আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সরকারের নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হলো। নতুন করে যুক্ত হলেন তিনজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে একজনকে করা হয়েছে পূর্ণমন্ত্রী।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন।
নতুন সদস্য হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় যুক্ত হয়েছেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি এর চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।
আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এছাড়া নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
যদিও মন্ত্রিসভার নতুন এই সদস্যদের কে, কোন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির মন্ত্রিসভায় এতদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আরও পাঁচ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন যারা শপথ নিলেন, তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়া ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি অতীতে মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কেউ কেউ।
আব্দুল মঈন খান
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী- ২ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন দলটির সিনিয়র এই নেতা। এছাড়া স্পিকার পদের জন্যও আলোচনায় এসেছিল তার নাম।
পরে অবশ্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয় আবদুল মঈন খানকে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ সংসদীয় আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যখন সরকার গঠন করেছিল, তখনও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মি. খান। ২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন মি. খান।
তার বাবা আব্দুল মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন। তিনিও সাবেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
ভোলা- ১ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মি. পার্থ। এই নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল অংশ নেয়।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনেরও অংশ হয়েছিল মি. পার্থের দল।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আন্দালিভ রহমান পার্থের বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন।
মি. পার্থ আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আইনজীবী হিসেবে কাজের পাশাপাশি ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মি. পার্থ।
ওই সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি।
সাচিং প্রু জেরী
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিরও সদস্য তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন মি. জেরী।
১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বান্দরবান থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এছাড়া বিএনপির হয়ে এই আসনে পরবর্তীতেও একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর, ওই পদে আর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, সাচিং প্রু জেরী ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
এম. রশিদুজ্জমান মিল্লাত
নতুন করে যে চারজন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাদের একজন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জামালপুর-১ আসনের এই সংসদ সদস্য।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মি. মিল্লাত। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী
সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
পেশায় ব্যবসায়ী শামীম কায়সার লিংকন, তার পিতার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনেও গাইবান্ধা-৪ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।