এমডি লম্বা ছুটিতে, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কী হচ্ছে

    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে এবং একে কেন্দ্র করে ব্যাংকের ভেতরেই নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিলকে অপসারণের পর এক মাস পার হওয়ার আগেই ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে দেড় মাসের বেশি সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা আজ কার্যকর হয়েছে।

এদিকে সংসদে সম্প্রতি 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬' পাশ হওয়ার পর ব্যাংকগুলোর আগের মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের ধারণা, ইসলামী ব্যাংকেও আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলোচিত ব্যবসায়ী মো. সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার পরিবারের সদস্যরাই ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন।

২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তখনকার গভর্নর জানিয়েছিলেন যে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এস আলম গ্রুপের ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার জব্দ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য বলছে, ইসলামী ব্যাংকে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে সেগুলো ব্যাংকের স্বাভাবিক নিয়মেই হচ্ছে।

"আমানতকারীদের আস্থা ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার স্বার্থে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাই করবে," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন মুখপাত্র।

ইসলামী ব্যাংক থেকে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদ এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। তার জায়গায় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটিতে এখন কী হচ্ছে

রোববার 'সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের' প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। তাদের অভিযোগ, 'একটি চক্র সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবহার করে আবারও ইসলামী ব্যাংক দখলের পায়তারা করছে'।

এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের মে মাসে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের রিপোর্টে তখন বলা হয়েছিল, ২০১৭ সালে মি. আলমের মালিকানাধীন এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয়।

ব্যাংকটি ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে এটি যাদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল তারা জামায়াতে ইসলামী সমর্থক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাদের তখন জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনা যখন ঘটে তখনই ব্যাংকটিতে এস আলম গ্রুপের ঋণ ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

পরে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নিজেদের লোকজনদের নিয়োগ দেয় তারা। এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সব মিলিয়ে সারাদেশে ব্যাংকটিতে প্রায় দশ হাজারের মতো কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল বলে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জানানো হয়েছিল।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই এক পর্যায়ে ব্যাংকটিতে তারল্য সংকট দেখা দেয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই গবেষণা সংস্থা সিপিডি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল যে, ২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের ঘটনা ঘটে, যার সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই গ্রুপটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়েও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন ব্যবসায়ী এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। ওই সরকারের পতনের পর পুরনো কর্মকর্তারা ব্যাংকটিকে 'এস আলম মুক্ত' করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঁচজন স্বাধীন পরিচালক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংকটিতে আবার 'জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের' কর্তৃত্ব ফিরে আসার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এমনকি ২০২৪ সালের ৭ই অগাস্ট জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ব্যাংকটির তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যাংকটিকে আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেন।

এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমর ফারুক খান ইসলামী ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন।

পরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের একাংশ এমডি মুহাম্মদ মনিরুল মওলাকে ওই বছরের ডিসেম্বরে অফিস ছাড়তে বাধ্য করেন। তখন থেকে মি. খান এমডির চলতি দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

২০২৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, "জামায়াত ইসলামী ব্যাংক দখল করেনি। বরং এটি তার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে"।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ৪ঠা অগাস্ট ওমর ফারুক খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে 'সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ইসলামি ধারাসহ যেকোনো তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে সরকারি মালিকানায় নিতে পারবে'- এমন ধারা যুক্ত করে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে।

এতে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে দুর্বল যেকোনো ব্যাংকে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে ইসলামী ব্যাংকে এস আলম আমলে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতসহ বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী ঋণ আদায়ের সাফল্যের দাবি করা হয়েছিল।

তবে চলতি বছর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার ইসলামী ব্যাংক ইস্যুটি আবার আলোচনায় আসে।

নির্বাচনের এক মাস পর গত ১৬ই মার্চ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি পুনর্গঠিত পর্ষদের সদস্য হয়েছিলেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকেরই একজন সাবেক কর্মকর্তা।

এরপরই ব্যাংকটির এমডিকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে ব্যাংকটির ভেতরে বাইরে। এ নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই এমডি মো. ওমর ফারুক খান ১৫ দিনের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি চেয়ে আবেদন করলেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে ৪৯ দিন ছুটি দিয়েছে।

আজ সোমবার থেকেই তার এ ছুটি কার্যকর হয়েছে।

সাধারণত কোনো ব্যাংকের এমডিকে পরিচালনা পর্ষদ এমন অস্বাভাবিক ছুটি দেওয়ার পর তিনি আবার স্বপদে ফিরে আসতে পারার নজির খুব একটা নেই।

কিন্তু কেন তাকে লম্বা সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

ফলে তাকে ছুটির নামে জোরপূর্বক সরে যেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকে মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বলছেন, তারা এমন কোনো অভিযোগ পাননি।

"এমন কিছু এখনো আমাদের জানা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে আছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এগুলো দেখছেন," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

অধ্যাদেশ থেকে আইন ও রাজনীতি

চলতি বছরের শুরুতে ইসলামী ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায়। এক বছরেই উপ-শাখাগুলোর আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ সময়ে এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা।

এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ বেড়ে ৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার সাথে কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে এই ধারণা পাওয়া গেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটিতে জামায়াতে ইসলামীর যে কর্তৃত্ব ফিরে এসেছিল সেটি তারা ধরে রাখতে চাইছে।

আবার ব্যাংকের যারা বিএনপির সঙ্গে জড়িত তারা সেই সুযোগ দিতে রাজি নন এবং সে কারণেই এমডিকে সরে যেতে চাপ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল বলে মনে করছেন তারা।

"এখন হয়তো এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে ক্রমান্বয়ে আরও পরিবর্তন আনা হবে," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন একজন কর্মকর্তা।

ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেই ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ করা হয়েছিল সেটিকে সংশোধনীসহ ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ হিসেবে সংসদে পাশ করেছে বিএনপি সরকার।

এ আইন পাশ হওয়ার পর ব্যাংকে পুরনো মালিকরা আবার ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।

নতুন পাস হওয়া বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক অথবা শেয়ার ধারকরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবে। তবে শেয়ার পুনঃধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের মালিক এস আলম গ্রুপ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করে রেখেছে।

এখন নতুন আইন অনুযায়ী তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই শেয়ার জব্দের আদেশ প্রত্যাহার হলেই এস আলম (ব্যবসায়ী সাইফুল আলম) স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসতে পারে বলছেন, ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।

তিনি সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ডিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক।

"সরকার পাশ হওয়া আইন এমন বিধান রেখেছে যাতে করে ইসলামী ব্যাংকগুলো পুরনো মালিকানায় চলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাতে যে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল সেটা এখন ঝুঁকির মুখে পড়বে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে গঠিত 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' এর চেয়ারম্যান করা হয়েছিল সাবেক সচিব সাবেক সচিব ডঃ মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। গত মাসে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, ইসলামি ব্যাংকে যা হচ্ছে সেখানে স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না বরং পরিস্থিতির সুযোগে আগের মালিকরা ফিরে আসার পথ খুঁজছে।

"দেশের ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে এই ব্যাংকের মাধ্যমে। সেখানে যাই করা হোক স্বচ্ছতার সাথে করা উচিত। মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে আগের মালিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে কিনা সেই সন্দেহ । সরকারের উচিত এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা," বলছিলেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তৈরি হওয়া এসব উদ্বেগ বাংলাদেশ ব্যাংক বিবেচনায় নিচ্ছে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলছেন, "আমানতকারী স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কিছু হলে কিংবা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেই পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার সেটাই গ্রহণ করবে"।