'ফ্যালকন স্ট্রাইক ফোর্স' কী এবং কেন মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলার জন্য জোট গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্টর ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার খবর যখন সামনে আসছে, সেই সময় ড্রোন হামলায় নতুন একটি বহুজাতিক বাহিনী বা ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।

তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই বাহিনীতে আকাশে, পানির ওপর এবং পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি মার্কিন বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে গঠন করা হবে।

১৩ই অগাস্ট সেন্টকম ঘোষণা করে যে তারা 'ফ্যালকন স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এই বাহিনীতে যোগদানের জন্য অঞ্চলটির দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর কাজ চলছে। তবে তারা কোনো দেশ বা সম্ভাব্য অংশীদারের নাম প্রকাশ করেনি।

সেন্টকমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বাহিনীতে আকাশে, পানির পৃষ্ঠে এবং পানির নিচে পরিচালিত একবার ব্যবহারযোগ্য মানববিহীন আক্রমণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলটির দেশগুলোর সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হবে। বাহিনীর কমান্ড কাঠামো ও কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বও সেন্টকমের স্পেশাল অপারেশনসের সেন্ট্রাল কমান্ডকে দেওয়া হয়েছে।

সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দূরপাল্লার গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

যদিও পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ এখনো রয়েছে।

একই সঙ্গে, ইরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থায়ী ঘাঁটি ও অবকাঠামোর দুর্বলতাও উন্মোচন করেছে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক স্টেসি পেটিজন বিবিসি ফার্সিকে বলেন, ড্রোন দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করা সহজ করে তুলেছে। অর্থাৎ, সেনা বা উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর কাছে না নিয়ে দূর থেকে হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে "সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।"

পেটিজনের মতে, সস্তা এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এমন ব্যবস্থাগুলো "আক্রমণকারীর পক্ষে ভারসাম্য বদলে দিয়েছে", কারণ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা অনেক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ব্যয়বহুল এবং সংখ্যায় সীমিত।

সেন্টকমের নতুন পরিকল্পনাকে এই সমস্যার আংশিক সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, উন্নত ও ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান এবং জাহাজের অস্ত্রভাণ্ডারের সঙ্গে আরও বেশি সস্তা আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা যুক্ত করার একটি চেষ্টা এটি।

স্করপিও থেকে ফ্যালকন

আঞ্চলিক বাহিনীর সঙ্গে মানববিহীন ব্যবস্থা মোতায়েনের ক্ষেত্রে 'ফ্যালকন স্ট্রাইক' সেন্টকমের প্রথম উদ্যোগ নয়।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন নৌবাহিনী বাহরাইনে টাস্ক ফোর্স ৫৯ গঠন করে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ড্রোন (মানববিহীন ভাসমান যান) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি থেকে বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ খাল পর্যন্ত অঞ্চলের জলসীমা পর্যবেক্ষণ করা।

মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ইউনিটটি ২৩টিরও বেশি ধরনের মানববিহীন ব্যবস্থা পরীক্ষা বা পরিচালনা করেছিল। বাহিনীটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে নজরদারির বাইরে বিস্তৃত হয় এবং ২০২৩ সালের এক মহড়ায় তারা একটি মানববিহীন ব্যবস্থা থেকে সরাসরি গোলাবারুদ নিক্ষেপের পরীক্ষা চালায়।

ওই বছরের অগাস্টে পেন্টাগন 'রেপ্লিকেটর' কর্মসূচি চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে তুলনামূলক সস্তা এবং 'প্রতিস্থাপনযোগ্য' স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সশস্ত্র বাহিনীতে হাজারে হাজারে অন্তর্ভুক্ত করা। এগুলো এমন সরঞ্জাম, যেগুলো হারিয়ে গেলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিমান বা ব্যবস্থার মতো যুদ্ধক্ষমতার বড় ক্ষতি হবে না।

এই নীতি ২০২৫ সালে 'ড্রোন সুপ্রিমেসি' কর্মসূচির মাধ্যমে অব্যাহত থাকে। গত ডিসেম্বরে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ ঘোষণা করে যে তারা দুই বছরে প্রায় তিন লাখ ৪০ হাজার ছোট মানববিহীন আকাশযান উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।

একই সময়ে সেন্টকম 'স্করপিয়ন স্ট্রাইক ফোর্স' গঠন করে, যাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম একক আঘাত হানতে সক্ষম একনিষ্ঠ ড্রোন বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় দুই মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির স্টেসি পেটিজনও এই অসামঞ্জস্যকে নতুন মার্কিন ড্রোন বাহিনী গঠনের প্রচেষ্টার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেন।

তিনি বিবিসি ফার্সিকে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতে কম খরচের ড্রোন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, অথচ সেগুলো মোকাবিলার অনেক বিদ্যমান ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং সংখ্যায় সীমিত।

পেটিজনের মতে, ছোট আকারের ব্যবস্থাগুলো অনেক বেশি সংখ্যায় মোতায়েন করা যায় এবং ধ্বংস হলেও তার ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সহজে সহ্য করা যায়।

লুকাস ব্যবস্থা এক নজরে

  • স্বল্প ব্যয়ের মানববিহীন যুদ্ধ আক্রমণ ব্যবস্থা
  • প্রতিটি উড়োজাহাজের মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ডলারের মতো
  • ভূপৃষ্ট, যানবাহন অথবা জাহাজের ডেক থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়
  • এটি 'স্করপিয়ন স্ট্রাইক ফোর্স'-এ ব্যবহার করা হয়েছিল
  • সেন্টকম বলছে, ইরান যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়েছে
  • এর নকশা ইরানের শাহেদ ড্রোন দ্বারা প্রভাবিত বলে জানা যায়

৩৫ হাজার ডলারের 'লুকাস'

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ড্রোন কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিচিত ব্যবস্থা হলো লুকাস বা লো-কস্ট আনম্যানড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম।

২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে রয়টার্স জানিয়েছিল, এই ড্রোনের নকশা, যার মূল্য সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতি ইউনিট প্রায় ৩৫ হাজার ডলারের মতো, এটি ইরানের শাহেদ ড্রোন দ্বারা প্রভাবিত।

লুকাসকে মাটি, যানবাহন অথবা জাহাজের ডেক থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। সেন্টকম বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরিতে এই ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের জুনে, মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূলে বিধ্বস্ত হওয়া একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে উদ্ধারে একটি করসেয়ার হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। সে সময় সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, "যানটি তাদের তুলে নিয়ে পানির ওপর অন্য একটি স্থানে পৌঁছে দেয়, সেখান থেকে যাত্রাপথের বাকি অংশের জন্য তাদের একটি হেলিকপ্টারে তোলা হয়।"

এক মাস পরে সেন্টকম ঘোষণা করে যে তিনটি করসেয়ার বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটির জাহাজ ও সাবমেরিন মেরামত স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে। তারা এই অভিযানকে আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রথম মার্কিন যুদ্ধকালীন ব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করে।

বড় ঘাঁটি, বড় লক্ষ্যবস্তু

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মূলত কয়েকটি বড় ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলে মার্কিন বিমান অভিযানের প্রধান কেন্দ্র। পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি বাহরাইনে এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান মার্কিন স্থলবাহিনীর অন্যতম প্রধান সহায়তা কেন্দ্র।

কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটি ইরান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দূরে এবং কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস বলছে, ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি ব্যবস্থা সুবিধাজনক ছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লা এবং নির্ভুলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও স্থায়ী ঘাঁটিগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্টেসি পেটিজন বিবিসি ফার্সিকে বলেন, ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে "স্থায়ী ঘাঁটি এবং বড় আকারের বিমান ও জাহাজ ঝুঁকিপূর্ণ।"

মাটি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ড্রোন, নৌযান এবং পানির নিচে মানববিহীন ব্যবস্থাসহ ছোট ও ছড়িয়ে থাকা বাহিনী শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন। আর সেগুলো ধ্বংস হলেও কম খরচের কারণে ক্ষতি সামাল দেওয়া সহজ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই অঞ্চলে তাদের "শান্তিকালীন ব্যবস্থা" পুনর্বিবেচনা করছে। "পারস্য উপসাগরের ঘাঁটিগুলোর ইরানের নিকটবর্তী অবস্থান বিবেচনায়, আমি মনে করি না যে এই ঘাঁটিগুলোতে মানবচালিত বিমান ও জাহাজ মোতায়েন আগের মতো অব্যাহত থাকবে।"

এই প্রেক্ষাপটে ফ্যালকন স্ট্রাইক পরিকল্পনার সম্ভাব্য একটি সুবিধা হলো, কয়েকটি বড় ও স্থায়ী ঘাঁটি এবং প্ল্যাটফর্মের ওপর মার্কিন আক্রমণক্ষমতার নির্ভরতা কমানো। ড্রোন এবং মানববিহীন নৌযান বিভিন্ন স্থান ও প্ল্যাটফর্ম থেকে মোতায়েন করা যেতে পারে।

তবে পেটিজন জোর দিয়ে বলেন, এর কোনো নিখুঁত সমাধান নেই। তার মতে, সস্তা ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা, স্থাপনার সুরক্ষা জোরদার এবং প্রতিরূপ ও ছলনামূলক উপকরণের ব্যবহার ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু কিছু ঝুঁকি থেকেই যাবে।

কাগজে 'বহুজাতিক', বাস্তবে বড় পরীক্ষা

সম্ভবত ফ্যালকন স্ট্রাইক ফোর্স পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে কঠিন দিক ড্রোন সংগ্রহ নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোকে প্রকাশ্যে একটি যৌথ আক্রমণাত্মক বাহিনীতে অংশ নিতে রাজি করানো।

সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির স্টেসি পেটিজন বলেন, বিভিন্ন বাহিনী ও দক্ষতার সম্পৃক্ততার কারণে বহু-মাত্রিক অভিযান জটিল হয়ে ওঠে। বহুজাতিক কাঠামো রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৃহত্তর সক্ষমতা তৈরি করতে পারে, তবে এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কমিয়ে দেয় এবং তথ্য বিনিময়, ঐকমত্য গঠন ও সরঞ্জামের সামঞ্জস্য নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে।

তার মতে, বাহিনীকে বহুজাতিক করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রেরণা সম্ভবত "রাজনৈতিক এবং ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত।"

উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েন, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনীর স্বাগতিক দেশগুলোর বিমানবন্দর, বন্দর ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ততা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে, অন্তত আনুষ্ঠানিক এবং প্রকাশ্যভাবে।

ইরানের কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশগ্রহণ, এমনকি সুবিধা ও ঘাঁটি সরবরাহেরও একই পরিণতি হবে। তাই কিছু দেশ হয়তো শুধু প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নজরদারি বা অবকাঠামো প্রতিরক্ষায় অংশ নেবে, কিন্তু ফ্যালকন টাস্ক ফোর্সের কাঠামোর মধ্যে আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবে।

অন্যরা প্রকাশ্য সদস্যপদের পরিবর্তে গোপন গোয়েন্দা সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে।

এ পর্যন্ত যা ঘোষণা করা হয়েছে, তা একটি ড্রোন বাহিনী গঠনের ঘোষণা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র যে পথে এগোতে চায় তা তুলে ধরে যার মধ্যে রয়েছে– সীমিত সংখ্যক ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো, বাহিনীকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করা।

এই পরিকল্পনাকে কার্যকর বাহিনীতে রূপ দিতে প্রয়োজন হবে শিল্প উৎপাদন, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং যুদ্ধের অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্তার রোধের একটি ব্যবস্থা।