রায় নিয়ে শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া, ধানমন্ডি বত্রিশে হঠাৎ বুলডোজার- সারাদিনে যা ঘটলো

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দেয়া হয় ১৭ই নভেম্বর
ছবির ক্যাপশান, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দেয়া হয় ১৭ই নভেম্বর
Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে। দুপুর সাড়ে বারটায় দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় পড়তে শুরু করে। ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর অনেকেই যেমন একে স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনই আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একে বলেছে "পূর্বনির্ধারিত রায়"।

এছাড়া রায়কে ঘিরে ধানমন্ডি বত্রিশের সামনে বুলডোজারসহ একদল বিক্ষোভাকারী অবস্থান নিলে ও পরে বত্রিশ নম্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

নিরুত্তাপ সকাল

রায়কে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন।

সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুর, ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, মহাখালি, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিবিসি সংবাদদাতারা দেখেছেন, সোমবার স্বাভাবিক দিনের তুলনায় সড়কে গাড়ির চাপ কিছুটা কম। আগারগাঁও, মহাখালি এবং ফার্মগেটে ছোট আকারে যানজটও দেখা গেছে।

অন্যান্য দিনের তুলনায় গণপরিবহন এবং দূরপাল্লার পরিবহন কম চলতে দেখা গেছে।

এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও 'কমপ্লিট লকডাউন' সমর্থনে কোনো মিছিল বা তৎপরতা দেখা যায়নি।

মামলার রায় ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

সেনা, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

হাইকোর্ট, মৎসভবন, সচিবালয় এলাকার প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে বসানো হয় চেকপোস্ট, সন্দেহভাজনদের করা হয় তল্লাশি।

নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে হাইকোর্টের কর্মী, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া সাধারণ কাউকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ধানমন্ডি বত্রিশে হঠাৎ বুলডোজার, উত্তেজনা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বেলা বারটার দিকে এক দল মানুষ দুটি বুলডোজার নিয়ে ধানমন্ডি বত্রিশের কাছাকাছি হাজির হয়। একপর্যায়ে তারা বত্রিশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

দুপুর সাড়ে বারটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বত্রিশের সামনে অবস্থান নেন।

পরে বেলা একটার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভাঙার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত বিক্ষোভকারীরা আবারও সংগঠিত হন।

এরপর শেখ মুজিবের বাড়ির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া দেয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগেও দুপুর থেকে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, বেলা ১২টার দিকে একদল মানুষ দুটি বুলডোজার নিয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। তারা বলছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে ধানমন্ডির দিকে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানান, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এখানে আছেন।

বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হয়ে পরে মিরপুরে সড়কে অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে বত্রিশের প্রবেশমুখে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।

আদালতের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের অবস্থান
ছবির ক্যাপশান, আদালতের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের অবস্থান

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়

দুপুর সাড়ে বারটার পরে রায় পড়া শুরু হয়। যেটা শেষ হয় তিনটার দিকে। ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

একইভাবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিলো পাঁচটি।

এগুলোর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে দ্বিতীয় অভিযোগসহ মোট ৩টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় যুগান্তকারী:অ্যাটর্নি জেনারেল, ব্যথিত বললেন শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং হতাহতের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা।

আদালতের ভেতরে মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন, রায় ঘোষণার পর তারাও খুশিতে চিৎকার করে ওঠেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান তাদেরকে শান্ত থেকে আদালতের পরিবেশ রক্ষা করতে বলেন।

এদিকে, শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালতের বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা গণঅধিকার পরিষদ এবং মঞ্চ-২৪ এর নেতাকর্মীরাও মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে সাজা দিয়েছে সেটি আসামিরা যেদিন গ্রেফতার হবে সেদিন থেকে কার্যকর হবে।

তিনি বলেছেন, "মামলায় দুজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর একজন রাজস্বাক্ষী হওয়ায় সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে"।

তিনি জানান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।

"আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলায় যুগান্তরকারী রায় হয়েছে, যা প্রশান্তি আনবে ও বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে," বলেছেন তিনি।

"সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরাতে যত ধরনের পদক্ষেপ আছেন তা নেবেন বলে আশা করি," বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সময় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ আমির হোসাইন বলছেন, তিনি রায়ে কষ্ট পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ''আমি দুঃখিত, রায় ভিন্নরকম কিছু হতে পারতো।''

"আমি আসলে খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমার ক্লায়েন্ট সর্বোচ্চ সাজা পাচ্ছে, এ বিষয় তো আমাকে কষ্ট দেবেই," সাংবাদিকদের বলেন মি. হোসেন।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী জানান, শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ না করা কিংবা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ তার হাতে নেই।

এদিকে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবরে আনন্দ মিছিল বের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রায় ঘোষণার পর বিকেল সোয়া তিনটার দিকে মিছিলটি বের হয়।

এদিকে, রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদেরকেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নানান স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়কে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে বর্ণনা করেছেন শেখ হাসিনা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ট্রাইব্যুনালের রায়কে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে বর্ণনা করেছেন শেখ হাসিনা

রায় নিয়ে শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে "পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

রায়ের পর প্রকাশিত পাঁচ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিস্ক্রিয় করে দিতে" অন্তর্বর্তী সরকারের একটি পন্থা হচ্ছে 'তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া'।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এর আগে বিচারকে 'প্রহসন' বলে অভিহিত করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

তিনি বলেন, "এমন একটি ট্রাইব্যুনাল যেখানে ন্যায্যভাবে অভিযোগ যাচাই ও পরীক্ষা করা হয়, সেখানে অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাই না"।

তিনি আরও যোগ করেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এই অভিযোগগুলো হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যেতে।

হাসিনা উল্লেখ করেন, তিনি তার "মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত রেকর্ড নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত"।

আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়ার রায়টি ছিলো পূর্বনির্ধারিত।

"এটি বিচারের আগেই দেয়া রায়। এর সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত," বলেছেন তিনি।

মি, আরাফাত বলেছেন, "আজ ট্রাইব্যুনালে রায় দেওয়ার সময় যা দেখেছেন তা খুব সতর্কতার সাথে সাজানো ও সবার সামনে মঞ্চস্থ করা হয়েছিলো"।

সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

রায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদরে বলেন, শেখ হাসিনার যে বিচার হয়েছে তা অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি শুধু অতীতের বিচার নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা।

"এ বিচার অপরাধের তুলনায় যথষ্ট নয়। কিন্তু এটা শুধু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নয়, সামনের দিনের জন্য উদাহরণ। যাতে কেউ আর ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র না হয়, কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট না হয়ে ওঠে," তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

মি. আহমদ বলেছেন, "আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি জিনিস প্রমাণিত হয়েছে, আর তা হলো- ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শুক্তিশালী হোক বা যত দীর্ঘদিন ক্ষমতা ভোগ করুক, একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে"।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার ছিলো 'ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার' আর আজকের বিচার হলো যথার্থ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত একটি বিচার।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, একজন সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ শাস্তি দেশের ইতিহাসে প্রথম এবং এ কারণে এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

"বিচারকদের রায়ে ফুটে উঠেছে যে অপরাধীরা কি পরিমাণ নিষ্ঠুর ঘৃণ্য প্রতিহিংসামূলক অপরাধ করেছে। আমরা মনে করি বিচারের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বিচার স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে," বলেছেন মি. পরওয়ার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আইনের শাসন ও বিচারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

"এদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্খা ছিলো ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দৃশ্যমান করার। আংশিক হলেও ট্রাইব্যুনালের রায়ে জাতির আশা কিছুটা পূর্ণ হয়েছে," বলেছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেখ হাসিনাকে আবার ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সরকারের কাছে আবারও চিঠি পাঠাবে বাংলাদেশ।

দুই প্রক্রিয়ায় এই চিঠি পাঠানো হবে বলে সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

"তাদেরকে, তাকে ফেরত আনতে হবে, যেহেতু শাস্তি দিয়েছে কোর্ট এবং সেজন্য আমরা ভারতকে অফিসিয়ালি জানাবো।"

"চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া হলো দু'টো। একটি অফিসিয়াল নোটের মাধ্যমে যাবে। সেটা স্থানীয়ভাবেও তাদের মিশনকে হ্যান্ডওভার করা যায়, অথবা আমাদের মিশন তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে হ্যান্ডওভার করতে পারে। আমরা দু'টাই করতে পারি," বলেন মি. হোসেন।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রেস বিবৃতিতে বলেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ''আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে''।

তবে সোমবার সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ের যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, ভারত সেটি লক্ষ্য করেছে।

"একজন কাছের প্রতিবেশি হিসেবে, বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভূক্তি এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ভারত কাজ করবে। এ লক্ষ্য আমরা সবসময়, সব ধরনের অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে যাবো।"