মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনা ‘গণ অভ্যুত্থানের পর প্রথম গুম’, দাবি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের একজন জেলে ও মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাই প্রথম গুমের ঘটনা বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), ভুক্তভোগীর পরিবার ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থিত কোস্ট গার্ডের (হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশন) পন্টুনে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে নেওয়া হয়।
মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার "কিছু সময়ের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্ট গার্ড স্পিড বোট আসে, যেখানে সাত-আট জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন। তারা পন্টুনে উঠে মিরাজ শেখের সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে তাদের সঙ্গে বোটে নিয়ে চলে যায়।"
দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীসহ মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটেছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথম দিকে মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার কথা জানানো হলেও পরে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় গত ২৩শে এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। পরে মিরাজের সন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ই জুলাই হাইকোর্ট কোস্ট গার্ডকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে দ্রুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

