শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলার দেবে টিকটক

    • Author, ক্যালি হেইস
    • Role, টেকনোলজি রিপোর্টার, স্যানফ্রান্সিসকো
  • Published
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ৪০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে সামাজিক মাধ্যম টিকটক। শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক সমঝোতার ঘটনা।

দুই হাজার চব্বিশ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে মার্কিন বিচার বিভাগ টিকটক এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স-এর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে।

অভিযোগ ছিল, ১৩ বছরের কম বয়েসি লাখ লাখ শিশুর কাছ থেকে টিকটক বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

মার্কিন আইনে ১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। চিলড্রেনস প্রাইভেসি প্রটেকশন অ্যাক্ট নামে পরিচিত এই আইনটি ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন রাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করছে।

মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেছেন, "এই মামলা শুরু হওয়ার সময়ের তুলনায় এখন শিশু ও অভিভাবকেরা আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত।"

এর আগে শিশুদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত একই আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছে।

ইউটিউব ২০১৯ সালে ১৭ কোটি ডলার এবং এপিক গেমস ২০২২ সালে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিয়েছিল।

এদিকে একই আইনের আওতায় মেটার বিরুদ্ধেও ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, মেটা শিশুদের লক্ষ্য করে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়েছে।

এ মামলার বিচারও চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

টিকটক-এর মার্কিন কার্যক্রমকে বাইটড্যান্স-এর চীনা কার্যক্রম থেকে আলাদা করার প্রক্রিয়া গত বছর শুরু হলেও, বর্তমান সমঝোতাটি মূলত চীনে পরিচালিত টিকটক-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স-এর সর্বশেষ বিনিয়োগ মূল্যায়ন অনুযায়ী কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন ডলার।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, টিকটক ও বাইটড্যান্স অবিলম্বে মার্কিন বিচার বিভাগকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে।

এরপর মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সঙ্গে করা ২০১৯ সালের একটি আইনি সমঝোতা বাতিলের পর তাদের আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে।

দুই হাজার উনিশ সালের ওই সমঝোতায় বাইটড্যান্সের পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান মিউজিক্যালি-কে শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিল।

পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সি কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহার করতে চাইলে তার বাবা-মায়ের সম্মতি নেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবারের ঘোষণায় মার্কিন বিচার বিভাগ জরিমানার বাইরে টিকটক-এর বিরুদ্ধে নতুন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়নি।

তবে তারা বলেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে টিকটক-এ ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানিটির মালিকানা কাঠামো, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার নীতি এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন।

মামলা দায়েরের সময় মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, টিকটক-এ ১৭ কোটিরও বেশি কিশোর ব্যবহারকারী ছিল এবং অ্যাপটি শিশুদের কাছেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এবং এটি তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছিল।

কিন্তু অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীদের বয়স কার্যকরভাবে যাচাই করা হতো না এবং ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় সম্মতিও নেওয়া হতো না।

দুই হাজার চব্বিশ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিকটক নিষিদ্ধ করা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবসা বাইটড্যান্সের কাছ থেকে আলাদা করে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিলেন।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টিকটক-এর মার্কিন কার্যক্রম বাইটড্যান্সের কাছ থেকে আলাদা করার পক্ষে অবস্থান নেন।

গত বছর সেই মালিকানা পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়।

বর্তমানে টিকটক -এর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার ৮১ শতাংশ মালিকানা একটি বিনিয়োগকারী জোটের হাতে। বাইটড্যান্স-এর হাতে আছে বাকি ১৯ শতাংশ।

এই বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে টিকটক এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো প্রতিনিধি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।