অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার 'দুর্নীতি'র অভিযোগ নিয়ে কি তদন্ত হবে?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
ছবির ক্যাপশান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৬ মিনিট

বাংলাদেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেড় বছরের শাসনামলে হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আহবান জানিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবির এক রিপোর্টকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ওই সময়ে হওয়া দুর্নীতি তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন।

রোববার রাতে জাতীয় সংসদে তিনি যখন এ অনুরোধ করেন তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও সংসদে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি দলের সদস্যরা এ সময় টেবিল চাপড়ে মি. আহমদের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

যদিও সরকারের বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংসদে আলোচনার সূত্রপাত হলেও 'অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি' তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত সরকারের দিক থেকে নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কয়েকজন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান মুখ্য সচিব তখন আটজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে 'সীমাহীন দুর্নীতির' অভিযোগ করে আলোচনায় এসেছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, টিআইবির রিপোর্টে দুর্নীতির তথ্য এসেছে এবং সে কারণেই তিনি মনে করেন যে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ এ সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে এবং তখন অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই দুর্নীতি বেড়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একজন কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, "দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কমিশনে এলে সেটি নিয়মানুযায়ী যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে"।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের কথা বলেছেন কিন্তু চার মাস ধরে ওনারা তো দুর্নীতি দমন কমিশনকেই অকার্যকর করে রেখেছেন।

"আমরাও চাই অভিযোগ তদন্ত হোক। আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়কাল- সবটাই তদন্ত হোক যে কোথায় কোন উপদেষ্টা বা কোন সচিব দুর্নীতি করেছেন। একেবারে জেলা পর্যায় পর্যন্ত দেখা হোক। রাজনীতি না করে সঠিক তদন্ত হোক," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

রোববার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতার সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন

ছবির উৎস, SCREENGRAB

ছবির ক্যাপশান, রোববার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতার সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে, তারা তো ছাড় (এক্মেম্পশন) পেতে পারে না।

"অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের একটি অস্থির সময় ছিল যমুনার অভ্যন্তর আর যমুনার কিনার মিলিয়ে। সে সময় আমরা দেখেছি যারা আজকে দুর্নীতির হিসাব নিতে বলছেন এবং ব্যবস্থা নিতে বলছেন। বিদেশি ঋণের কথা বলছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি অন্তর্বর্তী সরকারের আঠার মাসের সব কিছুর জন্য আপনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন," মি. আহমদ রোববার রাতে জাতীয় সংসদে বলেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "করাপশন কোথায় হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কারা করেছে সব কিছু বের হোক। ভিত্তি হচ্ছে টিআইবি। কয়েকদিন আগে রিপোর্ট দিয়েছে। সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। তারা তো ছাড় পেতে পারে না"।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে কোনো মন্তব্য না আসলেও সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা সবাই এ বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন করায় অনেকের মধ্যে এই ধারণাও তৈরি হয়েছে যে হয়তো সরকার চাইছে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, টিআইবির রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে তদন্ত করে দেখতে পারে।

যদিও ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বললেও বর্তমান সরকারের চার মাসে কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

"দুদক কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন ছাড়া নিতে পারে না। সরকারের ইন্ধনেই কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা পদত্যাগ করেছে। কিন্তু সেখানে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা চাই দুদক এমনভাবে গঠন করা হোক যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, এর আগে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত টিআইবির রিপোর্টকে পত্রিকার কাটিং হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু এখন অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির প্রশ্নে টিআইবির রিপোর্টকে ভিত্তি বলছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতে পারে
ছবির ক্যাপশান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতে পারে

টিআইবির রিপোর্টে কী ছিল

টিআইবি'র জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫'র এর মূল বক্তব্য হলো- ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

সেবা খাতে দুর্নীতির মাত্রা জানতে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৫টি খানার ওপর জরিপ চালায় টিআইবি। এই এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

জরিপে অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ভূমি খাত। জরিপে ঘুষের শিকার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছেন, ঘুষ না দিলে তারা সেবা পান না।

এই জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয়। আর ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এটি কী অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি নাকি বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতির ধারাবাহিকতায় হওয়া দুর্নীতি- এমন প্রশ্নের জবাবে ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "এই দুর্নীতিটা বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে তবে এবারের রিপোর্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টার চিত্র উঠে এসেছে, ফলে এর দায় ওই সরকার এড়াতে পারে না"।

"অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবে বলেছিল। কিন্তু তা করেনি। করলে হয়তো দুর্নীতি কম হতো। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দায় আছে। কিন্তু খানা জরিপের বিষয়ে কে সরকারে আছে আমরা সেটি রিলেট করি না। তবে এটি সত্যি যে আগের চেয়ে দুর্নীতিটা বেড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টিআইবির দেওয়া তথ্যকে তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতি উল্লেখ করে বলছেন, "সেখানে দুর্নীতির যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে, প্রতি বছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা বেশি নয়"।

প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকার

ছবির উৎস, PID

ছবির ক্যাপশান, প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকার

কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ কী শুধু টিআইবির

সরকার সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন যে, টিআইবির প্রতিবেদনকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির' প্রসঙ্গটি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরেও আলোচনা আছে।

বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুজন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বিষয়ে দুদকও সক্রিয় হয়েছিল।

তখন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস 'নগদের' নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে দুদকে তলবের ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

নগদ-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা রোববার জানিয়েছিলো দুদক।

এছাড়া তখন একজন উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব ও আরেকজন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের তথ্য দিয়েছিল সংস্থাটি। এ প্রেক্ষাপটে তখন তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যেসব 'ছাত্র প্রতিনিধি' মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকের বিষয়েও সরকারের হাতে কিছু রিপোর্ট আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এছাড়া শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বহু জেলা উপজেলায় ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিসে অবস্থান নিয়ে নানা সুবিধা দিতে প্রশাসনকে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল।

এছাড়া ২০২৫ সালের অগাস্টে বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সরকারের আটজন উপদেষ্টার 'সীমাহীন দুর্নীতি'র প্রমাণ নিজের কাছে রয়েছে দাবি করেছিলেন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব হিসেবে কাজ করছেন।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তখনকার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিবৃতি দিয়ে উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এখন টিআইবির খানা জরিপের প্রতিবেদনকে ভিত্তি হিসেবে দেখিয়ে 'অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতি'র প্রসঙ্গটি আবার সামনে আনলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন যে, টিআইবির পক্ষ থেকে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকেই তাদের সময়ের ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

"এর চেয়ে বড় দুর্নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। তখনকার সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে জবাবদিহিতা ছাড়াই। বর্তমান সরকারের উচিত হবে এসব বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

যদিও সরকার সত্যিকার অর্থেই 'অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগকে' প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে কতটা আগ্রহী সেই প্রশ্নও আছে।

গত ২৫শে জুন টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিবিসি বাংলাকে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন টিআইবি যে তথ্য দিয়েছে তা তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতির।

তবে আসিফ মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারাও চান অভিযোগ নিয়ে রাজনীতি না করে সঠিক তদন্ত হোক। "কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনটাই চার মাস ধরে অকার্যকর করে রেখেছে সরকার," বলেছেন তিনি।