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল।
এছাড়া, মিরাজ শেখের বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করেন। পিসিপিআর যাচাইয়ে মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দুইটি মামলায় তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
কিছু ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে মিরাজ শেখের পরিবারকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অপপ্রচার পরিচালনায় সহায়তা করছে এবং মিরাজ শেখকে নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও বলেছে যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করে এবং তাদেরকে কখনও সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা বা আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হতে দেখা যায়নি।
এ নিয়ে আরও পড়তে পারেন...