রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পেতে যাচ্ছে তালেবান সরকার

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ
    • Author, এমা বার্জ
    • Role, কাবুল
  • Published
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার- একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাশিয়াকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদানে রাজি করানোর এই কাজটি করতে সফল ভূমিকা রেখেছেন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়ে মস্কোর সাথে তালেবানের আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের সময় রাশিয়ার করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই চুক্তিতে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে, নাকি ড্রোনের মতো হামলার সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, দুই পক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান সরকারের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজধানী মস্কোতে রাশিয়া এবং তালেবান সরকারের মধ্যে এই নথিতে স্বাক্ষর করা হয় বলে জানা গেছে।

এসময় রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিতি ছিলেন।

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবান সরকারের সাথে রাশিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রতিনিধিদল নিয়মিত দেশটিতে সফর করেছে।

কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, এই চুক্তিটি প্রতিরক্ষা খাতে তালেবান সরকারের সাথে রাশিয়ার বোঝাপড়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

তালেবান সরকার ও রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক

ছবির উৎস, Taliban MOD

ছবির ক্যাপশান, তালেবান সরকার ও রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ গত মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফর করেন।

ওই সময় তালেবান সরকারের একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছিল যে, "জনাব মুজাহিদের এই রাশিয়া সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং সফরের প্রস্তুতির জন্য একটি প্রতিনিধিদলও আগেই মস্কো গিয়েছিল।"

মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুর সাথে এক বৈঠকে বলেন, "রাশিয়া এই অঞ্চল এবং বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের। আমরা আশা করি এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী এবং ব্যাপক হবে।"

আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর যেসব দেশ কাবুলে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের মধ্যে অন্যতম।

২০২২ সালে তালেবান সরকারের সাথে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল রাশিয়া, যার অধীনে তারা আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ করে।

রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলো বারবার আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে জনাব মুজাহিদ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

তিনি বলেন, "আমরা বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলোকে দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি।"

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ রাশিয়া

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ রাশিয়া

তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা আফগানিস্তানের মাটিতে কাউকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ দেবে না।

তবে মনে হচ্ছে যে, এই আশ্বাসেও তাদের (প্রতিবেশী দেশগুলোর) দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।

গত বছরের শেষের দিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান পুরোপুরি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কাবুলের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক না রেখে কোনো দেশই আফগানিস্তানের বিষয়ে প্রকৃত প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুও কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে, তার দেশ তালেবান সরকারের সাথে একটি "পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব" প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকেও কাবুলের সাথে সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করছেন তিনি।

পাকিস্তানের সাথে কদিন আগেই সংঘাতে জড়িয়েছিল আফগানিস্তান। ওই সময় আকাশ প্রতিরক্ষা খাতে আফগানিস্তানের দুর্বলতার বিষয়টি বড় ভাবে সামনে আসে।

তখন থেকেই তালেবান সরকার আকাশ প্রতিরক্ষাসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রথম তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব কোনো আঞ্চলিক দেশের সাথে সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেন।