লাইভ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

শান্তি আলোচনা করতে পাকিস্তানে আসা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। অন্যদিকে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের। সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ জানতে যুক্ত থাকুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা: আলোচনায় কী আশা করা হচ্ছে?

    ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন

    ছবির উৎস, Iranian Foreign Ministry/EPA

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার আগে দুই দেশ দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, এই সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল চালু থাকবে।

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, ‌একে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি” বলে বর্ণনা করেছেন।

    ইরানের প্রস্তাব বা ওয়াশিংটনের ১৫ দফা পরিকল্পনা, কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, যদিও এসবের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ দফা পরিকল্পনায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার “পূর্ণ প্রতিশ্রুতি”, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও স্থগিত সম্পদ মুক্ত করা, এবং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন বাবদ “পূর্ণ ক্ষতিপূরণ” দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  2. শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হতে পারে, বলছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, সোরুশ নেগাহদারি, বিবিসি মনিটরিং

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা নিয়ে লাগানো বিলবোর্ড

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা নিয়ে লাগানো বিলবোর্ড

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক সংবাদদাতা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ইরানের স্বার্থ রক্ষা হয় না এমন আলোচনা থেকে সরে আসাও ইরানের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য

    ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি রিপোর্টিং করা ওই প্রতিবেদক আরো জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবে।

    এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের সময়সহ অন্যান্য বিস্তারিত বিষয়ে পরিষ্কার হবে এবং ইতোমধ্যেই সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে বারবার ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।

    সেখানে আরো বলা হচ্ছে, ইরান এখন তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের শর্ত পূরণ না হলে তারা আলোচনা ছাড়াও এগিয়ে যেতে পারে।

  3. যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে- ইরান থেকে প্রচারিত খবরে দাবি, আজাদে মোশিরি, দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ থেকে

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে
    ছবির ক্যাপশান, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা কীভাবে এগোবে এবং আদৌ দুই পক্ষ মুখোমুখি বৈঠকে বসবে কি না—তা স্পষ্ট করে বোঝা কঠিন।

    তবে পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্রের কাছ থেকে আমরা একটি হালনাগাদ তথ্য পেয়েছি। ওই সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মধ্যাহ্নভোজের সময় ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    আগের দফার আলোচনার মতো এবারও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক কক্ষে এবং এরপর ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অন্য কক্ষে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।

    প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কোনো অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এমন ব্যবস্থার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, যিনি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেছেন—আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের আটকে রাখা সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হতে হবে।

    ইরান থেকে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে সেটি হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

    আর এটি যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে ব্যাখ্যা করা একটি জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হবে।

    উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ১০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ইরানি তহবিল ও হিমায়িত সম্পদ মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

  4. পাকিস্তানে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলে গুরুত্বপূর্ণ যারা আছেন

    ইরানি প্রতিনিধি দলে মোট ৭১ জন সদস্য রয়েছেন

    ছবির উৎস, EPA/Shutterstock

    ইরানি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইরানের সেই প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে গেছেন।

    তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলে রয়েছেন:

    • মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান
    • আব্বাস আরাঘচি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    • রেজা আমিরি মোগাদাম, পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত
    • আলি আকবর আহমাদিয়ান, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য
    • আলি বাগেরি কানি, ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের সদস্য
    • এসমাইলি আহমাদি মোগাদাম, ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট
    • মোহাম্মদ জাফারি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সহকারী সচিব
    • আবদোল নাসের হেম্মাতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর
    • কাজেম গরিবাবাদি, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    • মাজিদ তাখত রাভাঞ্চি, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    • ভালিউল্লাহ নুরি, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    • ইসমাইল বাগাই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
    • আবোল ফজল আমুয়েই, পার্লামেন্ট সদস্য
    • মাহমুদ নাবোয়ান, পার্লামেন্ট সদস্য
    • মেহদি মোহাম্মাদি, পার্লামেন্ট স্পিকারের কৌশলগত উপদেষ্টা

    সংবাদ মাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, এই ইরানি প্রতিনিধি দলে মোট ৭১ জন সদস্য রয়েছেন। এতে মূল আলোচক দল ছাড়াও বিশেষজ্ঞ দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন।

  5. ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

    ছবির উৎস, Anadolu Agency via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

    পাকিস্তান সরকারের সূত্র বিবিসি ঊর্দুকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

    ইরানি প্রতিনিধি দল ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন জানিয়েছে, এই বৈঠকটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  6. 'অঞ্চলের এক অংশকে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে আরেক অংশের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না', ক্যারোলিন ডেভিস, বিবিসি নিউজ, ইসলামাবাদ

    পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল বিবিসিকে বলেন, "ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।"

    তার মতে, "এই প্যাকেজে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ থাকা উচিত, অর্থাৎ আলোচনা চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান আশা করে যে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট করবে না।"

    আহসান ইকবাল বলেন, "অঞ্চলের এক অংশ রক্তে ভেজা থাকবে আর অন্য অংশ আলোচনার অধীনে থাকবে, এটা হতে পারে না। আমি মনে করি ইসরায়েলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আলোচনার আগে কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত হবে না।"

    তিনি আরও জানান, পাকিস্তান বিবাদমান পক্ষগুলোকে একটি চুক্তিতে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এবং তার মতে, যদি পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বাড়াতে এবং আরেক দফা আলোচনায় সম্মত হয়, তবে সেটিকেই একটি সফল অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।

  7. ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ—কে তিনি?, ঘোনচে হাবিবিয়াজাদ, সিনিয়র রিপোর্টার, বিবিসি ফার্সি

    মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ

    ছবির উৎস, EPA

    ছবির ক্যাপশান, ২০২৪ সালের ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় মোহাম্মদ বাগের কালিবাফের ছবি

    মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ একজন রক্ষণশীল ইরানি রাজনীতিক, যার সামরিক পটভূমি রয়েছে। তিনি ২০২০ সালের মে মাস থেকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    আজ পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় তিনি ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আলোচনা শুরুর আগে আগে তিনি একদিকে আশাবাদ, অন্যদিকে অবিশ্বাস—দু’টিই প্রকাশ করেছেন।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে ইসলামাবাদে পৌঁছে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অতীতে ব্যর্থতা এবং “অঙ্গীকার লঙ্ঘনের” দিকে নিয়ে গেছে।

    ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া কালিবাফ ১৯৮০ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে (আইআরজিসি) যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এর অন্যতম কমান্ডার হন।

    কালিবাফ তেহরানের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী মেয়র হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৫ সাল থেকে ১২ বছর এ পদে ছিলেন। শহরের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

    তিনি চার বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে প্রতিবারই ব্যর্থ হন—২০০৫ সালে চতুর্থ এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয় হন। ২০১৭ সালের নির্বাচনের আগে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং ২০২৪ সালের আগাম নির্বাচনে তৃতীয় হন।

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানজুড়ে সরকার আরোপিত ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) তার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে।

  8. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব, তবে ইসরায়েলের সঙ্গে নয়: ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট

    ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ

    ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, “ইসলামাবাদে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় পক্ষের পাশাপাশি বিশ্বের জন্যও উপকারী হতে পারে।”

    সামাজিকমাধ্যম এক্সে সম্প্রতিতার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তবে আলোচনায় যদি ইসরায়েলপন্থি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন, তাহলে কোনো চুক্তি সম্ভব হবে না।

    তিনি আরও বলেন, “সেক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ আগের চেয়েও বেশি তীব্রভাবে অব্যাহত থাকবে, যার ফলে বিশ্বকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।”

    মোহাম্মদ রেজা আরেফের পোস্ট

    ছবির উৎস, x.com

    ছবির ক্যাপশান, মোহাম্মদ রেজা আরেফের পোস্ট
  9. ইরানে ইন্টারনেট বন্ধের ১০০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেল

    মোবাইল

    ছবির উৎস, Getty Images

    পাকিস্তানে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ইরানের সাধারণ মানুষ এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির বেশিরভাগ অংশ কার্যত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন। সেই হিসেবে এই ব্ল্যাকআউট এখন ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

    যারা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন, তাদের অনেককে অত্যন্ত বেশি খরচ দিয়ে বিকল্প উপায়ে সংযোগ নিতে হচ্ছে।

  10. পাকিস্তানের জন্য শান্তি আলোচনা আয়োজনের অর্থ কী?

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা স্থলে সাংবাদিকদের ভিড়
    ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জন্য বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নিজেদের সাফল্য উদযাপন করছে পাকিস্তান। এর আগে তাদের উদ্যোগে দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে দর কষাকষির পর এখন এই আলোচনা দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    শহরের রাস্তায় “ইসলামাবাদ টকস (সংলাপ)” লেখা ডিজিটাল বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকার সঙ্গে মাঝখানে পাকিস্তানের প্রতীক প্রদর্শিত হচ্ছে।

    এমনকি শান্তি আলোচনায় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিশ্বের জন্য এই আলোচনার গুরুত্ব অনেক বিশেষ করে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব আরো ভিন্ন মাত্রার।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পাকিস্তান একটি “ভয়াবহ পরিস্থিতির” মুখোমুখি হতে পারে, যেখানে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে তাদের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

    সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ আব্দুল বাসিত বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিশ্বের আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করতে পারেনি, এবং এতে একটি সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় ঠেকানো গেছে বলে তারা মনে করছে।

    পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমে এখন আনন্দ ও গর্বের আবহ, নানা ধরনের মিম ভাইরাল হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞের মতে, এটি এমন এক সময়ে পাকিস্তানের জন্য বড় অর্জন, যখন দেশটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতির সাথে মোকাবিলা করছে। দুই বছর আগেও ঋণখেলাপির ঝুঁকির মুখে ছিল, পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে।

  11. যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

    ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

    জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, মহাসচিব দুই পক্ষকে এই কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া যায় এবং উত্তেজনা কমানো সম্ভব হয়।

    তিনি আরো বলেন, সংঘাত এড়াতে এবং আবার যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।

    মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই, এবং তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী হতে হবে।

    এছাড়া জানানো হয়েছে, মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূতও বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন, যাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করা যায়।

  12. মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা

    লেবাননের বৈরুতের উপকণ্ঠে ১০শে এপ্রিল ইসরায়েলি বিমান হামলায় আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে বুলডোজার নিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা

    ছবির উৎস, EPA/Shutterstock

    ছবির ক্যাপশান, লেবাননের বৈরুতের উপকণ্ঠে ১০শে এপ্রিল ইসরায়েলি বিমান হামলায় আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে বুলডোজার নিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা

    লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, ইসরায়েল ও লেবানন মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আলোচনা শুরু করবে। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং সরাসরি আলোচনা শুরুর তারিখ নির্ধারণের জন্য দুই দেশ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠকে বসবে।

    বিবৃতি অনুসারে, এই আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও অংশ নেন।

    এদিকে, বৈরুতে হামলাস্থল পরিদর্শন করে লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ হাজ্জার বলেছেন যে, "যুদ্ধবিরতি লেবাননের একটি মৌলিক দাবি। আমাদের দেশের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য যা কিছুই করা লাগে আমরা প্রস্তুত।"

    তিনি আরও বলেন, "আমরা কূটনৈতিক পথ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি।"

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে স্থানটি পরিদর্শন করেছেন, সেটি বুধবার ইসরায়েলের হামলার শিকার বেশ কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি।

    বিবিসি জানতে পেরেছে যে, লেবাননের কর্তৃপক্ষ কেবল তখনই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে, যদি আগে থেকেই একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকে।

  13. হেজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি ইসরায়েলের

    আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল, কিন্তু হেজবুল্লাহকে এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে শুক্রবার জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার।

    মাইকেল লেটার বলেছেন, "হেজবুল্লাহর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং এই সংগঠনটি দুই দেশের মধ্যে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।"

    প্রতিবেদন অনুসারে, বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি টেলিফোন আলাপও অনুষ্ঠিত হয়।

    লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, মার্কিন মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

  14. পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলকভাবে আলোচনা করবে

    জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার

    ছবির উৎস, Reuters

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানানোর সময় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।

    দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র “গঠনমূলকভাবে আলোচনা করবে”

    তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সহায়তা করে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

  15. যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন

    বিমান অবতরণের পর মার্কিন প্রতিনিধি দলকে রানওয়েতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং দেশের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

    ছবির উৎস, POOL

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে বিমানের একটি সূত্র।

    বিমানটি অবতরণের পর তাদেরকে রানওয়েতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং দেশটির ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

    আজ জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। যেখানে তার সঙ্গে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    ভ্যান্স ও তার আলোচক দল গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আলোচনার অপেক্ষায় আছেন এবং “আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী”।

    তিনি আরো বলেন, “যদি ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে প্রস্তুত।”

    তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি চালাকি করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল তা গ্রহণ করবে না এবং আলোচনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।

    মার্কিন প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স টু তার বিমান, পাকিস্তানের পথে যাওয়ার পথে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে যাত্রাবিরতি নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

    ছবির উৎস, Reuters

  16. "আমাদের উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা নেই"

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ

    ইসলামাবাদে আসার সময় ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, “আমাদের উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখি না।”

    এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এক বছরেরও কম সময়ে দুইবার আলোচনা চলাকালীন সময়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে।”

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে কালিবাফ বলেন,"আমেরিকা যদি একটি প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইরানও চুক্তির জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি দেখাবে।”

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "ওয়াশিংটন যদি এই আলোচনাকে নিছক শক্তি প্রদর্শন বা প্রতারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তেহরান তার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।”

    তিনি বলেন, , "এটি প্রমাণ করে যে ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"

  17. ইসলামাবাদে পৌঁছানো ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানের নাম ‘মিনাব ১৬৮’

    ছবিতে বিমানের আসনে চারটি শিশুর ছবি রাখতে দেখা যায়, যেগুলোর পাশে স্কুল ব্যাগ ও ফুল রাখা ছিল।

    ছবির উৎস, @mb_ghalibaf

    ইরানি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে পৌঁছানো ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানটির নাম সাম্প্রতিক হামলার একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে রাখা হয়েছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, “মিনাব ১৬৮” বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই ১৬৮ জন ইরানি নাগরিকদের, যারা ২৮শে ফেব্রুয়ারির একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।

    ওই হামলায় মিনাব শহরের শিশুদের স্কুল “শাজরায়ে তাইয়েবা” ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানানো হয়।

    মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অনিচ্ছাকৃতভাবে ওই হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগেই বলেছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

    পাকিস্তানে অবতরণের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে বিমানের আসনে চারটি শিশুর ছবি রাখতে দেখা যায়, যেগুলোর পাশে স্কুল ব্যাগ ও ফুল রাখা ছিল।

    গালিবাফ পোস্টে লিখেন, “এই ফ্লাইটে তারা আমার সহযাত্রী।”

  18. পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা নিয়ে চারটি জরুরি বিষয়

    শান্তি আলোচনা সামনে রেখে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার

    ছবির উৎস, EPA

    শনিবার নির্ধারিত শান্তি আলোচনা সামনে রেখে ইরানের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জেনে নেয়া জরুরি:

    ১. পাকিস্তান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির ইরানকে “অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো বোঝেন”।

    ২. ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছে, এই প্রস্তাবকে তিনি “আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    ৩. ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একটি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন, যা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন ট্রাম্পের প্রধান আলোচকরা।

    ৪. কোনো প্রস্তাবই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, যদিও উভয় পক্ষের প্রস্তাবের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে বলে খবর রয়েছে। তবে বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

    এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শান্তি আলোচনার নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

    বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ওই হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবানন জানিয়েছে, তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।

    তার সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

  19. ট্রাম্প বলছেন ‘বিকল্প পরিকল্পনার দরকার নেই’, তবে ভ্যান্সকে ‘শুভকামনা’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ছবির উৎস, Getty Images

    ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যাওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে কী বলেছেন এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।”

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই আলোচনা একবারেই শেষ হবে নাকি সামনের দিনগুলোয় চলতে থাকবে, তা তিনি নিশ্চিত নন।

    বিকল্প কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিকল্প পরিকল্পনার দরকার নেই।”

    আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, তার দৃষ্টিতে ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি কেমন হবে?

    ট্রাম্প জবাবে বলেন, “কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।” তিনি আরো বলেন, তার মতে ইরানে ইতোমধ্যেই “শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন” হয়েছে।

    তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। যদিও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এর প্রয়োজন নেই।

    “আমরা খুব শিগগিরই এটি খুলে দেব,” তিনি বলেন।

    প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোর ওপর ইরান শুল্ক আরোপ করতে পারে, এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জবাব দেন, “আমরা তা হতে দেব না।”

  20. শান্তি আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের পথে

    নূর খান বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

    ছবির উৎস, X/@IraninSA

    যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করতে ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে যুদ্ধের সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে একটি নির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনিও ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং শনিবার সকালে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান এই আলোচনার জন্য তাদের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে ইসলামাবাদে পাঠিয়েছে।

    মোহাম্মদ বাকির কালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি আলোচক দলটি শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী রাতে পাকিস্তানের রাজধানীতে এসে পৌঁছায়।

    নূর খান বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে মনোনীত করেছেন।

    এদিকে, শাহবাজ শরীফ শুক্রবার রাতে বলেছেন যে, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আলোচনা সফল করার চেষ্টা করবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তারা গত এক বছরে দুইবার আলোচনা করেছে এবং দুইবারই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হওয়ার আগেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।