পর্তুগাল থেকে যৌতুক পাওয়া 'বোম্বে' দশ পাউন্ড ভাড়ায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজা

    • Author, ওয়াকার মুস্তাফা
    • Role, সাংবাদিক ও গবেষক
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ইতিহাসে এমন বিয়ের উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যায়, যেখানে কনের দেশকে সামরিক ও নৌ সহায়তার নিশ্চয়তা দেয় বর, আর কনে যৌতুক হিসেবে শুধু সম্পদ ও বাণিজ্যিক সুবিধাই নয়, এমন ভূখণ্ডও নিয়ে আসে যার একটি পরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক, বাণিজ্যিক ও চলচ্চিত্র কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

যৌতুকে পরিণত হওয়া সেই ভূখণ্ড হলো ভারতের বোম্বে, যা এখন মুম্বাই নামে পরিচিত।

১৭শ শতকের ওই রাজকীয় বিয়েতে বর ছিলেন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস এবং কনে ছিলেন পর্তুগালের রাজা চতুর্থ জনের কন্যা ক্যাথরিন অব ব্রাগানজা।

কিন্তু আরব সাগরের তীরঘেঁষা সাতটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই উপকূলীয় জনপদ কীভাবে ইউরোপে রাজনৈতিক জোট হিসেবে ঘোষিত এই বিয়ের যৌতুকের অংশ হয়ে উঠল, যা পরে বোম্বে এবং আজ মুম্বাই নামে পরিচিত?

কোলাবা, ওল্ড ওম্যানস আইল্যান্ড (লিটল কোলাবা), বোম্বে, মাজগাঁও, পারেল, ওরলি ও মাহিম নামের এই দ্বীপগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী বিভিন্ন স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম শাসকদের অধীনে ছিল।

১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার ভারতে আগমনের পর পর্তুগিজরা পশ্চিম উপকূলে তাদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা শুরু করে।

পর্তুগিজ আমল

১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার ভারতে আগমনের পর পর্তুগিজরা পশ্চিম উপকূলে তাদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা শুরু করে।

১৫৩৪ সালে গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ একটি চুক্তির মাধ্যমে বোম্বের এই সাতটি দ্বীপ পর্তুগালের কাছে হস্তান্তর করেন এবং এগুলো গোয়া, দমন, দিউ, বাসেইন (ভাসি) ও আরও কয়েকটি উপকূলীয় এলাকার সঙ্গে পর্তুগিজ ভারতের অংশ হয়ে যায়।

এই অঞ্চলগুলো মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবে মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য, কূটনীতি এবং কখনও সহযোগিতা, কখনও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে ছিল।

এগুলোর প্রশাসন পরিচালনা করতেন গোয়ায় অবস্থানরত পর্তুগিজ ভাইসরয়, যার অধীনে ১৮শ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত ভারত মহাসাগর ও তার আশপাশে পর্তুগালের সব ঔপনিবেশিক সম্পত্তি ছিল।

পর্তুগিজ আমলে বোম্বেতে দুর্গ, গির্জা ও বাণিজ্যিক বসতি গড়ে তোলা হলেও এর প্রকৃত গুরুত্ব ছিল একটি প্রাকৃতিক গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে।

স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধ

১৫৮০ থেকে ১৬৪০ সাল পর্যন্ত পর্তুগাল স্পেনের শাসনের অধীনে ছিল। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হলেও স্পেন তাতে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে স্বাধীনতার স্বীকৃতি পাওয়ার লড়াইয়ে পর্তুগিজ একটি শক্তিশালী মিত্রের প্রয়োজন ছিল।

ইতিহাসবিদ এডগার প্রেস্টিজের মতে, ১৪শ শতক থেকে ইংল্যান্ড সেই শক্তিশালী মিত্র ছিল (এবং আজও আছে)।

দ্বিতীয় চার্লস ও স্পেনের মধ্যে ব্রাসেলস চুক্তি থাকলেও সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল এবং স্পেন জামাইকাসহ ব্রিটিশদের দখলে থাকা ভূখণ্ড ফেরত দাবি করছিল।

দ্বিতীয় চার্লস ওই সময় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের সিংহাসনে পুনর্বহাল হয়েছিলেন এবং পর্তুগাল ও স্পেন রাজপরিবার উভয়েই তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ছিল, যা সে সময়ের প্রথা অনুযায়ী তাদের একটির সঙ্গে জোট নবায়নের পথ তৈরি করত।

ইতিহাসবিদ অ্যালাস্টেয়ার ম্যালকম ও পিয়ার্স বেকার-বেটস লিখেছেন যে স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপ পর্তুগালের ব্রাগানজা রাজবংশের বিরোধী ছিলেন এবং কোনো শক্তিশালী ইউরোপীয় শাসকের সঙ্গে ক্যাথরিনের বিয়ে হোক তা চাননি।

"এ কারণেই ক্যাথরিনের পরিবর্তে স্পেন দ্বিতীয় চার্লসের জন্য অন্য ইউরোপীয় রাজকন্যাদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন"।

এস এম ওয়েইন 'অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি'-তে লিখেছেন যে স্পেনের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৬৬১ সালের ২৩শে জুন পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বিয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রাজকীয় বিয়ে ও যৌতুক

এস এম ওয়েইন 'অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি'তে লিখেছেন, "এই চুক্তির অধীনে ইংল্যান্ডকে উত্তর আফ্রিকার তাঞ্জিয়ার, ভারতের বোম্বের সাতটি দ্বীপ, ব্রাজিল ও পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিজে বাণিজ্যিক সুবিধা, পর্তুগালে বসবাসরত ইংরেজদের জন্য ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা এবং ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন (প্রায় তিন লাখ পাউন্ড) দেওয়া হয়।"

"এর বিনিময়ে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইংরেজ সামরিক ও নৌ সহায়তা পায় পর্তুগাল, যা পরে তাদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে নির্ণায়ক প্রমাণিত হয়। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডে ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার জন্য তার ক্যাথলিক ধর্ম পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।"

বিয়ের চুক্তির ১১ নম্বর ধারাটি বোম্বেতে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

এতে বলা হয়েছিল, "বোম্বের শান্তিপূর্ণ দখল দ্রুত ও কার্যকরভাবে গ্রেট ব্রিটেনের রাজা বা তার নিযুক্ত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

এস এম ওয়েইনের মতে, "একইভাবে, যখন বোম্বের দখল নিতে ব্রিটিশ নৌবহর পৌঁছাবে, তখন তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে তারা ইস্ট ইন্ডিজে বসবাসরত সব পর্তুগিজ প্রজার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে, তাদের বাণিজ্য ও নৌচলাচলে সহায়তা করে এবং তাদের সুরক্ষা প্রদান করে।"

পি জে স্টার্ন তার বই 'দ্য কোম্পানি স্টেইট: করপোরেট সভারেইনটি অ্যান্ড দ্য আর্লি মডার্ন ফাউন্ডেশন অফ ব্রিটিশ এমপায়ার ইন ইন্ডিয়া'-এ লিখেছেন যে এরও আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি উপযুক্ত বন্দর বা অঞ্চল অধিগ্রহণের বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল।

"এসব পরিকল্পনার কিছু ছিল অস্পষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ, যেখানে সামরিক আক্রমণ বা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভূখণ্ড দখলের কথা বলা হয়েছিল। ১৬৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের শাসক অলিভার ক্রমওয়েলকে এমনকি একটি পর্তুগিজ দুর্গঘেরা এলাকা কেনার প্রস্তাব দেয় এবং মোজাম্বিক, মহারাষ্ট্রের ভাসি বা বোম্বেকে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে।"

বোম্বেকে যৌতুকে দেওয়ার বিরোধিতা

১৬৬২ সালের ২১শে মে দ্বিতীয় চার্লস ও ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার বিয়ে হয় এবং ৩০শে সেপ্টেম্বর রাজদম্পতি লন্ডনে পৌঁছান। কিন্তু বোম্বে হস্তান্তরের বিষয়টি ভারতে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ভাইসরয় আন্তোনিও দে মেলো কাস্ত্রোর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

কাস্ত্রোর যুক্তি ছিল, বোম্বের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং এটি হস্তান্তর করলে পর্তুগালের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এমন প্রশ্ন তোলা হয় যে রাজকীয় আদেশটি কেবল বোম্বে দ্বীপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নাকি এর প্রশাসনের অধীন অন্য অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রেও।

এই বিরোধের কারণে ১৬৬২ সালে দখল নিতে আসা ইংরেজ নৌবহরকে বোম্বে উপকূলে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

'গেজেটিয়ার অব দ্য বোম্বে প্রেসিডেন্সি' অনুসারে, একই সামরিক বাহিনীকে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য রক্ষা এবং রাজকীয় বিবাহচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু বোম্বে হস্তান্তরের প্রশ্নে তারা গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়।

"পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশদের উপকূলে নামতে দিতে বিলম্ব করে, যার ফলে বহু সৈন্য রোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মারা যায়।"

একই সময়ে একটি অপ্রত্যাশিত সুযোগও তৈরি হয়।

এম ভি কামাথ তার বই 'টাইডস অব টাইম'-এ লিখেছেন যে, বোম্বের এক ব্রাহ্মণ ব্রিটিশদের জানান, পর্তুগিজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হিন্দুরা বিদ্রোহে প্রস্তুত, যদি ব্রিটিশরা বাইরে থেকে আক্রমণ চালায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে একটি সেনাদল প্রস্তুত করা হয় এবং বোম্বে দখলের জন্য একটি জাহাজ রওনা দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অভিযানটি ব্যর্থ হয়।

"সৈন্যরা মদ্যপ হয়ে পড়ে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ৪৫০ সৈন্যের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন মারা যায়।"

ফলে বোম্বের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর সম্পন্ন হতে প্রায় চার বছর সময় লাগে এবং শেষ পর্যন্ত ১৬৬৫ সালে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

কিন্তু গল্প সেখানেই শেষ হয়নি।

'বোম্বে বিফোর দ্য ব্রিটিশ' শীর্ষক গবেষণা অনুসারে, মাত্র দুই মাস পর পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে একটি রাজকীয় আদেশ আসে, যাতে হস্তান্তর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ব্রিটিশরা এরই মধ্যে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছিল।

তারা মাজগাঁও, পারেল এবং পরে মাহিম দখল করে এই দাবি করে যে এসব এলাকা বোম্বের সংলগ্ন। পরে তারা অন্যান্য সংলগ্ন দ্বীপও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বছরে দশ পাউন্ড ভাড়া

ব্রিটিশ রাজশক্তি দ্রুতই বুঝতে পারে যে তারা একটি দূরবর্তী, অনিষ্টকর ও লোকসানজনক সম্পত্তি পেয়েছে, যা পরিচালনায় ব্যয় হয়, কিন্তু উল্লেখযোগ্য আয় দেয় না।

অন্যদিকে তাঞ্জিয়ার স্থানীয় মরোক্কান বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ছিল, যতক্ষণ না ১৬৮৪ সালে ব্রিটিশরা সেখান থেকে সরে যায়।

তাই ১৬৬৮ সালে তারা (ব্রিটিশ সরকার) বোম্বে ও সংলগ্ন দ্বীপগুলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেয়, যারা তখন সুরাট থেকে ভারতে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

এর বিনিময়ে কোম্পানিকে বছরে মাত্র ১০ পাউন্ড ভাড়া দিতে হতো। পাশাপাশি কোম্পানি রাজাকে ছয় শতাংশ বার্ষিক সুদে ৫০ হাজার পাউন্ড ঋণ দেয়।

ফলে কোম্পানি এমন একটি সুবিধা পায় যা নিকটবর্তী সুরাট কখনও দিতে পারেনি– নিজেদের পতাকার অধীনে নিজেদের নিরাপদ বন্দর।

দ্বিতীয় চার্লস ও ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার কোনো সন্তান হয়নি, তবে তাদের এই বিয়ে উপমহাদেশ এবং পরবর্তী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

বোম্বে, ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি

জেমস ডগলাস তার বই 'অ্যা বুক অব বোম্বে'-তে লিখেছেন যে এই চুক্তি শুধু বোম্বে হস্তান্তরের আইনি ঘোষণা ছিল না, বরং এটি ব্রিটিশ শক্তির একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করেছিল, যার ওপর পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তারপর ব্রিটিশ রাজ তাদের ক্ষমতার কাঠামো নির্মাণ করে।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, শুরুতে কোম্পানির জন্য অসাধারণ কোনো সম্পদ ছিল না বোম্বে, কারণ মুঘল, মারাঠা, পর্তুগিজ এবং ডাচরা সবাই ওই অঞ্চলে শক্তিশালী ছিল।

"তবে ১৮শ শতকের শেষভাগ এবং ১৯শ শতকের শুরুতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন, মারাঠা সংঘাত এবং গুজরাটের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ী ও কারিগরেরা বোম্বের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন এবং ১৮৪৫ সালের মধ্যে সাতটি দ্বীপই একীভূত হয়, যা এর উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে।"

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, "১৮৫৭ সালে এখানে প্রথম তুলা কল স্থাপিত হয়, ১৮৬০ সালের মধ্যে বোম্বে ভারতের সবচেয়ে বড় তুলা বাজারে পরিণত হয় এবং ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল চালু হওয়ার ফলে এটি ব্রিটেন ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।"

"ব্রিটিশ আমলে বোম্বে ছিল বোম্বে প্রেসিডেন্সির রাজধানী এবং ১৯শ শতকের শেষভাগ ও ২০শ শতকের শুরুর দিকে এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।"

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। ব্রিটিশ শাসনের শেষে পর্তুগিজ ভারত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত ছিল– গোয়া, দমন ও দিউ, যা ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে একীভূত করে।

এভাবে একটি রাজকীয় জোট শুধু দুটি সাম্রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক জোটই তৈরি করেনি, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছিল।

বোম্বে, যা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয়ে আজকের রূপ লাভ করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক, বাণিজ্যিক ও চলচ্চিত্র নগরীতে পরিণত হয়েছে।