ঈদুল আযহার দিন বাংলাদেশের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

ঈদুল আযহার দিন ঢাকায় দুই দফায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ঈদুল আযহার দিন ঢাকায় দুই দফায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর (ফাইল ছবি)
    • Author, মুকিমুল আহসান
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৬ মিনিট

রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে হালকা থেকে মাঝারি কিংবা কখনো বা ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার দুপুরের দিকে ঢাকায় ভারি বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

এরই মধ্যে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও শুরু হয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে অনেকেই ছুটছেন বাড়ির পথে।

ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে পশুর হাট। কখনো কখনো হঠাৎ বৃষ্টি দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে জনজীবনে।

বাংলা ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন জ্যৈষ্ঠ মাস। বর্ষাকাল শুরু হতে আরো ২০ দিনের মতো বাকি। তবুও দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রতি বছর ঈদুল আযহার দিন সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত ও পশু কোরবানি। যে কারণে সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে ঈদের দিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার আগামী পাঁচ দিনের একটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মে মাস বজ্র ঝড় ও শিলা বৃষ্টির মাস। এই মাসে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়। এই মেঘমালা তৈরি হলে অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

একদিকে ঈদের দিন যেমন ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তেমনি তার আগের দুইদিনও ঢাকা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কোরবানির ঈদের আগের এই দুই দিনের বৃষ্টিপাতে ভোগান্তি বাড়তে পারে পশুর হাট কিংবা মানুষের ঈদ যাত্রায়।

বৃষ্টিতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন একজন নারী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঈদুল আযহার দিন ঢাকায় দুই দফায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর (ফাইল ছবি)

পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সোমবার থেকে আগামী পাঁচদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্র বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ছিল আগে থেকেই। এদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতাও দেখা দেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আগামীকাল অর্থাৎ ২৬শে মে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রবৃষ্টিসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা।

ঈদের আগের দিন বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ঈদের দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে অপরিবর্তিত থাকবে রাতের তাপমাত্রা।

ঈদের পরদিন শুক্রবার ঢাকাসহ আটটি বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে আর রাতের তাপমাত্রা থাকবে অপরিবর্তিত।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "মে মাস যেহেতু বজ্রপ্রবণ মাস যে কারণে স্থানীয়ভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা বাতাস ও ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্র বৃষ্টি বা কালবৈশাখী ঝড় হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিস পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিলেও বজ্র বৃষ্টির সঠিক পূর্বাভাস তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে সঠিকভাবে বলা যায় না।

বৃষ্টিতে ভোগান্তি বাড়ে ঈদযাত্রায়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বৃষ্টিতে ভোগান্তি বাড়ে ঈদযাত্রায়

ঈদের দিন ঢাকায় দুই দফা বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া অফিস যে পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিয়েছে সেখানে কোরবানির ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃহস্পতিবার ঈদের দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ২৬-৫০ শতাংশ এলাকায় এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগের ১-২৫ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এই পূর্বাভাস তৈরি করতে গাণিতিক মডেল ফলো করে থাকে। যেই মডেল অনুযায়ী তিনদিন আগে পর্যন্ত অনেকটাই সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে।

এই গাণিতিক মডেল পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক ঈদের দিন ঢাকায় কখন কখন কতটুকু বৃষ্টিপাত হতে পারে সেরকম একটি ধারণা তুলে ধরেছেন বিবিসি বাংলার কাছে।

মি. মল্লিক জানাচ্ছিলেন, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকা শহরসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হতে পারে দুইটি সময়ের মধ্যে। সেটি হল ভোর বেলা এবং শেষ বিকেল।

তবে তিনি এটিও জানিয়েছেন, ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বেশি হালকা থেকে মাঝারি। এদিন ঢাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।

প্রতি ঈদে ঢাকায় ঈদের মূল জামাত অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এর বাইরেও বিভিন্ন মসজিদের বাইরেও অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত।

আবহাওয়াবিদ মি. মল্লিক বলছিলেন, "গাণিতিক মডেল অনুযায়ী আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি তাতে ঈদের দিন ভোর বেলায় থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে"।

তিনি জানান, ঈদের দিনের প্রথম দফার বৃষ্টি ভোর বেলার মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সকাল দশটা থেকে এগারোটার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুব কম। এছাড়া ঈদের দিন শেষ বিকেল বা সন্ধ্যার দিকেও যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সেটির পরিমাণও হতে পারে তুলনামূলক কম।

মি. মল্লিক বলছিলেন, "ঈদের দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়ছে। সেটিও ঢাকা বিভাগের দুয়েকটি জায়গায়। সব জায়গায় নয়"।

আগামী দুইদিন বৃষ্টি ভোগান্তি বাড়াতে পারে কোরবানির পশুর হাটে

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আগামী দুইদিন বৃষ্টি ভোগান্তি বাড়াতে পারে কোরবানির পশুর হাটে (ফাইল ছবি)

ভোগান্তি বাড়তে পারে পশুরু হাটে

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে জমে উঠেছে পশুর হাট। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যে পশুর হাটগুলো বসেছে সোমবারের দুপুরের ভারি বৃষ্টিপাতে সেগুলোর অনেক জায়গায় পানি জমে গিয়েছে।

সোমবারের দুপুরের ভারি বৃষ্টির পর গরুর হাটে যে ভোগান্তি সে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

এতে দেখা গেছে, ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পানির মধ্যেই কোরবানির পশু নিয়ে অনেককে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্রেতারা ভোগান্তি নিয়ে অপেক্ষা করলেও ক্রেতাদের সংখ্যা ছিল অনেকটাই কম।

ঈদের আগে আর দুই দিন কোরবানির পশুর হাট বসবে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই আগামী দুই দিনে রাজধানীসহ বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই রয়েছে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আগামী দুই দিনে ঢাকায় প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। অন্তত এক থেকে দুই পসলা বৃষ্টি হবে। তবে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে"।

তিনি জানাচ্ছিলেন, মঙ্গলবারের চেয়ে তার পরেরদিন অর্থাৎ হাটের শেষ দিন ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এদিন ঢাকাসহ দেশের অন্য বিভাগগুলোতেও কম বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আর বাকি দুইদিনও দেশের অন্য বিভাগগুলোতে এই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মি. মল্লিক বলছিলেন, এই বৃষ্টিপাতের কারণে কোরবানির হাটগুলোতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

তার দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে ঈদের দিন পর্যন্ত।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের দিন ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি। তবে এদিন কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে খুলনা বিভাগ ও রংপুর বিভাগে।