লাইভ, আট ঘণ্টায় প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ চলছে আজ সকাল থেকে। ভোটার তালিকা সংশোধন বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন', সংক্ষেপে 'এসআইআর'- নিয়ে বিতর্কের পর এই রাজ্যের প্রথম ভোট এটি। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়…

সরাসরি কভারেজ

  1. পশ্চিমবঙ্গে আট ঘণ্টায় ভোট পড়ল প্রায় ৭৯ শতাংশ

    ভোট দেওয়ার পর আঙুলে অমোচনীয় কালি দেখাচ্ছেন তিনজন নারী ভোটার
    ছবির ক্যাপশান, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিয়েছেন অনেকে

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত গড় ভোট পড়েছে ৭৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

    নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখাচ্ছে যে ভোট গ্রহণের আট ঘণ্টায় সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    এই আসনটি মুসলমান অধ্যুষিত এবং এই আসন থেকেই ভোটার তালিকায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছিল।

    অন্য যে দুটি আসনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছিল, সেই লালগোলা ও ভগবানগোলা আসন দুটিতেও যথাক্রমে প্রায় ৮৫ শতাংশ ও প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    ওই তিনটি অঞ্চলেই যখন বিবিসির সংবাদদাতারা গিয়েছিলেন, তখন দেখেছেন যে বহু পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্য থেকে শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি ফিরে আসছেন।

    এই তিনটি এলাকার মানুষদের মধ্যে একটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে এবারের ভোট না দিতে পারলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, তাই তারা কাজের পরোয়া না করেই বাড়ি ফিরেছেন।

    রাজ্যের বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী-দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়ছেন, সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে সবথেকে কম ভোটদানের হার পুরুলিয়া আসনটিতে। সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।

    বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

  2. 'আক্রান্ত' বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার, অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

    বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ও অগ্নিমিত্রা পাল

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ও অগ্নিমিত্রা পাল

    বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের হতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    বিজেপি অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলের একাধিক ভোটকেন্দ্র থেকে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টদের জোর করে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কর্মীরা।

    যখন মি. সরকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ২৪ নম্বর বুথে যান, তখন তৃণমূল কর্মীদের দ্বারা তাকে আক্রমণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু সরকারকে ধাওয়া করে হেনস্থা করছে কয়েকজনের একটি দল।

    অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বার্নপুর অঞ্চলের রহমতনগরে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

    হীরাপুর থানায় অভিযোগ করেছেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল।

    দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    হামলার শিকার অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িটি

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, হামলার শিকার অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িটি
  3. নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের

    মহম্মদ সেলিম- ফাইল ছবি।

    ছবির উৎস, LightRocket via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, মহম্মদ সেলিম- ফাইল ছবি

    কয়েকটি বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ মূলত শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই মনে করেন সিপিআই (এম)-এর মহম্মদ সেলিম। বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব অস্থিরতার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে তার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন।

    সিপিআই (এম)-এর রাজ্য সম্পাদক বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “এখনো পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে সামান্য সহিংসতা ছাড়া।”

    কিন্তু যে কয়টি বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে তার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন। তার কথায় এই ঘটনাগুলোয় “নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা স্পষ্ট”।

    এর মধ্যে একাধিক ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

  4. ভোট দিতে পারলেন না তালিকা থেকে বাদ পড়া মীর জাফরের সেই বংশধররা

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা

    ছবির উৎস, Shubham Dutta

    ছবির ক্যাপশান, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না ‘ছোটে নবাব’ হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা। তিনি হলেন মীর জাফরের বংশধর।

    তার ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জাসহ মীর জাফরের বংশের দেড়শোরও বেশি সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

    প্রথম দফায় এদিন মুর্শিদাবাদে ভোট গ্রহণ হলেও সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা, তার ছেলে এবং পরিবারের যে সব সদস্যদের নাম নেই, তারা ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।

    মুর্শিদাবাদের লালবাগের 'কেল্লা নিজামত' এবং তার আশপাশের অঞ্চলে বাস করেন মীর জাফরের বংশের সদস্যরা।

    তাদের পরিবার জানাচ্ছে, প্রাথমিক ভোটার তলিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে অনেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে তারা সব নথিপত্র জমাও দিয়েছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, তবুও তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ গিয়েছে।

  5. উত্তপ্ত নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে নজর রাখার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন

    নওদা থেকে ফিরে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর, সঙ্গে সমর্থকরা

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, নওদা থেকে ফিরে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর, সঙ্গে সমর্থকরা

    পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিন সকাল থেকেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে মুর্শিদাবাদে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ওই ঘটনার উপর সজাগ নজর রাখছে কমিশন।

    এই অস্থিতিশীলতার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপর চপিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধার পরে সিআরপিএফ ও পুলিশ রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    তবে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মীরা গণমাধ্যমকে বলেছেন যে মি. কবীরই 'সমাজবিরোধীদের' নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিলেন।

    ইতোমধ্যে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এফআইয়ার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসকর্মীরা।

    নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে মি. কবীর এলে তাকে ঘিরে প্রথমে 'গো ব্যাক' স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তারপর হুমায়ুন কবীরও প্রতিবাদে রাস্তার মাঝে বসে পড়েন।

    পরে মি. কবীর ওই এলাকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবীর আগে তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিধায়ক ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ গড়ার ঘোষণা করেন তিনি। তারপরেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এরপরে তিনি নিজের দল গড়েন। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের সঙ্গে এই ভোটের জন্য জোট গড়েছিলেন তিনি। তবে একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরে তার সঙ্গে মি. ওয়াইসি নির্বাচনী জোট ভেঙে দেন।

  6. পশ্চিমবঙ্গে ছয় ঘণ্টায় ৬২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে

    পূর্ব মেদিনীপুরের একটি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ
    ছবির ক্যাপশান, পূর্ব মেদিনীপুরের একটি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ

    চলছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। ১৫২টি কেন্দ্রে চলছে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব।

    ইলেকশন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর একটা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোট পড়েছে ৬২ দশমিক ১৮ শতাংশ যার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে।

    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে দুপুর ১টার মধ্যেই।

    ভোটার টার্নআউটের দিক থেকে এখন পর্যন্ত পিছিয়ে মালদা জেলা। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

  7. ‘ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের’- মোদী

    কৃষ্ণনগরের জনসভায় নরেন্দ্র মোদী

    ছবির উৎস, Narendra Modi/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, কৃষ্ণনগরের জনসভায় নরেন্দ্র মোদী

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ যখন চলছে, এরই মাঝে রাজ্য সফরে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন, যেখানে ২৯শে এপ্রিল ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

    ওই সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে। পাশাপাশি একদিকে যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তেমনই দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে তার ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

    তিনি বলেন, “গত পঞ্চাশ বছরে এটাই প্রথম নির্বাচন যেখানে সবচেয়ে কম সহিংসতা দেখা যাচ্ছে”।

    তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় বিশৃঙ্খলা দেখা যায় এবং সহিংসতাও হয়, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবারে তেমনটা হতে দিচ্ছে না।

    “আমি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আরো একবার লোকতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোট শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বড় কৃতিত্ব রয়েছে। আমি সরকারি করমচারীদেরও অভিনন্দন জানাচ্ছি কারণ তারাও নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন,” বলেছেন মি. মোদী।

    প্রধানমন্ত্রীকে এই সভায় রসিকতাও করতে দেখা যায়। তিনি বলেছেন, “বিজেপি জিতলে মিষ্টি বিতরণ করা হবে, ঝালমুড়িও বিতরণ করা হবে। শুনেছি ঝালমুড়িও অনেককে ব্যাপক ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের”।

    দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে স্থানীয় এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলসহ বিরোধীরা সেই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তারই জবাব দেন মি. মোদী।

  8. হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে ভোটগ্রহণের দিন ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ

    সংঘর্ষ থামাতে রাস্তায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, সংঘর্ষ থামাতে রাস্তায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী

    তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়নের কর্মীদের দফায় দফায় সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা বিধানসভা ভোট।

    সকাল থেকেই অস্থিতিশীলতার খবর সামনে আসছে। সকালে শিবনগরে ভোটকেন্দ্রের কাছেই বোমাবাজির খবর আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে।

    হুমায়ুন কবীর এলাকায় আসতেই তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে মি. কবীরকে ঘিরে 'গো ব্যাক' স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তারপর হুমায়ুন কবীরও প্রতিবাদে রাস্তার মাঝে বসে পড়েন।

    পরে মি. কবীর ওই এলাকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    কনভয়ের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পোলিং এজেন্টের গাড়িতে ইট নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় বিক্ষোভস্থল থেকে বেরিয়ে যান হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গোলমাল পাকানোর অভিযোগ তুলেছে।

    সকালে মুর্শিদাবাদেরই ডোমকল কেন্দ্রে সিপিআই (এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে পুলিশ। এর ফলে ২১৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে যেতে তারা বাধার মুখে পড়েন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পরে মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার আবেদন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

  9. নন্দীগ্রামে গিয়ে ভোটের যে চিত্র দেখলেন বিবিসি সংবাদদাতা

    নন্দীগামের একটি ভোটকেন্দ্রে দুজন নারী ভোটার
    ছবির ক্যাপশান, নন্দীগামের একটি ভোটকেন্দ্রে দুজন নারী ভোটার

    আজ সকালে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ময়ূরী সোম যখন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছান, ততক্ষণে প্রায় প্রতিটি পোলিং বুথের সামনেই ভোটারদের লম্বা লাইন পড়ে গেছে। পুরুষ ও নারীদের আলাদা আলাদা লাইন।

    প্রতিটা বুথের সামনেই আট-নজন করে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সিআরপিএফের জওয়ান পাহারায় মোতায়েন। প্রতিটা দলেই নারী সিআরপিএফ সদস্যরাও রয়েছেন।

    ময়ূরী জানাচ্ছেন, “আমি যখন নন্দীগ্রামে পৌঁছাই, তখন কোথাও কোনো উত্তেজনার ছিটেফোঁটা নেই। প্রচন্ড রোদ আর সাঙ্ঘাতিক গরম, তারপরেও ফুরফুরে মেজাজে ভোট হচ্ছিল। প্রতিটা বুথের সামনেই বেশ লম্বা লাইন। ”

    “বয়স্ক মানুষরা টোটাতে (ব্যাটারিচালিত যান) চেপে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসছিলেন। তবে তাদের টোটো পোলিং স্টেশন থেকে মোটামুটি পঞ্চাশ পা দূরেই থামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। বাকিটা পথ তারা হেঁটে আসছিলেন।”

    সাধারণ মানুষরা অনেকেই সাইকেলে, মোটরবাইকে বা পায়ে হেঁটেও ভোট দিকে আসছিলেন।

    “পোলিং বুথের বাইরে বড় বড় ব্যানার টাঙানো, যাতে লেখা 'আপনারা রয়েছেন ওয়েবকাস্টিং আর সিসিটিভি নজরদারির আওতায়!' এমনভাবে সেগুলো টাঙানো যাতে তা ভোটারদের চোখ এড়ানোর জো নেই,” জানান ময়ূরী।

    বিবিসির সংবাদদাতা আরও বলছিলেন, ভোটকেন্দ্রে সিআরপিএফ বাহিনী মোতায়েন ছিল গতকাল থেকেই। আজ সকালে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর কড়াকড়ি আরও বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

    ভোটের লাইন দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই জানালেন, বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের যাতে লাইনে দাঁড়াতে না হয়, নিরাপত্তা বাহিনীই সেটা নিশ্চিত করছে এবং তাদের আগেভাগে ভোট দেওয়ানোর ব্যবস্থা করছে।

    তবে নন্দীগ্রামের তরুণ ভোটাররা অনেকেই বললেন, প্রায় দুই ঘণ্টার ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারা ভোট দিতে পেরেছেন।

    নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তারই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী পবিত্র কর, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী।

    শুভেন্দু অধিকারী গতবার (২০২১ সালে) এই নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে কয়েকশো ভোটে হারিয়েছিলেন।

    নন্দীগ্রাম আসনে একটি পোলিং বুথের সামনে ভোটারদের লাইন
    ছবির ক্যাপশান, নন্দীগ্রাম আসনে একটি পোলিং বুথের সামনে ভোটারদের লাইন
  10. ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতা দখলের লড়াই

    নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ - তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি
    ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ - তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট শাসক ও বিরোধী- সব পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এই নির্বাচন ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, তেমনই বিরোধী বিজেপির কাছে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা।

    মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার বিধানসভা ভোটে জিতেছে।

    উপনির্বাচন মিলিয়ে ২০২১ সালে ২১৫টা আসন তাদের দখলে ছিল। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির ঝুলিতে প্রাথমিকভাবে ৭৭টি আসন ছিল।

    পরবর্তীতে উপনির্বাচনের পর তা কমে ৭৫-এ দাঁড়ায়।

    অন্যদিকে, বাম দলগুলো বা কংগ্রেসের কেউই বিধানসভায় আসন পায়নি। বিধানসভা নির্বাচনের পরে একাধিক বিজেপি বিধায়ক দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।

  11. বড় ইস্যু এসআইআর, আরো যেসব বিষয় ভোটে প্রভাব রাখতে পারে

    বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিবেচনার পরে বাদ গেছে লাখ লাখ নাম
    ছবির ক্যাপশান, বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিবেচনার পরে বাদ গেছে লাখ লাখ নাম

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে উঠে এসেছে একাধিক ইস্যু। তবে সবথেকে বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ভোটার তালিকায় সংশোধন বা এসআইআরের বিষয়টি।

    নিবিড় সংশোধনের পরে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুসলমান অধ্যুষিত আসন - মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জে।

    সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট বৈধ নথি দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। যেসব ভোটার বাদ পড়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রথম দফা ভোটগ্রহণের এলাকার মাত্রই ১৩৯ জন ভোটারের নাম তালিকায় তুলেছে ট্রাইবুনাল।

    বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির তথ্য প্রকাশ করেছে।

    এসআইআর এবং এই প্রক্রিয়ার পর বাদ যাওয়া নামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দান যেমন সরগরম হয়েছে তেমন নাগরিক সমাজও সরব হয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা, নারী-সুরক্ষা, দুর্নীতিসহ অন্যান্য বিষয়ও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে ইন্টার্ন- চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা, কলকাতার এক আইন কলেজে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ এবং পুরসভায় কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতিসহ একাধিক ঘটনায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে যার জেরে ‘অস্বস্তিতে’ পড়তে হয়েছে মমতা ব্যানার্জীর দলকে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া এবং হেনস্তার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে বলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়েছে।

  12. বুথের বাইরে অন্য ‘মুডে’ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা

    দার্জিলিং-এর ভোটকেন্দ্রে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হয়

    ছবির উৎস, Election Commission of India/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, দার্জিলিং-এর ভোটকেন্দ্রে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হয়

    পশ্চিমবঙ্গের একটি ভোট গ্রহণ বুথের বাইরে দেখা মিলল কয়েকজন ‘বিশেষ অতিথির’।

    দার্জিলিং-এর একটি মডেল পোলিং স্টেশনে বুথের দেখা গেছে কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষককে; একই ছবি ধরা পড়েছে কার্শিয়াং-এর একটি বুথেও।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট কেমন হচ্ছে, তা দেখতে এসেছেন তারা।

    এই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    তবে ভোটের বুথের বাইরে তাদের অন্য ‘মুডে’ দেখা যায়। এই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়।

    বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরও দেখা গেছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে

    ছবির উৎস, Election Commission of India/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরও দেখা গেছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে
    কার্শিয়াং-এর একটি বুথে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হচ্ছে

    ছবির উৎস, ECISVEEP/X

    ছবির ক্যাপশান, কার্শিয়াং-এর একটি বুথে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হচ্ছে
    কার্শিয়াং-এর একটি বুথের ছবি।

    ছবির উৎস, ECISVEEP/X

    ছবির ক্যাপশান, কার্শিয়াং-এর একটি বুথের ছবি
  13. আজ কতক্ষণ পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে পশ্চিমবঙ্গে?

    পশ্চিমবঙ্গের একজন ভোটার

    ছবির উৎস, CEO West Bengal/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমবঙ্গের একজন ভোটার

    পশ্চিমবঙ্গে ১৫২টি বিধানসভা আসনে সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশন এটাও জানিয়েছে যে অঞ্চল বিশেষে এই সময়সীমার কিছু হেরফের ঘটতে পারে।

    সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যারা ভোটেকন্দ্রের লাইনে থাকবেন, ভোটের সময় পার হয়ে গেলেও তারা ভোটদানের সুযোগ পাবেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন ও সব দলের পক্ষ থেকে জনগণকে সকাল সকাল ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

  14. তামিলনাড়ুতেও চলছে বিধানসভা ভোট

    তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের সবকটিতেই এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের সবকটিতেই এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ

    পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ভোট চলছে হচ্ছে আজ।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা ভোট গ্রহণ হলেও তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনে এই একটি দফাতেই ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

    এই ভোটে তামিলনাড়ুর চার হাজার ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই ভোটের ফল জানা যাবে চৌঠা মে।

    ২০২১ সালের দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১৫৯টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্য সরকার গঠন করে এবং এম কে স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

    সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ৬৬টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠে। এই দলের নেতা এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

    চলতি বছরের বিধানসভা ভোটে কে জয়ী হন সেই দিকে সকলের নজর রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

    চেন্নাইয়ের একটি বুথের ছবি।

    ছবির উৎস, AFP via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, চেন্নাইয়ের একটি বুথের ছবি
  15. ভোটগ্রহণের শুরুতেই বুথে এলেন 'হেভিওয়েট' প্রার্থীরা

    সকাল সকাল ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা। ভোট দিয়ে রাজ্যবাসীকে ভোট দিতে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন সব দলের প্রার্থীই।

    নন্দীগ্রামের ভোটকেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী

    ছবির উৎস, PTI

    ছবির ক্যাপশান, নন্দীগ্রামের ভোটকেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী

    নিজের বাসস্থান কাঁথি থেকে নন্দীগ্রাম এসে নন্দনায়কবর প্রাইমারি স্কুলে নিজের ভোট দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

    গতবার ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এই কেন্দ্রে তার প্রতিপক্ষ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর।

    অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী যেখানে তার প্রতিপক্ষ মমতা ব্যানার্জী। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯শে এপ্রিল।

    ভোট দিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব

    ছবির উৎস, PTI

    ছবির ক্যাপশান, ভোট দিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব

    অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি কেন্দ্র ভোট দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব।

    ২০১১ ও ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ির পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন গৌতম দেব।

    অবশ্য ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জীর কাছে পরাজিত হন। এবার তিনি শিলিগুড়ি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। মূল প্রতিপক্ষ বিজেপির শঙ্কর ঘোষ।

    ভোটকেন্দ্রে মৌসম নূর

    ছবির উৎস, PTI

    ছবির ক্যাপশান, ভোটকেন্দ্রে মৌসম নূর

    মালদার ইংরেজবাজার কেন্দ্রে নিজের ভোট দিলেন মালদার কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর। তার সঙ্গে ছিলেন মালদার কংগ্রেস এমপি ইশা খান চৌধুরী। দুজনেই মালদার রাজনৈতিকভাবে প্রতিপত্তিশীল গনি খান চৌধুরি ও আবু হাসেম খান চৌধুরির পরিবারের সদস্য।

    পরিবারের সবাই কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৯ সালে মৌসম নূর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে ফের ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসে ফিরে যান তিনি।

    ভোট দিয়ে তার বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে "ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখাকেই" তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।

  16. ভোটের যেমন চিত্র দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ সকাল থেকে।

    সকাল সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট নেওয়া শুরু হয়, তবে তারও আগে ভোর থেকেই প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সামনে ভোটযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখান নির্বাচন কর্মকর্তারা।

    ভোটকর্মীরা ভোটকেন্দ্রগুলোয় পৌছে যান গত রাতেই।

    অন্যদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লাইন চোখে পড়ছে।

    পাঠকদের জন্য রইল ভোটগ্রহণ শুরুর কিছু ছবি-

    ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখে তা মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকার সঙ্গে

    ছবির উৎস, Subham Dutta

    ছবির ক্যাপশান, মুর্শিদাবাদে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখে তা মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকার সঙ্গে
    মুর্শিদাবাদের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে নারী ভোটারদের লাইন।

    ছবির উৎস, Subham Dutta

    ছবির ক্যাপশান, মুর্শিদাবাদের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে নারী ভোটারদের লাইন
    শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ

    ছবির উৎস, Subham Dutta

    ছবির ক্যাপশান, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে- এটা নিশ্চিত করতে ভোটারদের আঙুলে লাগানো হচ্ছে অমোচনীয় কালি
    রাজ্যের সব আসনে ভোট গ্রহণের ওপরে নজরদারি চলছে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে

    ছবির উৎস, CEO - West Bengal / X

    ছবির ক্যাপশান, রাজ্যের সব আসনে ভোট গ্রহণের ওপরে নজরদারি চলছে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে, একেবারে ডানদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল
    'গণতন্ত্রের উৎসবে আপনাকে স্বাগত'- বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে এই বার্তা লেখা ব্যানার লাগিয়েছে নির্বাচন কমিশন, কুচবিহার শহরে একটি কেন্দ্রের ছবি

    ছবির উৎস, CEO - West Bengal / X

    ছবির ক্যাপশান, 'গণতন্ত্রের উৎসবে আপনাকে স্বাগত'- বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে এই বার্তা লেখা ব্যানার লাগিয়েছে নির্বাচন কমিশন, কুচবিহার শহরে একটি কেন্দ্রের ছবি
  17. প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ

    উত্তরবঙ্গের একটি ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন

    ছবির উৎস, CEO - West Bengal / X

    ছবির ক্যাপশান, উত্তরবঙ্গের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের লাইন

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম পর্বের ভোটে।

    ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যে ছয়টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ইভিএম মেশিন কাজ না করায় ভোট গ্রহণ শুরু হতে বিলম্বের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে ১৫২টি কেন্দ্রে মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১৬৭ জন।

    আগামী ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফা ভোট এবং চৌঠা মে ফল প্রকাশ করা হবে।

  18. ঝাড়্গ্রামে বুথের কাছে হাতি

    ঝাড়গ্রামে একটি বুথে কাছাকাছি চলে আসে একটি হাতি

    ছবির উৎস, PTI

    ছবির ক্যাপশান, ঝাড়গ্রামে একটি বুথে কাছাকাছি চলে আসে একটি হাতি

    ঝাড়গ্রামের একটি বুথের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল একটি হাতি।

    বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ওই হাতিটি, যার নাম রামলাল।

    তাকে ঘিরে উৎসাহী মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে বন দফতরকে খবর দেওয়া হয় এবং হাতিটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন বন দফতরের কর্মীরা।

  19. পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণের প্রথম পর্বের শুরুতেই বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ-বিশৃঙ্খলা

    মালদার একটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীরা

    ছবির উৎস, ANI

    ছবির ক্যাপশান, মালদার একটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীরা

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে সিপিআই (এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ২১৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে যেতে পারছেন না স্থানীয়রা।

    মুর্শিদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরে মাইকিং করে মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার আবেদন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

    অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলারই নওদা বিধানসভার শিবনগরে ভোটকেন্দ্রের কাছেই বোমাবাজির খবর এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দুই পক্ষের মধ্যে বিশৃ্ঙখলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন হুমায়ুন কবীর নিজেই।

    মালদা জেলার মোথাবাড়িতে ইভিএম মেশিনে সমস্যার জেরে প্রায় সাড়ে আটটা পর্যন্ত বন্ধ ছিল ভোটগ্রহণ। পরে সেক্টর অফিসার কেন্দ্রে এলে তার বিরুদ্ধে কর্তব্যে দেরির অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। তাকে ঘিরে দেখানো হয় বিক্ষোভও।

    নির্বাচন কমিশন সুত্রে খবর, সমস্যা মিটিয়ে নিয়ে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।

  20. ভোটের শুরুতেই রাহুল গান্ধীর বার্তা

    রাহুল গান্ধী।

    ছবির উৎস, Rahul Gandhi/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, রাহুল গান্ধী।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ শুরুর আগে বুধবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তিনি ওই বার্তা পোস্ট করে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভাই ও বোনেরা, এই আদর্শের লড়াইয়ে একমাত্র কংগ্রেসই বিজেপিকে হারাতে পারে। ওরা (বিজেপি) অধিকার কেড়ে নেয়, আমরা দিই। ওরা সংবিধান ধ্বংস করে, আমরা রক্ষা করি”।

    “ওরা ভারতের বৈচিত্র্য মুছে ফেলতে চায়, আমরা বাংলাসহ প্রতিটি সংস্কৃতি ও প্রতিটি ভাষাকে সম্মান করি”।

    পাশাপাশি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেও বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

    চলতি সপ্তাহে শ্রীরামপুর, মেটিয়াবুরুজ এবং কলকাতায় তার সভা করার কথা রয়েছে। সভার অনুমতি মেলা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।